Home / কেরিয়ার / কেরিয়ার কাউন্সেলিং / ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ক্যারিয়ার | মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ( ২য় পর্ব )
ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ক্যারিয়ার মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ২য় পর্ব

ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ক্যারিয়ার | মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ( ২য় পর্ব )

স্টার হওয়ার প্রতি মানুষের একটা অদম্য আকর্ষণ রয়েছে। মুখে অস্বীকার করলেও মনের মধ্যে হয়তো আমরা অবচেতনভাবেই এ আগ্রহটা পোষণ করি।

বিশেষত ভিজ্যুয়াল মিডিয়া হওয়াতে এক্ষেত্রে মানুষের কাছে পরিচিতি পাওয়া যায় খুব সহজেই। তাই হয়তো এ প্রজন্মের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি আগ্রহটা একটু বেশি। একটা গল্প শুনেছিলাম। সেটা কিছুটা এরকম-

একুশে টিভির অডিশন চলছে, বিশাল লাইন। এক লোক স্ত্রীকে নিয়ে গেছেন অডিশন দেবেন বলে। স্ত্রী লাইনে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে। লোকটি এগিয়ে গিয়ে ভবনের দারোয়ানকে বলল, ভাই আপনাদের লিফট কী নষ্ট? দারোয়ান বলল, ৩য় তলায় উঠতে লিফট লাগবে কেন? তখন লোকটি বলল, ভাই আমার জন্য নয়, আমার স্ত্রীর জন্য। এ কথা শুনে দারোয়ান কিছুটা আশ্চর্যের দৃষ্টিতে তাকাল। লোকটি তখন বলল, তার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট। তাহলে বুঝে নিন পেশা হিসেবে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আবেদন আজ কতখানি!

টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে মূলত ৩টি বিভাগে কাজ চলে। এগুলো হলো –

১. ম্যানেজমেন্ট
২. প্রোগ্রাম বিভাগ
৩. নিউজ বিভিগ
ম্যানেজমেন্ট বিভাগ গতানুগতিক অন্যান্য বিভাগের মতো।

সংবাদ পাঠক/উপস্থাপকঃ

দর্শকের সামনে খবর উপস্থাপন করেন সংবাদ পাঠক বা উপস্থাপক। প্রতিবেদন শুরুর আগে প্রতিবেদনটি সম্পর্কে দর্শককে ধারণা দেওয়া, প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপিংয়ের সঙ্গে ধারা বর্ণনা দেওয়া এবং সরাসরি বিভিন্ন সংবাদ যোগানদাতার সাক্ষাতকার নেয়া তার প্রধান কাজ। অথাৎ দর্শকের সামনে পুরো বুলেটিনটি বুনে দেয়াই উপস্থাপকের কাজ। কোনো কোনো বুলেটিনে আলাদা বিষয় যেমন খেলাধুলা, আবহাওয়া, আলাদা আলাদা উপস্থাপক উপস্থাপন করেন, তাদের মধ্যে মিথিস্ক্রিয়া করতে হয় তাকেই।

প্রতিবেদকঃ

ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদর তৈরি করাই পতিবেদকের প্রধান কাজ। এজন্য তাদের খবরের বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে সোর্স তৈরি এবং খবর জন্ম দেয় এমন লোক ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়। এসব কাজের জন্য সংবাদ সংস্থা পরিবেশিত খবর, বিভিন্ন সাময়িকীসহ তথ্যের বিভিন্ন উৎস থেকেও তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে হয়। এরপর তারা চলমান ছবি ব্যবহার করে নিজের কন্ঠে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। কখনো কখনো তাদের ঘটনাস্থল থেকে কোনোরকম স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সংবাদ পরিবেশন করতে হয়। কোনো কোনো প্রতিবেদক সংবাদপাঠকের কাজও করে থাকেন।

নিউজরুম এডিটরঃ

নিউজরুম এডিটরদের কাজ প্রতিবেদকের মতোই। তবে বার্তা সম্পাদক বা এসাইনমেন্ট এডিটরকে সহায়তা করা নিউজরুম এডিটরদের মূল কাজ। বিদেশি খবরের জন্য তারা বিভিন্ন ফিড সার্ভিস থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিপ্ট অনুসরণে প্রতিবেদন তৈরি, এসব ফিড রেকর্ড এবং সংরক্ষণে সহায়তা করাও তাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত। কোনো প্রতিবেদক দেশের বাইরে থাকলে তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তার পাঠানো ছবি ও তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করাও নিউজরুম এডিটরদের দায়িত্ব।

ইন-টেক এডিটরঃ

বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি, প্রতিবেদনের বাইরে অন্যান্য উৎস থেকে আসা বিভিন্ন সংবাদ, ছবি সংগ্রহ এবং সেগুলো থেকে বুলেটিনে যাবার মতো সংবাদগুলো বাছাই করে থাকেন ইন-টেক এডিটর।তাছাড়া অন্যান্য চ্যানেলের সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে কোনো কিছু বাদ পড়লে তা এসাইনমেন্ট এডিটরের গোচরীভূত করাও তার কাজের আওতায় পড়ে। একজন ইনটেক এডিটর বার্তা কক্ষের কর্মকান্ডকে সহজ করে তোলেন। চ্যানেলগুলোতে এ পদে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

প্রধান বার্তা সম্পাদকঃ

বার্তা সম্পাদকদের মধ্যে সমন্বয় সাধন, বার্তাকক্ষের অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দেখাশোনা করা প্রধান বার্তা সম্পাদকের কাজ। সম্পাদকীয় নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সম্পাদকীয় নীতির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত দেওয়া তার দায়িত্ব।

বার্তা সম্পাদকঃ

বার্তাকক্ষের প্রধান সমন্বয়কারী হলেন বার্তা সম্পাদক। বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রতিবেদক, ক্যামেরাম্যান এবং অন্যান্যদের সমন্বয় করা, সম্প্রচারের জন্য তৈরি সংবাদের স্ক্রিপ্ট এবং সংবাদচিত্র অনুমোদন করা, সম্প্রচারের ক্রম (Run down বা Running order) তৈরি তার প্রধান দয়িত্ব। পূর্ব নির্ধারিত কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনার খোঁজ-খবর রাখা এবং ক্যামেরাম্যানকে এসাইনমেন্ট দেয়াও তার কাজ।

কোনো কোনো চ্যানেলে এসাইনমেন্ট এডিটর এবং প্ল্যানিং এডিটরের দায়িত্ব বার্তা সম্পাদককে পালন করতে হয়।

সংবাদ প্রযোজকঃ

পর্দার পেছনের সাংবাদিক হিসেবে প্রতিবেদনের জন্য ধারণ করা ছবি, গ্রাফিক এবং ঘটনা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য একত্রিত করা এবং সংবাদ বুলেটিনের জন্য বিভিন্ন প্রতিবেদনের সমন্বয় করাই প্রয়োজকের প্রধান কাজ। কখনো কখনো প্রতিবেদনের স্ক্রিপ্ট এবং সূচনা তাদেরকেই লিখতে হয়। সংবাদ প্রয়োজকরা সৃষ্টি করেন, সিদ্ধান্ত নেন এবং অনেক সময় ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হন। ফলে তাদের অবশ্যই টেলিভিশনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হতে হয়।

অনুষ্ঠান প্রযোজকঃ

এক্ষেত্রে তার কাজটি পরিচালকের মতো। টেলিভিশনে আমরা যে অনুষ্ঠানগুলো দেখে থাকি সেগুলো নির্মাণ করাই তাদের কাজ। দেশীয় সংস্কৃতি, দর্শকের রুচি, চিত্র সম্পাদনা, শব্দ নিয়ন্ত্রণ, স্ক্রিপ্ট ইত্যাদি বিষয়ে তার পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

চিত্রগ্রাহকঃ

প্রতিবেদন তৈরির জন্য ইলেকট্রনিক ক্যামেরায় ঘটনা, ঘটনাস্থল কিংবা সংশ্লিষ্ট ছবি বা ভিডিও চিত্র ধারনের কাজ করেন চিত্রগ্রাহক বা ক্যামেরাম্যান। কোনো কোনো স্টেশনে বার্তা বিভাগের জন্য আলাদা করে ক্যামেরাম্যান নির্দিষ্ট করা থাকে। তারা ইলেকট্রনিক নিউজ সংগ্রহের কজে নিয়োজিত থাকেন বলে তাদের ‘ইএনজি’ ক্যামেরাম্যান বলেও ডাকা হয়।

চিত্র সম্পাদকঃ

চিত্র সম্পাদকের কাজ হলো ধারণ করা ছবি ও শব্দ থেকে প্রয়োজনীয় অংশ বাছাই করে জোড়া লাগানো, যাতে ছবি দেখেই সংবাদের গুরুত্ব বোঝা যায়। এছাড়া প্রতিবেদনে গ্রাফিক সংযোজনও চিত্র সম্পাদনার অংশ। তাছাড়া ছবি এবং শব্দের মান সম্প্রচারের উপযোগী কি না সে বিষয়টির দেখভাল করাও চিত্র সম্পাদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সংবাদচিত্র সম্পাদনার ক্ষেত্রে দ্রুত নিখুঁত সম্পাদনা করতে পারার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেলিভিশনে অনুষ্ঠান নির্মাণের পর সেটির সম্পাদনার ক্ষেত্রেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

স্ক্রিপ্ট রাইটারঃ

টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলোর পান্ডুলিপি রচনা তার প্রধান দায়িত্ব। এক্ষেত্রে ভাষার উপর চমৎকার দখল থাকতে হবে। জানতে হবে বাক্য গঠন এবং শব্দের খেলা সম্পর্কে।

উপরে উল্লিখিত পদগুলো ছাড়াও কোনো কোনো স্টেশনে এডিটরকে সহায়তা করার জন্য এসাইনমেন্ট ডেস্ক এসিস্ট্যান্ট, প্রয়োজককে সহায়তা করার জন্য প্রযোজনা সহকারী, বিশেষ কোনো ইভেন্টের জন্য স্পেশাল প্রজেক্ট প্রডিউসার, উপস্থাপনা পরিচালক এবং ম্যানিজিং নিউজ এডিটর থাকেন।

 

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

ওয়েবেও রয়েছে ক্যারিয়ারের সুযোগ

ওয়েবেও রয়েছে ক্যারিয়ারের সুযোগ

বর্তমান বিশ্বে অনলাইন শপিং থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, গবেষণা, শেয়ার বাজার, বিমানের টিকিট, খবর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *