Home / বিদেশে পড়াশোনা / আধুনিক শিক্ষায় অগ্রসর দেশ কানাডায় উচ্চশিক্ষা
আধুনিক শিক্ষায় অগ্রসর দেশ কানাডায় উচ্চশিক্ষা

আধুনিক শিক্ষায় অগ্রসর দেশ কানাডায় উচ্চশিক্ষা

জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার আবারিত সুযোগের কারণে কানাডা বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে এক স্বপ্নের দেশ। এদেশে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খন্ডকালীন চাকরির সুযোগও রয়েছে। আরো রয়েছে পড়াশোনার শেষে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে কেরিয়ার গড়ার সুযোগ।

 

কানাডায় উচ্চশিক্ষা  সম্পর্কে

বিস্তারিত লিখেছেন, রাশেদুর রহমান রনি

উচ্চশিক্ষার জন্য উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত কানাডা বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে এক স্বপ্নের দেশ। কারন, পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও জীবন-যাপন সবদিক দিয়েই কানাডা বিশ্বের সেরা একটি দেশ। এটি একটি শীতপ্রধান নয়নাভিরাম বিচিত্র দেশ, বিরাট এর আয়তন, আর আয়তনের তুলনায় লোকসংখ্যাও খুবই কম। বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথমে কানাডার আবহাওয়ায় খাপ খাইয়ে নিতে একটু অসুবিধা হয়। বাংলাদেশের মতো কানাডার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। বলা যায়, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজসমূহ দেশজুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে আছে। কানাডার পরিসংখ্যান দপ্তরের মতে, এদেশের প্রত্যেকটি প্রদেশে কম করে হলেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এখানে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন শিক্ষামন্ত্রণালয় নেই। কানাডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুরো চলে একটি সংগঠনের নির্দেশনায়। AUCC (Association of Universities and College of Canada) নামের এই সংগঠনটি অবশ্য বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের দেয়া সনদ মেনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। এই সংগঠনের আওতায় বর্তমানে কানাডায় ৯৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এখানকার ডিগ্রিসমূহ বিশ্বমানের তো বটেই, আমেরিকা এবং কমনওয়েলথভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিরও সমতুল্য। তাছাড়া পড়াশোনা চলাকালে আপনি চেষ্টা করলে কানাডার নাগরিকত্বও পেয়ে যেতে পারেন পড়াশোনা শেষে এদেশেই কর্মসংস্থানের সুযোগও পেতে পারেন। তাই গত ৭/৮ বছর ধরে বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীরা কানাডায় বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে দেশ-বিদেশে উজ্জ্বল কেরিয়ার গড়ে তুলছেন।

 

শিক্ষাব্যবস্থা

কানাডায় একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলে ফুলটাইম অথবা পার্টটাইম পড়াশোনা করতে পারে। আন্ডার গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েট, ডক্টরাল, পিএইচডি কোর্স ছাড়াও এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে কো-অপারেটিভ এডুকেশন, ডিস্ট্যান্ট লার্ণিং, কন্টিনিউয়িং এডুকেশন এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মতো আরো অনেক কোর্স ও পদ্ধতি। রুম, ল্যাবের বাইরেও এখানে আপনি পাবেন শিক্ষার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওয়ার্কশপ ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ। বিষয়ভেদে কানাডায় আন্ডার গ্রাজুয়েট কোর্সের মেয়াদ ৩-৪ বছর, পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স ১-২ বছর এবং ডক্টরাল পর্যায়ে কোর্সের মেয়াদ হয় সাধারণত ৩ বছর।

 

যেসব বিষয়ে পড়তে যেতে পারেন

কম্পিউটার সায়েন্স, ফুড সায়েন্স, বায়োলজি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, কনস্ট্রাকশন এবং রিসোর্সেস, ইলেকট্রনিক্স, মেডিকেল সায়েন্স এন্ড সার্ভিসেস, মেরিন অ্যাফেয়ার্স, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট, এগ্রিকালচার ইকোনমিক্স, অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটার সায়েন্স, এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাসট্রোনমি, অ্যাপ্লায়েড জিওগ্রাফি, আর্কিটেকচারাল সায়েন্স, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এডুকেশন, হোম ইকোনমিক্স, মিউজিক, ইকোনমিক্স, ইতিহাস ও রিলিজিওন, ইংলিশ, থিয়েটার, ফিলোসফি, আইনসহ আন্ডার গ্রাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজারটি বিষয় এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট পর্যায়ে প্রায় তিন হাজারটি বিষয়ের মধ্য থেকে আপনি আপনার চাহিদা ও যোগ্যতানুযায়ী বিষয় বেছে নিতে পারেন।

 

পড়াশোনার ভাষা

কানাডায় প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ইংরেজি ও ফরাসি দু’টি ভাষাতেই পড়াশোনা করা যায়। আপনি কোন ভাষায় পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক সে ব্যাপারে আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করে নিতে হবে। আর যে ভাষায় আপনি পড়তে চান সেটার উপর যথেষ্ট দক্ষতাও থাকতে হবে। আপনি যদি ইংরেজিতে পড়তে চান তবে TOFEL –এ ন্যূনতম ৫৬০ স্কোর করতে হবে অথবা CAEL (Canadian Academy of English Language) –এ ন্যূনতম ৭০ স্কোর থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অবশ্য আলাদা হতে পারে। আর ফরাসি ভাষার ক্ষেত্রে TOFEL – এর মতো কোনো আন্তর্জাতিক পদ্ধতি না থাকায় আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ জোগ্যতা নিজস্ব ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

পড়াশোনার খরচ

কানাডায় বিভিন্ন প্রদেশে পড়াশোনার খরচ বিভিন্ন রকম। আবার পড়াশোনার খরচ আপনার পছন্দকৃত বিশ্ববিদ্যালয়, ফ্যাকাল্টি বা বিষয়ের ওপরও নির্ভর করে। সার্টিফিকেট/ডিপ্লোমা (প্রফেশনাল) কোর্সর জন্য সাধারণত প্রতি বছরে গড়ে ৪,০৬,০০০ টাকা থেকে ৫,৮০,০০০ টাকা লাগে। আর আন্ডার গ্রাজুয়েট (৩-৪ বছর মেয়াদি) কোর্সের টিউশন ফি বছরে প্রায় ৫,৮০,০০০ টাকা থেকে ৮,৭০,০০০ টাকা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (১-২ বছর মেয়াদি) কোর্সের টিউশন ফি বছরে প্রায় ৬,৯০,০০০ টাকা থেকে ১১,৬০,০০০ টাকা হয়।

 

থাকা খাওয়া ও অন্যান্য খরচ

কানাডায় জীবন-যাপন মোটামুটিভাবে ব্যায়বহুল। এখানে বিভিন্ন প্রদেশে খরচের কিছুটা তারতম্য থাকলেও সাধারনত একরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া মাসিক প্রায় ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ওয়ানওয়ে বাস ভাড়া প্রায় ১৬০ টাকা, লোকাল টেলিফোন কল ৩০/৪০ টাকা। এখানে দুপরে খেতে লাগে প্রায় ৪০০ টাকা এবং রাতে ৮০০ টাকা। সিনেমা ৪০০/৪৫০ টাকা।

 

কাজ করার সুযোগ

কানাডায় পড়াশোনা চলাকালে কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় আপনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই কাজ পেতে পারেন। আর ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ওয়ার্ক পারমিট পেতে হবে। সেক্ষেত্রে ক্লাসটাইমে নিয়োগকর্তা আপনাকে ছেড়ে দিতে রাজি থাকলেই কেবল কতৃপক্ষ আপনার নামে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কোন আপত্তি করবে না। তাই, যদি আপনি প্রবাসী বাংলাদেশী কারও সাহায্যে একজন ভালো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন তো খুবই ভালো হয়।

 

আবেদন ও ভর্তি প্রসেসিং

আপনি কানাডায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হলে প্রথমেই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে হবে। এমনকি কোন বিষয়ে পড়তে চান সেটাও ঠিক করতে হবে। তারপর নিশ্চিত হতে হবে, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ঐ বিষয়ে পড়াশোনার যোগ্যতা আপনার আছে কিনা। এক্ষেত্রে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ছাড়াও পছন্দকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট থেকে তথ্য নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি আন্ডার গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল কোর্সে ভর্তি হতে চান তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করতে হবে।

যদি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ভর্তি হতে চান তবে আপনাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিন বরাবর তথ্য ও পরামর্শ চেয়ে আবেদন করতে হবে। মনে রাখবেন, কানাডায় ভর্তির জন্য হাতে কিছুটা সময় রেখে আবেদন করতে হবে। কারন স্টাডি-পারমিট প্রসেসিং এর জন্য সাধারণত ১-২ মাস সময় লাগে। আর তাই ৭-৮ মাস আগেই আবেদনপত্র পৌছে যাওয়া উচিত। স্টাডি-পারমিট প্রসেসিং বাবদ আপনার খরচ হবে ৭,৩০০ টাকা থেকে ১৩,১০০ টাকা।

 

ভিসা প্রসেসিং

সব রকমের যোগাযোগ শেষে কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সকল কাগজপত্র পাওয়ার পরেও ভিসাপ্রাপ্তির সম্পূর্ণ দায়িত্ব শিক্ষার্থীর নিজেকেই বহন করতে হবে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের তেমন কিছুই করার নেই। আপনি যোগ্য না হলে, ভিসাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, আর্থিক স্বচ্ছলতার কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাসে যথাযথভাবে প্রদর্শন করে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রে কানাডার যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্যে স্টাডি-পারমিট লাগবে এবং স্টাডি পারমিট সংগ্রহ করার সাথে সাথেই আপনাকে ভিজিটর ডিমান্ড পেপার সংগ্রহ করতে হবে।

 

স্কলারশিপ

উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনার জন্য বড় অঙ্কের টিউশন ফি এর ব্যাপার নিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। ঘাবড়াবার কিছুই নেই, কানাডায় আপনার জন্য রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ। কানাডায় বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া আপনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বা ভর্তি হতে ইচ্ছুক সে বিশ্ববিদ্যালয়ের Financial Aid Office বরাবরও যোগাযোগ করতে পারেন।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা

আধুনিক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা, উচ্চশিক্ষার শীর্ষ মান, যুগোপযোগী বিষয়ে পড়াশোনার সুবিধার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *