Home / তথ্য বিচিত্রা / কী, কেন, কখন, কোথায় / ক্রো ম্যাগনন – আইয়ারস রক – প্রথম হাসপাতাল – কোয়ার্জ – জিগুরাট | কি কেন কখন কোথায় ১
ক্রো ম্যাগনন আইয়ারস রক প্রথম হাসপাতাল কোয়ার্জ জিগুরাট কি কেন কখন কোথায় ১

ক্রো ম্যাগনন – আইয়ারস রক – প্রথম হাসপাতাল – কোয়ার্জ – জিগুরাট | কি কেন কখন কোথায় ১

কাদের বলা হত ক্রো ম্যাগনন

ক্রো ম্যাগনন হচ্ছে আদিম মানুষ। প্রায় ৩৫ হাজার বছর আগে এরা ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকায় বসবাস করতো। ‘ক্রো ম্যাগনন নামটি দেয়া হয়েছে দক্ষিণ পূর্ব ফ্রান্সের যে গুহা থেকে তাদের হাড় ও নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল সেই গুহার নামানুসারে। ক্রো ম্যাগনন মানুষরা গুহায় থাকতো এবং গুহাভ্যন্তরে চিত্রকলা করত। এসব চিত্রকলার নমুনা ফ্রান্স ও স্পেনে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় এই আদিম জনগোষ্ঠী পশ্চিম এশিয়া থেকে ইউরোপে এসেছিলো। ১.৭ মিটার দীর্ঘ মানুষের কঙ্কাল দেখে মনে হয় তাদের শরীরের গঠন বর্তমান মানুষের মতই ছিল। ক্রো ম্যাগননরা ভাল পাথরের হাতিয়ার বানাতে পারত বলে প্রত্নতত্ত্ববিদরা অনুমান করেন। তবে এদের ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা ছিল না।

 

কখন প্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়

ইতিহাসের সাক্ষ্য প্রমান থেকে জানা যায় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩৭ অব্দে শ্রীলংকাতে হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যাবস্থা প্রচলিত ছিল। গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাবের প্রথম দিকে ভারতবর্ষেও বেশ কিছু চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছিল। মৌর্য সম্রাট অশোক খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে ১৮ টি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো অনেকাংশে আধুনিক হাসপাতালের মত ছিল বলে জানা যায়। খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাব চিকিৎসা ও সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে এই সেবা কেন্দ্রগুলো চার্চের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরুপে পরিগনিত হতে থাকে। ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পরে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠায় ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একাদশ শতাব্দির শেষের দিকে ইউরোপের ধর্মযুদ্ধের সময় চিকিৎসা সেবায় নতুন জোয়ার আসে। লুই পাস্তুর রোগজীবাণুর সূত্র আবিস্কার করেন, লর্ড লিস্টার তার গবেষণা কর্মকে বাস্তব কাজে রুপায়িত করেন আর ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল হাসপাতাল পূনর্গঠন এবং সেবিকাদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বলা যায় এই তিন উজ্জ্বল মনীষী আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পথিকৃত ছিলেন।

 

আইয়ারস রক কোথায়

আইয়ারস রক অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি ছোট পাথরের পাহাড়। ১৮৭৬ সালে ডব্লিউ জি গোসে (W.G Goose) নামক একজন ইংরেজ পরিব্রাজক এই পাথরের পাহাড়টি আবিস্কার করেন। ঐ সময় দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হেনরী আইয়ার। তারই নামানুসারে এই পাহাড়টির নাম আইয়ারস রক রাখা হয়। পাহাড়টির বিশেষত্ব হল, সকাল থেকে সন্ধ্য পর্যন্ত পাহাড়টি হলদে, কমলা, লাল, বেগুনি এমনকি কালো রংও ধারণ করে। তবে যাদু কিংবা অলৌকিক কোন শক্তির কারণে এমনটা ঘটে তা কিন্তু নয়। পাহাড়টির গঠন এমনই যে, আবহাওয়া কিংবা সূর্যটরশ্মির আপতন কোনের পরিবর্তনের সাথে সাথে এর রঙেরও পরিবর্তন ঘটে। স্থানীয় উপজাতিরা পাহাড়টির রং বদলকে ঈশ্বরের আবাসস্থল বলে মনে করে এবং পূজা করে। অস্ট্রেলীয় সরকার পাহাড়টির কাছে ৪৮৭ মাইল এলাকাজুড়ে ‘মাউন্ট ওলনা ন্যাশনাল পার্ক’ স্থাপন করায় এটি বর্তমানে একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

 

কোয়ার্জ কি

সিলিকন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত কোয়ার্জের নাম হল সিলিকা। এটি ইস্পাতের চেয়ে কঠিন এবং কাঁচের মত পরিস্কার। খাঁটি কোয়ার্জ একেবারে সাদা। খনিতে পিরামিডাকৃতির এক ধরণের কোয়ার্জ পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এগুলোকে পাথর স্ফটিক বলা হয়। তবে প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পাথরের অধিকাংশই কোয়ার্জ দিয়ে গঠিত। এছাড়া সমস্ত বালিতেই কোয়ার্জ থাকে। এমনকি আমাদের দেশের বেশিরভাগ মূল্যবান পাথরগুলিই কোয়ার্জ। কাঁচ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরিতে কোয়ার্জ ব্যবহৃত হয়। খাঁটি স্ফটিক কোয়ার্জ থেকে পাতলা অংশ কেটে নিয়ে রেডিওর যন্ত্রপাতি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। রেডিও স্টেশনগুলিকে তাদের সঠিক তরঙ্গ দৈর্ঘ্য রাখতে এটি ব্যাবহার করা হয়।

 

জিগুরাট কি

প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় আধিবাসীরা মধ্যপ্রাচ্যে প্রচুর পরিমাণে ধর্মীয় মন্দির তৈরি করেছিলো যেগুলো জিগুরাট নামে আখ্যায়িত হতো। ৪০০০ থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পিরামিডাকৃতির জিগুরাটগুলো তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। এগুলো ইট দিয়ে তৈরি কিন্তু পিরামিডের মতো এর ভেতরে ঢোকার কোন বিকল্প পথ ছিল না। তবে এর চুড়ায় ওঠার জন্য বাইরের দিকে সিড়ি বা ঢালু পথ থাকতো। কিন্তু কিছু জিগুরাটে এই ব্যাবস্থাও ছিল না সেক্ষেত্রে মানুষ কিভাবে এর চুড়ায় উঠত সেই বিষয়টি ঐতিহাসিকদের কাছে আজও বিস্ময়। সবচেয়ে বড় জিগুরাটটি ছিল বর্গাকৃতির এবং এটি ১০০ মিটার চওড়া এবং ৫০ মিটার উচু। বেশিরভাগ জিগুরাটগুলোর সর্বোচ্চ চূড়ার মধ্যে একটি বিশেষ কক্ষের মধ্যে আরাধ্য দেবতার জন্য প্রার্থনাবেদী নির্মাণ করা হত।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

রেলগাড়ি আবিষ্কার বিশ্বের বড় জাহাজ নেপলস খাজুরাহ কী কেন কখন কোথায় 8

রেলগাড়ি আবিষ্কার – বিশ্বের বড় জাহাজ – নেপলস – খাজুরাহ | কী কেন কখন কোথায় 8

খাজুরাহ কী? খাজুরাহ হলো ভারতের মধ্যযুগীয় মন্দির স্থাপত্য। দশম – একাদশ, শতকে ‘চান্দেলা’ রাজবংশের শাসনামলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *