Home / কোথায় কোন কোর্স / কোথায় নেবেন কোন প্রশিক্ষণ
কোথায় নেবেন কোন প্রশিক্ষণ

কোথায় নেবেন কোন প্রশিক্ষণ

পড়াশোন শেষ করে চাকরির আবেদন করতে গেলে প্রথমেই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চাকরি না করলে অভিজ্ঞতা হবে কীভাবে? এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, পেশা পরিকল্পনা অনুযায়ী পছন্দের বিষয়ে পশিক্ষন নেওয়া। কেননা অভিজ্ঞতার ঘাটতি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব। এতে দক্ষতাও বাড়ে।

দেশে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আদ্যোপান্ত জানাচ্ছেন

সুমিত মাহমুদ

প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো গুন নিয়ে পৃথিবীতে জন্মায়। কেউ সেই গুণটিকে কাজে লাগাতে পারে, কেউ পারে না। গুনটিকে কাজে লাগাতে হলে চাই আত্ববিশ্বাস। আত্ববিশ্বাস কিন্তু এমনিতে সৃষ্টি হয় না। এর জন্য প্রয়োজন কাজটির প্রতি আন্তরিকতা। বিষয়টি সম্পর্কে ধারনা থাকাটাও জরুরি। প্রাথমিক জ্ঞান, চেষ্টা বা শ্রমকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়। তবে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। কোনো কাজে দক্ষতা বাড়াতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ হচ্ছে এক ধরনের হাতে কলমে শিক্ষা যার মাধ্যমে সেই কাজটি আরোও ভালোভাবে সম্পন্ন করা যায়।

 

প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা

প্রায়াই একটি কথা শোনা যায়, দেশের সমৃদ্ধশালী, উন্নয়নশীল করতে দক্ষ জনশক্তি গডে তুলতে হবে, দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগতে হবে। তবে তক্ষতা কিন্তু এমনি এমনি অর্জন করা যায় না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। বর্তমানে চাকরি পাওয়া আর হাতে সোনার হরিণ পাওয়াকে প্রাই একই রকম মনে করা হয়। কোথাও চাকরির জন্য দরখাস্ত করলে কতৃপক্ষ প্রথমেই ভেবে দেখেন সেই কাজের জন্য আপনার অভিজ্ঞতা কতটুকু? আপনি কতটা দক্ষ। তাছাড়া এখন চাকরির বিজ্ঞাপনগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ৫-৭ বছরে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি চাকরি শুরুই করতে না পারি তাহলে অভিজ্ঞতা হবে কীভাবে? সেক্ষত্রে আপনার যদি বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স বা প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকে তাহলে ঐ কাজ সম্পর্কে আপনার একটু হলেও বেশী ধারনা থাকবে। সেক্ষেত্রে আপনি চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন। তবে সব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষন নেওয়াটা মূখ্য হয়ে ওঠে। কেননা শিক্ষণ বা শিক্ষা হচ্ছে ভিত। আর প্রতিটি ভিতের উপর গড়ে ওঠে নতুন নতুন কাঠামো। ভিত যত শক্ত হবে কাঠামো তত শক্তিশালী হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কেউ কোনো বিষয়ে দক্ষ হতে চাইলে তাকে অবশ্যই অনুশীলন করতে হবে। প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি বুঝতে ও আয়ত্ত করতে প্রয়োজনে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালো কি আছে তা চিহ্নিত করে আরো ভালো কীভাবে করা যায়, খারাপ কি আছে তা চিহ্নিত করা যায় এবং পাশাপাশি বড় ভুলগুলি থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায় এর কৌশল শেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ হয়তো একেবারে নতুন কিছু শেখায় না, কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে উপস্থাপন করে আসল বিষয়টিকে। প্রশিক্ষণের মজাটা এখানেই। আর যে ব্যাক্তি এর সন্ধ্যান পান তিনি তত দ্রুত নিজেকে বদলাতে সক্ষম হন।

 

প্রশিক্ষণের সুবিধা

-নির্দিষ্ট বিষয়টিকে সঠিকভাবে জানা যাবে।
-একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ও সনদপত্র চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে মূল্যায়িত হয়।
-কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে যদি আপনার তাত্ত্বিক ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে চাকরির ক্ষেত্রে ঐ বিষয়টি সম্পর্কে আপনার বার বার বলতে হবে না একটুতেই বুঝে যাবেন। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান আপনাকে দক্ষ কর্মী হিসেবে মূল্যায়িত করবে।
-প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো বয়সের সীমা বাধা নেই। ফলে যে কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন।
-পছন্দমতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
-প্রশিক্ষণের মেয়াদ বেশিদিন না হওয়ায় যে কেউ প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
-প্রশিক্ষণ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর আত্মবিশ্বাস বয়ে আনে কর্মস্পৃহা, সবশেষে সফলতা।
-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালো ও খারাপ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা যায়।

 

প্রশিক্ষণই শেষ কথা নয়

পত্রিকায় আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রদানকারী কিংবা চমৎকারভাবে সাজানো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিলেই যে খুব সহজে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি হয়ে যাবে বা প্রশিক্ষণ নিয়েই আপনি শতভাগ যোগ্য গয়ে উঠবেন এমনটি ভাবার কারণ নেই। দক্ষতা বাড়াতে অনুশীলনের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ আপনাকে সেই পথ দেখাবে মাত্র। অনুশীলনের মাধ্যমে সেই পথে আপনাকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যদি আপনার পছন্দের পেশাটি হয় সৃষ্টিশীল তাহলে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের জন্য অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। মডার্ন গ্রুপের এর চেয়ারম্যান ডা. আলমগীর মতি এ বিষয়ে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক যে কোনো প্রশিক্ষণের মূল্য আছে। এর মাধ্যমে হাতে-কলমে অনেক বিষয় শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট একটি বিষয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চাকরির বাজারে মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শেলটেক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. তৌফিক এম সিরাজ বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরি পাওয়ার জন্য সহায়ক। প্রতিষ্ঠানে অনভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিলে তাকে তৈরি করে নিতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়, তাই প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে খুব সহজেই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ততা অর্জনের পাশাপাশি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়।

 

সাংবাদিকতা

একটা সময় ছিল যখন মানুষ যে কোনো খবরের জন্য সংবাদপত্রের উপর নির্ভর করত। সংবাদপত্রের বাইরে ছিল বাংলাদেশ বেতার অথবা বাংলাদেশ টেলিভিশন। বর্তমানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংবাদপত্রের সংখ্যা সেটা দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা ত্রৈমাসিক যাই হোক না কেন। একই সঙ্গে বাড়ছে সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট পেশার সম্ভাবনা। যে কোনো সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা ও সংবাদের পেছনের সংবাদ খঁজতে সংবাদপত্রের বিকল্প নেই। পেশা হিসেবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কখনোই গুরুত্বহীন নয়। এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। একটা সময় যে কেউ সাংবাদিক হতে পারত। কিন্তু বর্তমানে সংবাদের মান, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য সম্পাদকরা মানসম্পন্ন সাংবাদিক নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া
• প্রেস ইনিস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)
• জাতীয় গনমাধ্যম ইনস্টিটিউট

 

সংবাদ উপস্থাপন

টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনা বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় পেশা। পড়াশোনার পাশাপাশি বা পড়াশোনা শেষ করে সংবাদ উপস্থাপক হতে চান অনেকেই। কিন্তু প্রশিক্ষণ ছাড়া ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রবেশের সুযোগ নেই বললেই চলে। সুতরাং ভালো সংবাদ উপস্থাপক হতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। শুদ্ধ উচ্চারণের জন্য কর্মশালায় অংশ নিতে পারেন।

*বাংলারমুখ

*অদ্রি

*জবস এ ওয়ান ডট কম

*বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকমিডিয়া

 

ভিডিও এডিটিং

নাটক বা সিনেমায় বিভিন্ন দৃশ্য বা অন্য যে কোনো দৃশ্য চিত্র গ্রাহকরা ছোট ছোট বা খণ্ডিত আকারে দৃশ্য গুলোকে কাটছাঁট করে দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজিয়ে পূর্ন নাটক বা সিনেমায় রূপান্তরিত করাই হলো ভিডিও এডিটিং। আর যিনি এই কাজটি করেন তাকে ভিডিও এডিটর বলা হয়। সাউন্ড এফেক্ট, আলো-রংঙের সমন্বয়, ডাবিং ইত্যাদি কাজগুলো ভিডিও এডিটর করে থাকেন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে টিভি চ্যানেল এর সংখ্যা। দেশে টিভি চ্যানেল বৃদ্ধির সাথে সাথে ভিডিও এডিটরদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক স্টুডিও, বেসরকারি ভিডিও সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান, চলচিত্র উন্নয়ন অধিদপ্তর সবখানে চাকরির শুযোগ বাড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থাতেও কাজের সুযোগ রয়েছে।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে।
• অ্যাপটেক এরিয়া
• ডেফোডিল ইন্টারন্যাশোনাল প্রফেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
• ইউজার্ড ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি
• আনন্দ মাল্টিমিডিয়া
• আনন্দ ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি
• ন্যাশনাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ
• জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট

 

ফটোগ্রাফি

অনেক স্থিতি চিত্রের মাধ্যমে আবার অনেক ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখতে। তবে স্থির চিত্র অর্থাৎ ক্যামেরায় ছবি তোলা আপাতঃদৃষ্টিতে খুব সহজ মনে হলেও কাজটি আসলে সহজ নয়। কোন ছবি কোন অ্যাঙ্গেলে, কতটুকু আলোয় তুলতে হবে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারনা থাকা জরুরি। কাজে নামার পরই বিষয়টি টের পাওয়া যায়। ছবি তোলার বিষয়ে সাধারন জ্ঞানের পাশাপাশি পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে ভালো ছবি তোলা সম্ভব। তাছাড়া প্রফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্য স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।
দেশে বর্তমানে মিডিয়া সেক্টরের প্রসার ঘটছে। প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা ইলেকট্রনিক দুটো সেক্টরে ভালো ফটোগ্রাফারের চাহিদা আছে। তবে ভাবতে পারেন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আবার স্টিল ফটোগ্রাফারের কি দরকার। সম্পুর্ন ভুল ধারনা। বর্তমানে মিডিয়ায় সব ক্ষেত্রেই ফটোগ্রাফার প্রয়োজন। শুধু মিডিয়াতে নয় ফটোগ্রাফি শিখে যে কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থাতেও আপনি চাকরি পেতে পারেন। চাকরি করতে না চাইলে স্টুডিও দেয়ার সুযোগ তো রয়েছেই।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• ঢাকা ফটোগ্রফিক ইনস্টিটিউট
• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সোসাইটি
• চঞ্চল মাহমুদ ফটোগ্রাফি
• পাঠশালা

 

আইটি

বর্তমানে দ্রুত অগ্রসরমান আইটি খাত। ফলে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ আইটি কর্মীর চাহিদা বেড়েই চলছে। সময়ের বাস্থবতায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয় নির্ধারণ এবং ব্যবহারভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যে কেউ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে তার দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্র এদের থেকে দক্ষ আইটি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। ফলে বিদেশে চাকরির সুযোগতো রয়েছেই।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• পিসি ল্যাব স্কুল অব টেকনোলজি
• আইবিটি কম্পিউটার্স
• আইটি বাংলা লিঃ
• ওয়েব ডিজাইনার বা সাইট বিল্ডার
• ওয়েব এপ্লিকেশন প্রোগ্রামার
• ওয়েব ডেভলপার
• নিউ হরিজন
• ডেক্সটপ কম্পিউটার

 

কল সেন্টার

কল সেন্টার হলো টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। কল সেন্টার বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঐ কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা, কার্যক্রম ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য গ্রাহকদেরকে টেলিকমিউনিকেশনের মাধ্যমে জানিয়া দেয়। অর্থৎ একই কোম্পানি তার গ্রাহক সেবা সম্পর্কিত সকল  তথ্য ভোক্তা বা সাধারণ জনগণকে জানানোর জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয় এবং যে প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয় বা যে প্রতিষ্ঠানটি এই সেবা প্রদান করে থাকে ঐ প্রতিষ্ঠানটিকে কল সেণ্টার বলা হয়।
বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সাল থেকে কল সেন্টার স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান শুরু করেছে। কল সেন্টারের ধারণাটি সাম্প্রতিক হলেও সাধারণত কল সেন্টারের ক্লায়েন্ট বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, ল এজেন্সি, ব্যাংক, কনজুমার প্রেডাক্ট ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। স্নাতক পর্যায়ে পড়াশুনা করেছেন এমন যে কেউ এ সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। কল সেন্টারে পার্টটাইম,ফুলটাইম দুই ভাবেই আপনি চাকরি করতে পারেন। আশা কারা হচ্ছে আগামী ৫ বছরে আমাদের দেশে কল সেন্টারের সংখ্যা হবে ৫০ হাজারের বেশী। ফলে ভালো পারফরম্যন্স দেখাতে পারলে টিম সুপারভাইজার, লিডার এবং ট্রেইনার হিসেবে আপনি চাকরি করতে পারেন।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• ইনস্টিটিউট অব কল সেন্টার টেকনোলজি
• ওয়ান কল
• হিরো মাই

 

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

একটি প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা, কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, সংগঠিতকরণ এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনে তাদেরকে সমন্বয় করাই হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সংক্ষেপে এইচআরএম এর কাজ। আর যিনি এ কাজটি করে থাকেন তিনি এইচআরএম ম্যানেজার। মানব সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার করাই এদের কাজ। তার উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপকের সাথে কর্মীদের সম্পর্ক স্থাপনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে থাকেন। বর্তমানে বিশ্বায়নের যে ছোঁয়া আমাদের দেশে লেগেছে সেটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন এবং সৃজনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করেছে। ফলে এইচআর ব্যবস্থাপকের কাজের অপার এবং বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাই যে কেউ এ পেশায় আসতে পারেন। বর্তমানে আমাদের দেশে এর চর্চা ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। ফলে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন হচ্ছে। যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রশিক্ষণ নিবেন তারাই এগিয়ে থাকবেন।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট
• বিয়াম ফাউন্ডেশন
• ইনস্টিটিউট অব পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট
• বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

 

হোটেল ম্যানেজমেন্ট

ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো কিছুরই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। হোটেল ম্যানেজমেন্ট হলো হোটেল বা পর্যটন সেবার সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা। অতিথির আবাসন, খাদ্য, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতি অনুসারে তার অবস্থানকালীন স্বাচ্ছন্দ্যবোধের পুরো ব্যবস্থাপনাই হলো হোটেল ম্যানেজমেন্ট। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি হোটেলে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ রয়েছে। যেমন- জেনারেল ম্যানেজার, অ্যাকোমোডেশন ম্যানেজার, ক্যাটারিং/ফুল/বেভারেজ ম্যানেজার, এন্টারটেইনমেন্ট কো- অর্ডনেটর, হাউস ম্যানেজার, রেসিডেন্ট ম্যানেজার, ফ্রান্ট অফিস ম্যানেজার, কনভেনশন সার্ভিসেস ম্যানেজার অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ হাউসকিপার।
প্রশিক্ষণ নিবেন যেখানে-
• বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন
• ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড টুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
• হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁ
• বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট
• হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনাল

 

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে ব্যবসার পরিধি বাড়ছে এবং সেই সাথে বাড়ছে প্রতিযোগিতা। শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করতে চান এমন লোকের সংখ্যা আমাদের সমাজে কম নয়। আবার অনেকে আছেন যাদের পুঁজি আছে কিন্তু প্রাথমিকভাবে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান না থাকলে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে এক সময় ব্যবসা বন্ধ করে দেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাজার চাহিদা ও সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিপূর্ন জ্ঞান থাকতে হবে। একজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীকে ব্যবসার লাভ লোকসানের হিসাব করে ব্যবসায় প্রসারের কথা চিন্তা করতে হয়। ব্যবসায় ছোট ছোট সমস্যাগুলো কীভাবে এড়ানো যায় সে সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হয়। আর এজন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট
• এরিস্টেক্রাফট সোসাইটি

 

নার্সিং

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় নাসিং-এর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বে নার্সের যেমন অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে এই পেশায় দক্ষ কর্মীর অভাব। যদিও অন্যান্য পেশার সাথে নার্সিং পেশাও সম্মানজনক একটি পেশা। হিসেবে স্বীকৃত। আত্মনির্ভরশীলতার নিশ্চয়তা এ পেশাটির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলছে। স্বাস্থ্য খাতে, সেবা- যত্নে, প্রয়োজনীয় ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে, নিরাপত্তার আশ্বাসে, সার্বক্ষণিক সেবা সহযোগী হিসেবে নার্সরাই উন্নতমানের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে দীর্ঘ মেয়াদি সেবা প্রদান করে আসছে। এ কারণেই ‘নার্স’ কে চিকিৎসা সাইকেলের ‘চক্রনাভি’ বলা হয়।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• উত্তরা নাসিং ট্রেনিং সেন্টার
• ওয়াইডা হাসপাতাল

 

ভাষা শিক্ষা কোর্স

বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে যত বেশী দক্ষ, চৌকস করে তুলতে পারবেন তত বেশী সমৃদ্ধ হবেন। তাছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশ থেকে অনেকই চাকরির জন্য ফ্রান্স, জাপান স্পেন, কোরিয়া সুইডেন প্রভুতি দেশে যাচ্ছেন। ফলে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি যে দেশে যেতে চান সে দেশের ভাষা জানতে হবে। আমাদের দেশে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিভিন্ন ভাষার উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• আলিয়ঁস ফঁসেজ
• গ্যাটে ইনস্টিটিউট
• ঢাকা ল্যঙ্গুয়েজ ক্লাব
• একুশে
• ব্রিটিশ কাউন্সিল
• এফএম ইনস্টিটিউট
• সাইফুরস

 

পাইলট

বড় হয়ে আমি পাইলট হব, আকাশে প্লেন চালাব এমন কথা অনেক শিশুর মুখেই শোনা যায়। শূধু শিশুদের নয় বড়দেরও আকাশের বুকে মেঘের রাজ্যে উড়ে বেড়াতে। একমাত্র পাইলট হতে পারলেই সেটা সম্ভব। তবে পাইলট হওয়াটা খুব সহজ ব্যাপার নয়। আবার খুব যে কঠিন তাও কিন্তু নয়। ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। পাইলট হতে হলে মেধাবী দুটোই হতে হবে। এক সময় আমাদের দেশে শুধু বাংলাদেশ বিমান অর্থাৎ সরকারি এই এয়ারলাইনস যেমন জিএমজিএয়ার পারাবত প্রভৃতি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে। ফলে পাইলট হওয়ার পর কর্মজীবন নিয়ে ভাবার আগেই আপনার চাকরি হয়ে যেতে পারে।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডিমী অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশণ লিমিটেড

 

এয়র হোস্টেস, কেবিন ক্রু

বিমানে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার দিকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখার কাজটি সাধারণত যারা করে থাকেন তারাই এয়ার হোস্টেস। বিমানের পরিচ্ছন্নতা, আকাশে সি পকেট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য প্রদান, ইমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট, ফাস্ট এইড ঠিকঠাক করেছে কি না ইত্যাদি কাজ যাদের করতে হয় তারা কেবিন ক্রু নামে পরিচিত। রোমাঞ্চকর ও সম্মানজনক পেশাটিতে বর্তমানে প্রজন্মের অনেক তরুণ-তরুনীরাই আগ্রহী হচ্ছেন।
এ পেশায় আসতে হলে আপনাকে আবশ্যই এইচএসসি অথবা ’এ’ লেভেল পাশ হতে হবে। তবে এইসএসসিতে ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ এবং ’এ’ লেভেলের প্রতিটি বিষয়ে ‘বি’ গ্রেড পেতে হবে।বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে। অবশ্যই ভালো ইংরেজি জানতে হবে। উচ্চতা ছেলেদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং মেয়েদের ৫ ফুট ২ ইঞ্চি হতে হবে। এ পেশায় দৃষ্টিশক্তির মাত্রা হতে হবে ৬/৪০ আনকারেকটেড ভিশন। চশমা এ পেশায় গ্রহনযোগ্য নয়।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• ওয়েট উইন্ড বাংলাদেশ
• বাংলাদেশ এভিয়েশন একাডেমী
• জবস এ ওয়ান ডট কম

 

প্যারামেডিক কোর্স

মানুষের ৫ টি মৌলিক চাহিদা একটি হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগেও আমাদের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার করুণ চিত্র পরিলক্ষিত হয়। তাই স্বল্প ব্যয়ে প্যারামেডিক কোর্স করে চিকিৎসা পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি মানব সেবার মতো মহৎ কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন।
প্রশিক্ষণ নেবেণ যেখানে-
• এসপিকেএস
• ডিপ্লোমা-ইন প্যারামেডিকেল
• সারর্টিফিকেট ইন-প্যারামেডিক
• মা-শিশু স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা
• ডিপ্লোমা ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন
• ঢাকা ডিপ্লোমা মেডিকেল ইনস্টিটিউট

 

পোশাক শিল্প

বর্তমানে পোশাক শিল্পই একমাত্র শিল্প যেখান থেকে দেশে সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা আসছে এবং একে কেন্দ্র করেই সবচেছে বেশী সহযোগী শিল্প গড়ে উঠছে। এর বিস্তৃতি বহুমুখী। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বর্তমানে বস্ত্রশিল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে তাদের বস্ত্র চাহিদা মেটাচ্ছে আমাদের দেশের তৈরি পোশাক দিয়ে। ফলে আমাদের দেশে গড়ে উঠছে উন্নত রকম নীট।, ওবেন সোয়েটার ফ্যাক্টরি। এছাড়াও গড়ে উঠছে বাইং হাইজ। প্রতিষ্ঠান বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে লোকবলের চাহিদাও বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আপনিও ফ্যাশন ডিজাইন, মার্চেন্ডাইজিং ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• বিআইএফটি
• বাংলাদশ অ্যাপারেল ইনস্টিটিউট
• লংকান ক্লোথিং ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউ
• এশিয়া ফ্যাশন
• বাংলাদেশ ফ্যাশন ইনস্টিটিউট
• সনি ফ্যাশন
• ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ইনস্টিটিউট

 

বিউটি পারলার

বাহ! আপনাকে তো সুন্দর লাগছে। এমন প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। মানুষ মাত্রই সুন্দরের পূজারী। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পিছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশী তারা হলেন বিউটি পারলারের বিউটিশিয়ান। স্বল্প মূলধন বিনিয়োগে শ্রম-নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যে কেউ অনায়াসে একটি বিউটি পার্লার দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এজন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া থাকলে ভালো।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• গীতির বিউটি পার্লার
• ফেম ইনস্টিটিউট
• বীথিস হারবাল
• বীথিস হারবাল (ছেলেদের শাখা)
• গৃহ সুখন

 

বাটিক, বুটিক, হস্তশিল্প

মানুষের সৃজনশীল প্রতিভা তার নানা কাজের মাঝেই ফুটে উঠে। ব্লক, বাটিক, বুটিক এমনই একটি ক্ষেত্র যেখানে সৃজনশীলতা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে জেলা শহরগুলোতে এ বিষয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন বা বিসিক নক্সা কেন্দ্র।

মোবাইল সার্ভিসিং

আমাদের দেশে মুঠোফোন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন এমন একটা মাধ্যবিত্ত পরিবার খুঁজে পাওয়া যাবে না যাদের নুন্যতম একটা মুঠোফেন নেই। অতি প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি মাঝে মাঝেই বিকল হয়ে পড়ে। ছোটখাটো সমস্যাগুলোর ধরণ জানা থাকলে ঘরে বসেই এর সমাধান করা যায়। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা মুঠোফোনের যাবতীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সাধারণ ও প্রফেশনাল এই দুটি ভাগে বিভক্ত মুঠোফোনের কোর্সগুলো করতে খরচ হবে ৪,০০০-৫,০০০ টাকা।
প্রশিক্ষণ নেবেন যেখানে-
• মুনলে
• নিটা
• গ্রামিণ স্টর এডুকেশন
• জাতীয় যুব উন্নয়ন একাডেমী

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

2 comments

  1. I like Garments job ,because this job most income in Bangladesh

  2. Rifat Alam Azmiri

    ctg e kothay kon course hoy?janle bhalo hoto

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *