Home / তথ্য বিচিত্রা / কী, কেন, কখন, কোথায় / লন্ডন টাওয়ার – বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ – আইনু – টেলিস্কোপ আবিষ্কার | কী কেন কখন কোথায় ৩
লন্ডন টাওয়ার বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ আইনু টেলিস্কোপ আবিষ্কার কী কেন কখন কোথায় ৩

লন্ডন টাওয়ার – বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ – আইনু – টেলিস্কোপ আবিষ্কার | কী কেন কখন কোথায় ৩

লন্ডন টাওয়ার কী?

লন্ডন টাওয়ার হলো একটি বিশাল অট্রালিকা, যার মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো দুর্গ আকৃতির প্রাসাদ। লন্ডনে অবস্থিত টাওয়ারটির বাইরের সারিত রয়েছে ৬টি টাওয়ার ও ২টি বুরুজ এবং ভিতরে রয়েছে ১৩টি টাওয়ার। এর মধ্যে ব্লাডি টাওয়ার, বিউটি ক্যাম্প টাওয়ার এবং ওয়েকফিল্ড টাওয়ার বিখ্যাত। ১৮ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই টাওয়ারটি প্রথমে ব্রিটিশ, পরে রোমান এবং স্যাক্সনদের দুর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দ্বাদশ শতকে উইলিয়াম দ্যা কুয়েরার লন্ডন শহরকে সুরক্ষার জন্য টাওয়ারটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এখানে রাজকীয় বন্দীদের রাখা হতো। অনেক ঐতিহাসিক নৃশংস ঘটনার সাক্ষী এই টাওয়ারটির প্রথম বন্দী ছিলেন র্যা লফ ফ্লেমবার্ড এবং শেষ বন্দী ছিলেন হিটলারের প্রতিনিধি রুডলফ হেস। এখানে মধ্যযুগ থেকে শুরু করে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রগুলো রাখা হয়েছে।

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথ কোনটি?

বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলপথের নাম কিং হাই-তিব্বত রেলপথ। ১,৯৭২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রেলপথটি নির্মাণ করা হয়েছে পৃথিবীর ছাদ নামে খ্যাত পামীর মালভূমির ওপরে। এটি চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকা গোলমাদাকে তিব্বতের রাজধানী লাসার সাথে সংযুক্ত করেছে। রেলপথটির ৯৬০ কিলোমিটারের অধিকাংশেরই অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ মিটার ওপরে। ২০০৬ সালের ১ জুলাই রেলপথটি উদ্বোধন করা হয়। ৩,৬৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত রেলপথটির স্টেশন রয়েছে ৭৪টি। এর কিং হুশোন টানেল (১৩৩৮ মিটার) বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ টানেল হিসেবে স্বীকৃত।

 

আইনু কাদের বলা হয়?

জাপানের আদিম জাতি আইনু নামে পরিচিত। বর্তমানে জাপানির উত্তরাঞ্চল, কিউরাইন দ্বীপপুঞ্জেও রাশিয়ার শাখালিন দ্বীপপুঞ্জেও আইনুদের বসবাস রয়েছে। জাপানে প্রায় ৭০ হাজার আইনু রয়েছে। তিব্বতী এবং রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য ও মঙ্গোলিয়ার আদিবাসীদের চেহারার সাথে আইনুদের সাদৃশ্য আছে। আইনু পুরুষরা দাড়ি রাখে এবং মেয়েরা ঠোঁটে বিশেষ ধরনের ট্যাটু আঁকে। এদের পোশাক পরিচ্ছদেও বৈচিত্র্যর রয়েছে। আইনুরা জড় পদার্থের উপাসন করে। প্রায় ১৩শ’ বছরের পুরনো আইনুদের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে সম্প্রতি জাপানের পার্লামেন্ট স্বীকৃতি দিয়েছে।

 

টেলিস্কোপ আবিষ্কার হলো কীভাবে?

বহুদূরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকে দেখার উপযোগী যন্ত্রকে বলা হয় টেলিস্কোপ। মিডলবার্গের হ্যান্স লিপার্শি ১৬০৮ সালে টেলিস্কোপ উদ্ভাবন করলেও এটিকে সার্থক রূপ দেন ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও। ১৬০৯ সালে লিপার্শির মডেলের উপর ভিত্তি করে তিনি টেলিস্কোপ তৈরি করেন এবং তার মুখটা ঘরিয়ে দেন গ্রহ নক্ষত্রের দিকে। তিনিই প্রথম মানুষ যিনি গ্রহনক্ষত্রগুলিকে শুধু আলোকবর্তিকা হিসেবে নয়, তাদের স্পষ্ট চেহারায় দেখেছিলেন। ১৬১০ সালে তিনি নিজের তৈরি টেলিস্কোপের সাহায্যে বৃহস্পতি গ্রহকে প্রদক্ষিণরত চারটি চন্দ্রকে দেখেন। ১৬৭০ সালে ইংরেজি বৈজ্ঞানিক স্যার আইজাক নিউটন রিফ্লেক্টিং টেলিস্কোপ তৈরি করেন। এই যন্ত্রটিতে একটি কনকেভ লেন্সের আয়নায় দূরের দর্শনীয় বস্তুটির প্রতিফলিত রূপ সাধারণ সমতল আই গ্লাসের উপর পড়তো। ফলে দূরবর্তী অস্পষ্ট জিনিসের ছবিও দেখা সম্ভব হতো। এই আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করেই ১৯৫৭ সালে ইংল্যান্ডের জর্ডেল ব্যাংকে তৈরি করা হয় রেডিও টেলিস্কোপ।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

রেলগাড়ি আবিষ্কার বিশ্বের বড় জাহাজ নেপলস খাজুরাহ কী কেন কখন কোথায় 8

রেলগাড়ি আবিষ্কার – বিশ্বের বড় জাহাজ – নেপলস – খাজুরাহ | কী কেন কখন কোথায় 8

খাজুরাহ কী? খাজুরাহ হলো ভারতের মধ্যযুগীয় মন্দির স্থাপত্য। দশম – একাদশ, শতকে ‘চান্দেলা’ রাজবংশের শাসনামলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *