Home / হাতে কলমে / আদবকেতা / ইন্টারনেটে চ্যাটিং কি করবেন কি করবেন না
ইন্টারনেটে চ্যাটিং কি করবেন কি করবেন না

ইন্টারনেটে চ্যাটিং কি করবেন কি করবেন না

বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি এখন ছেলে-বুড়ো সবাই ব্যবহার করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কছে মোবাইলের পরেই রয়েছে কম্পিউটারের গ্রহণযোগ্যতা। কম্পিউটার ছাড়া যেন আর চলছেই না। কর্মজীবনের জন্য যে কোনো তথ্য, পড়াশোনা কিংবা শুধুমাত্র বন্ধুত্বের প্রয়োজনে হলেও মানুষ এখন ইন্টারনেট চ্যাটিং করছে। কেউ নিছক মজার উদ্দেশ্যে, কেউ বা আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে, কেউ আবার দেশে-বিদেশে বন্ধু খুঁজে বেড়াতে প্রতিদিন ইন্টারনেটে চ্যাটিং করেছেন। এখন মোবাইলে ইন্টারনেট এর ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে। ইন্টারনেটে চ্যাটিং করতে গিয়ে অনেকে যেমন সম্পর্ক তৈরি করে লাভবান হয়েছেন আবার অনেকে হয়েছেন প্রতারিত। অথচ কিছু বিষয়ে সচেতন হলে ইন্টারনেট চ্যাটিং-এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে তুলে ধরতে পারেন একজন রুচিশীল ব্যক্তি হিসেবে; খুঁজে নিতে পারেন ভালো বন্ধু, অংশগ্রহণ করতে পারেন একটি প্রাণবন্ত আড্ডায়। এজন্য আপনার যেমন আধুনিক হতে হবে তেমনি হতে হবে উন্নত মানসিকতার অধিকারী। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, ইন্টারনেট চ্যাটিং-এ আমরা অনেক সময় এমন কিছু করি যা করা ঠিক নয়। বিষয়গুলো অনেক সময় আমরা না জেনেও করি। আবার জানলেও অনেক সময় বিষয়টি এড়িয়ে যাই। ফলে সমস্যায় পড়তে পারে অপর প্রান্তের যে কেউ। সুতরাং চলুন জেনে নেই চ্যাটিং করার ম্যানার্স।

যা করবেন

  • চ্যাটিং-এর শুরুতে হাই, হ্যালো দিয়ে শুরু করুন। অপর প্রান্তে যিনি আছেন তার কুশল জানুন।
  • যদি আপনি নির্দিষ্ট বয়স কাঠামো বা স্থানের মানুষের সাথে চ্যাট করতে চান সেক্ষেত্রে বয়স, লিঙ্গ এবং স্থান জেনে নিন।
  • আপনার বেলায়ও একইভাবে সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
  • আপনি তার সাথে চ্যাট করতে না চাইলে স্যরি লিখুন।
  • শুধু আড্ডা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চ্যাট করতে চাইলে সমসাময়িক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করাই ভালো।
  • আলোচলার ক্ষেত্রে দ্রুত আপনার মতামত পাঠিয়ে দিন। কেননা, বেশি সময় নিয়ে উত্তর দিলে অপর পক্ষের আগ্রহ থাকবে না।
  • বন্ধুত্ব করতে চাইলে তার নাম, পেশা, কোথায় থাকে, শখ ইত্যাদি বিষয় জেনে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিন।
  • আপনার গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে এমন তথ্য ব্যতীত সঠিক তথ্য দিন এবং কৌশলে সে কতটুকু সঠিক তথ্য দিচ্ছে জেনে নিন।
  • কোনো বিষয় এড়িয়ে যেতে চাইলে সরাসরি না বলুন।
  • অপর পক্ষকে সম্মান দিয়ে চ্যাটিং  চালিয়ে যান।
  • আপনার মতামত, প্রশ্ন,উত্তর দেওয়ার সময় স্মার্ট থাকুন। যাতে আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে।

 

যা করবেন না

  • কখনওই রুচিহীন কোনো মন্তব্য করবেন না।
  • মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে প্রতারণা করবেন না।
  • কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি আপনার সাথে চ্যাট করতে না চাইলে বারবার বিরক্ত করবেন না।
  • অপর প্রান্তের ব্যক্তি সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে সিরিয়াস কোনো বিষয় শেয়ার করবেন না।
  • চ্যাটিং এর মাধ্যমে গভীর সম্পর্কে যাবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে আপনি মুখোমুখি না দেখে থাকেন।
  • আড্ডা দেওয়াল সময় রুচিহীন কোনো বিষয়ের অবতারণা করবেন না।
  • অপরপক্ষ কোনো বিষয়ে জানতে না চাইলে জোর করবেন না।
  • কেউ অরুচিকর মতামত বা উত্তর প্রদান করলে তাকে এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে তার সঙ্গে চ্যাটিং বন্ধ রাখবেন।
  • উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে এবং সে অনুযায়ী চ্যাটিং করলে একজন ভালো বন্ধু হিসেবে আপনি নিজেকে সবার মাঝে উপস্থাপন করতে পারবেন। অনেকে মনে করেন, মজা করার জন্য অবান্তর বিষয়ববস্তু কিংবা মিথ্যা বললেও সমস্যা নেই। কিন্তু আসলে এটি ঠিক নয়। নিছক মজা করার জন্য মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই। বরং সত্য কথা বলেও অনেক বিষয় নিয়ে মজা করা যায়। বন্ধুত্বের জন্য এটাই জরুরি।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা

চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা

কর্মক্ষেত্রে কাজে যোগ দেয়ার সময় যেমন মানতে হয় কিছু নিয়ম তেমনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *