Home / তথ্য বিচিত্রা / কী, কেন, কখন, কোথায় / চাকা আবিষ্কার, ভেনিস, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাংক, সাঁচী স্তূপ | কী কেন কখন কোথায় ৬
চাকা আবিষ্কার ভেনিস বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাংক সাঁচী স্তূপ

চাকা আবিষ্কার, ভেনিস, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাংক, সাঁচী স্তূপ | কী কেন কখন কোথায় ৬

চাকা আবিষ্কার হলো কীভাবে?

প্রাচীনকালে কুমোরের মৃৎপাত তৈরির প্রেক্ষিতে চাকা আবিষ্কৃত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫ সহস্রাব্দে মেসোপটেমিয়ায় প্রথম চাকার ব্যবহার প্রচলিত ছিল বলে ধারণা করা হয়। ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়াতে চাকার প্রচলন হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ সহস্রাব্দে। তবে যান্ত্রিক কাজে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে মিশরে। গাছের গুঁড়ি বা কাঠ দিয়ে সে সময় চাকা তৈরি করা হতো। কিন্তু ওজনে ভারি হওয়ায় সেগুলো সহজে বহনযোগ্য ছিল না। ব্রোঞ্জ যুগের শুরুতে তামা গলিয়ে হালকা চাকা তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। ১৮০২ সালে জি এফ বুয়র স্টীলের চাকায় স্পোক সংযুক্ত করেন। চাকা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণার পরে ১৮৮৮ সালে স্কটিশ আবিষ্কারক জন ডানলপ মোটরগাড়িতে ব্যবহার উপযোগী রবারের চাকা উদ্ভাবন করেন।

ভেনিস কেন বিখ্যাত?

শিল্পকলা, বাণিজ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ভেনিস বিশ্বে খ্যাত। আদ্রিয়াটিক সাগরের তীরে ১১৮ টি দ্বীপের সমন্বয়ে সৌন্দর্যের রানী হিসেবে পরিচিত ভেনিস ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতক পর্যন্ত রেশম, শস্য, মসলা এবং শিল্পকলায় ছিল খ্যাতির শীর্ষে। ভেনিসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কোনো রাস্তাঘাট নেই। সম্পূর্ণ শহরটি নির্মিত হয়েছে পানির মধ্যে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা আজ থেকে ৬০০ বছর আগে স্থানীয় অধিবাসীরা বৈদেশিক আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষার লক্ষ্যে অসংখ্য লেগুন খনন করেছিল। শহরটির দালান – কোঠা সবকিছু নির্মিত হয়েছে কাঠ দিয়ে। এক শহরের সাথে অন্য শহরের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে গন্ডোল জাতীয় নৌকা এবং ১৫০ টি সংযোগ সেতু। ভেনিস বিশ্বের প্রথম স্থল যানবাহন মুক্ত শহর হিসেবেও স্বীকৃত।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাংক কোনটি?

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ব্যাংকের নাম হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না। ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে এইচএসবিসি ‍ছিল তালিকার শীর্ষে। সাধারণত ব্যাংকের শাখার পরিমাণ, ডিপোজিট, সম্পদের উপর ভিত্তি করে এই র‌্যাংকিং করা হয়। আইসিবিসি এর গ্রাহক ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ ৯৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (১৪০ বিলিয়ন ডলার); এ বছরের মার্চ পর্যন্ত মজুদ টাকার পরিমাণ ৮.৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। ব্যাংকটির কর্পোরেট গ্রাহক ২.৫ মিলিয়ন এবং ১৫০ মিলিয়ন সাধারণ গ্রাহক রয়েছে। ব্যাংকটির ১০৬ টি দেশে শাখা রয়েছে। হংকং শহরটিতে এর শেয়ার এর পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন এবং সাংহাই – এ রয়েছে ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সাঁচী স্তূপ কোথায়?

সাঁচী স্তূপ ভারতের মধ্য প্রদেশের ভূপাল শহরের ৪৬ কি.মি. উত্তর পশ্চিমে সাঁচী গ্রামে অবস্থিত। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোক এটি নির্মাণ করেন। ১৮১৮ সালে ব্রিটিশ অফিসার জেনারেল টেইলর সাঁচী স্তূপটির কথা প্রথম তাঁর একটি লেখার উল্লেখ করেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতাত্ত্বিক ও খনি অনুসন্ধানীরা এই স্তূপটি পুনরায় আবিষ্কার করেন। ১৯১২ থেকে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্যার জন মার্শালের তত্ত্বাবধানে স্তূপটির সংস্কার করা হয়। ডোম আকৃতির স্তূপটিতে রয়েছে অসংখ্য তোরণদ্বার। স্তূপটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় যে কেউ এখানে অনুদানের বিনিময়ে যেভাবে খুশি সেভাবেই বুদ্ধদেবের জীবনী খোদাই করতে পারতো এবং সেখানে অনুদানকারীর নামও উৎকীর্ণ করা হতো। এর ফলে দেখা যায় তৃতীয় শতব্দী হতে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত স্তূপটির প্রধান তোরণগুলোতে বুদ্ধদেবের বিভিন্ন আঙ্গিকে ছবি ও প্রতীক খোদাই করা হয়েছে।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

গ্রেনিচ মান মন্দির বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর ক্যালকুলেটরের আবিস্কার খেমার

গ্রেনিচ মান মন্দির – বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর – ক্যালকুলেটরের আবিস্কার – খেমার

গ্রেনিচ মান মন্দির কেন নির্মাণ করা হয়? গভীর সমুদ্রের জাহাজের অবস্থান জানার জন্য মান মন্দির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *