Home / ফিচার / পরামর্শ / আইকিউ বাড়াতে হলে
আইকিউ বাড়াতে হলে

আইকিউ বাড়াতে হলে

বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ ঐশ্বরিক দান হলেও সচেতনতা, অভিজ্ঞতা, সাবধানতা, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান ও চর্চার মাধম্যে এই বিশেষ গুণটির প্রস্ফুটন সম্ভব। নির্দিষ্ট কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে আপনিও কৌশল অবলম্বন করলে আপনিও এই বিশেষ গুণটির অধিকারী হতে পারবেন সহজেই। লিখেছেন- নিলয় মাহমুদ

আইকিউ হচ্ছে একটি নম্বর, বুদ্ধিমত্তার পরিমাপক হিসেবে বিভিন্ন পরীক্ষণের মাধ্যমে এটি বের করা হয়। ১৯১২ সালে মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম স্টের্ম শিশুদের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করার জন্য প্রথমবারের মতো এই বিশেষ পদ্ধতির কথা বলেন। পরবর্তীতে মনোবিজ্ঞানী আলফেড বিনেট ও থিওডর সিমেন এটিকে বর্তমান রূপ দেন এবং আইকিউ পরিমাপের জন্য বেশ কিছু বিজ্ঞানসম্মত পন্থা আবিস্কার করেন।

তবে আইকিউ কিছুটা জন্মগত বা অন্তস্থ গুণ হলেও সময়, বয়স এবং স্থানভেদে আইকিউতে পরিবর্তন আসতে পারে। একইভাবে আইকিউ নির্ণয়ে বিভিন্ন গাঠনিক প্রশ্ন এবং আরও কিছু পদ্ধতির চর্চা করলে আইকিউ বৃদ্ধি পেতেও পারে। শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন সুস্থ খাবার প্রয়োজন ঠিক তেমনি মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন মস্তিষ্কের নিয়মিত অনুশীলন।

চাই সুস্থ শরীর

ব্যায়াম শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিবর্তন নিয়ে আসে। পুরো শরীরের রক্ত সঞ্চালন করে মস্তিষ্ককে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলে ফলে চিন্তাশক্তি নিখুঁত হয়। অনেকে মনে করেন ব্যায়াম করার চেয়ে কাজ করা ভালো। কিন্তু আপনি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করলে আপনার শরীর এবং মন সতেজ হবে, সেই সাথে আপনার ভেতর নতুন শক্তি তৈরি হবে। ফলে আপনি আগের তুলনায় দক্ষতার সাথে অধিক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

পর্যাপ্ত ঘুম

দীর্ঘ সময় কাজ করার পর যন্ত্র যেমন বন্ধ করা হয় বিশ্রাম দেওয়ার জন্য তেমনি মানুষেরও বিশ্রাম প্রয়োজন। মন এবং শরীরের বিশ্রামের জন্য মানুষকে প্রতিদিন ঘুমানোর ক্ষেত্রে কত সময় ঘুমিয়েছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কতাটা ভালোভাবে ঘুমিয়েছেন তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কতটা ভালোভাবে ঘুমিয়েছেন। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং সকালের প্রথম প্রহরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করুন। ঘুমানোর পরিবেশটা আরামদায়ক রাখুন। দৈনিক আট ঘন্টার বেশি কখনও ঘুমাবেন না।

খাদ্যাভাসও জরুরি

বুদ্ধিমত্তা ক্ষুরধার করতে খাদ্যাভাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনুন। গুরুপাক খাবারের তুলনায় টাটকা ফলমূল মস্তিষ্ককে সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোমল পানীয়, অধিক চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় আপনাকে সাময়িকভাবে সতেজ করে তুলবে। তবে নিয়মিত পান করলে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান। কোনো মিটিং-এ অংশগ্রহণের পূর্বে বা পূর্ণ চিন্তাশক্তি ব্যবহৃত হয় এমন কোনো কাজের পূর্বে ময়দা, মিষ্টি, আলু এবং অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার পরিহার করুন।

খাদ্য সচেতনতা আপনার শরীর ভালো রাখবে এবং মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে।

বিনোদন

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সংবাদপত্র, সাময়িকী, রেডিও, প্রযুক্তির সাথে পরিচিত থাকতে হবে। সেই সূত্রে সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে টেলিভিশন দেখতে হবে। তবে তা অবশ্যই পরিমিত মাত্রায়। টেলিভিশন দেখার মূল সমস্যা হচ্ছে, এটা মানসিক প্রক্রিয়াকে একটি বিশেষ ক্ষেত্রে স্থবির করে দেয়। সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়, চিন্তা শক্তি হ্রাস করে। এমনকি চোখের জন্যও অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখা ক্ষতিকর বিনোদনের জন্য বই পড়া, গান শোনা বা আড্ডা ভালো ফল দিবে।

লক্ষ্য করুন

  • মাছ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। মাছ, ফলমূল মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এমন খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তারিকায় রাখুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • সুডোকু, শব্দজট ইত্যাদির সমাধান করুন।
  • বুদ্ধির খেলা যেমনঃ পাশা, দাবা খেলুন।
  • গাণিতিক সমস্যা সমাধান করুন।
  • ছোট ছোট সমস্যার দ্রুত সমাধানের চর্চা করুন।
  • এটা কেন হলো? কীভাবে হলো?-সব বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু হোন।

তবে জ্ঞান আহরণের জন্য বই এর বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বই নির্বাচনের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। থ্রিলারধর্মী বইগুলো আপনাকে কয়েক ঘণ্টা রোমাঞ্চকর, শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতিতে আটকে রাখলেও তা মানসিক উদ্দীপনা সৃষ্টিতে ততটা সহযোগী ভূমিকা রাখবে না। এক্ষেত্রে খ্যাতনামা লেখকদের বইগুলো পড়তে পারেন। তাদের চিন্তা, চেতনার সাথে নিজের চিন্তা ও অভিমতের তুলনা করলে চিন্তাশক্তি আরও বেশি পরিপক্ক হবে।

নিজেকে সময় দিন

দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় নিজের জন্য রাখুন। এই সময়ে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাকে সংগঠিত করুন। দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করুন। অতঃপর আপনি বুঝতে পারবেন কোনটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনটি নয় এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন। এতে করে আপনি সঠিক সময়ে  সঠিক কাজ করতে পারবেন। এর ফলে চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা আরও বেশি শাণিত হবে।

আইকিউ ব্যক্তির মানসিক স্থিতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুতরাং পেশাজবিন কিংবা একাডিমিক উভয় ক্ষেত্রেই আইকিউ গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিমত্তার চর্চা যেমন আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে তেমনি  আরও বেশি দক্ষ হতে সাহায্য করবে।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ – ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া যতটা সহজ, এইচএসসিতে ততটা সহজ নয়। তাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *