Home / ফিচার / পরামর্শ / চাকরি খুঁজছেন? তাহলে প্রস্তুত হন এখনই
চাকরি খুঁজছেন তাহলে প্রস্তুত হন এখনই

চাকরি খুঁজছেন? তাহলে প্রস্তুত হন এখনই

পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে অথবা একটা চাকরি ছেড়ে আরেকটি ভালো চাকরির প্রত্যাশায় আপনি যদি চাকরি খুঁজতে  থাকেন, সেক্ষেত্রে একটু সময় লাগতেই পারে। এ সময় হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। লিখেছেন- আহমেদ  শরীফ।

প্রত্যাশা অনুযায়ী চাকরি পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। এই সৌভাগ্য অনেকের হয়, অনেকের হয় না। কেননা  পরিবেশ, পরিস্থিতি সব সময় অনুকূলে থাকে না। এমনও দেখা গেছে একটি ভালো চাকরির জন্য হয়তো কয়েক  সপ্তাহ, মাস এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। চাকরি খোঁজার এই মধ্যবর্তী সময়টুকু যে কারো জন্যই  হতাশাজনক। আর এই হতাশা থেকেই ব্যক্তিজীবনে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। যা আপনাকে নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে দেবে। তাই এ সময় যে কাজগুলো একেবারেই করা  উচিত নয়, জেনে নিন সেই কাজের তালিকা।

সিভি ও কভার লেটার

চাকরি খোঁজার মধ্যবর্তী সময়টুকু যতো দীর্ঘায়িত হবে আপনাকে ততই বৈচিত্র‌্যপূর্ণ সিভি ও কভার লেটার তৈরি করতে হবে। সাদামাটা একটি সিভি ও কভার লেটার তৈরি করে যদি আপনি মনে করেন, আপনার কাজ শেষ;  তাহলে নিশ্চিত ভুল ভাবছেন আপনি। আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রতি সুবিচার করুন। যে পদে আপনি আবেদন করবেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা সিভি ও কভার লেটারে উল্লেখ করুন। আর সে কারণেই  প্রতিনিয়ত বৈচিত্র‌্যপূর্ণ সিভি ও কভার লেটার তৈরি করাটা জরুরি। সব ধরনের চাকরির জন্য একই রকমের সিভি কখনও ভালো ফল বয়ে আনবে না।

সবাই আপনাকে ডাকবে না

যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আপনি চাকরির আবেদন করেছেন, তারা সবাই হয়তো আপনাকে ডাকবে না। এরকম আশা করাটাও বোকামী। এমনও হতে পারে দীর্ঘদিন আপনাকে কেউ ইন্টারভিউ এর জন্য ডাকছেই না। এতে ঘাবড়ে যাবেন না। এ বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিন। নিয়োগদাতারা আপনাকে পছন্দ করলে নিজেদের উদ্যোগেই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আপনি বার বার তাদের সঙ্গে যোগাগোগ করে তাদের বিরক্তির কারণ হবেন না। আবেদন করার পর অনেকেই বার বার ফোন করে এমনকি সরাসরি দেখা করে নিয়োগদাতা কর্তৃপক্ষকে উত্যক্ত করে। ব্যাপারটা নিয়োগদাতারা ভালো চোখে দেখেন না। ধৈর্যহারা হয়ে তাদেরকে অতিষ্ট করে তুলবেন না। সময় দিন, তাদের উপর বিশ্বাস রাখুন। দ্রুত ফল আশা করবেন না। আপনি কোনো কম্পানিতে আবেদন করার সাথে সাথেই নিয়োগ পেয়ে যাবেন এমন আশা করা ঠিক নয়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই আপনার জন্য চাকরি নিয়ে বসে নেই। কাঙ্ক্ষিত লোকের সন্ধানে তারা বিজ্ঞপ্তি দিতেই পারেন, সে হিসেবে আপনাকেই নিয়োগ দিতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি? অতএব, আবারও বলছি – ধৈর্য ধরুন। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান আপনাকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লোক মনে করলেও নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে তারা বেছে নিতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় নিতে পারে।

সম্ভাবনাকে গন্ডীবদ্ধ করবেন না

পড়ালেখার পর্ব সেরে আপনি যদি ভাবেন এখনই কোনো কম্পানির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাবেন, তবে সেটা অবাস্তব ভাবনা হবে। আপনাকে ধাপে ধাপে এগুতে হবে। তার মানে এই নয় যে, আপনি আপনার যোগ্যতার অবমূল্যায়ন করে কোনো প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণীয় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করবেন। আপনার সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত করুন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের পদে নিয়োগ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যান। সেক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে এমন পেশা বা প্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখুন।

উৎসাহ হারাবেন না

কোনো ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হওয়াটা নির্ভর করে মনের উপর। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সহজেই হাল ছাড়বেন না। বাস্তবতা হলো চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে প্রতিটা দিনই নতুন দিন। গতকাল, গত সপ্তাহ, গত মাসে যদি আপনি কোনো কম্পানির কাছ থেকে ‘না’ শব্দটি শুনে থাকেন, তবে সেটি অতীত ভেবে ভুলে যান। হতাশাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিন। পত্রিকার পাতায় নিয়মিত চোখ রাখুন। পছন্দের চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখামাত্র সিভি পাঠিয়ে দিন।

প্রত্যাখ্যান নিয়ে ভাববেন না

কোনো কম্পানি থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে গাল ফুলিয়ে বসে থাকবেন না। একে একটি স্রেফ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করুন। ভাবুন যে, ঐ কম্পানিতে এ মুহুর্তে আপনার জন্য কাঙ্ক্ষিত চাকরি নেই। অথবা আপনার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদের সামঞ্জস্য নেই। যদি সম্ভব হয় তাহলে জানার চেষ্টা করুন কেন আপনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন? ভবিষ্যতে চাকুরি খুঁজতে এই অভিজ্ঞতা আপনাকে সাহায্য করবে।

অন্যদের সঙ্গে তুলনা করবেন না

আপনি যেখানে কাজ করছেন, সেখান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়তো আছে। কিন্তু আপনার ব্যাটে বলে হচ্ছে না। অন্যদিকে আপনার সহকর্মীরা হয়তো ছক্কা পিটিয়ে ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভালো পদে যোগ দিয়েছে। তাদের পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না। শুধু শুধু কষ্ট পেয়ে লাভ কি? ধৈর্য ধরুন, সময় আপনার চিরদিন একইরকম থাকবে না। নিজের দক্ষতাগুলোর উপর আস্থা রাখুন এবং সেই অনুযায়ী কেরিয়ারের পরিকল্পনাগুলো ঢেলে সাজান।

এলোমেলো হবেন না

চাকরি খোঁজার সময়টাতে নিজের সম্পর্কে সচেতন থাকুন, স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন, পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন থাকুন। এসময় সতেজ ও ফুরফুরে মেজাজে থাকার চেষ্টা করা উচিত। অনেকেই এ সময় হতাশায় ভোগেন। এটা ঠিক নয়। হতাশাবোধ জীবনকে এলোমেলো করে দেয়। এতে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়। পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে নিজেকে অনেক সময় হেয় মনে হয়। এই উপলব্ধিটুকুই পরবর্তী সাফল্যের প্রধান অন্তরায় হতে পারে। তাই আবারও বলছি, এই সময়টুকু ধৈর্য সহকারে পার হওয়ায় চেষ্টা করুন।

চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্য়ন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। একটি ইন্টারভিউ – এর পর সাধারণত চাকরিপ্রার্থীরা ঝিমিয়ে পড়েন। এটা ক্ষতিকর। সময় চলে যাওয়ার আগে যুগপৎভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একই সঙ্গে আবেদন করুন। কোথাও না কোথাও চাকরি হবেই। সুতরাং হাল ছাড়বেন না।

মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না

বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে বায়োডাটা পাঠানের পরও হয়তো দেখা গেল আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এ পরিস্থিতিতে বায়োডাটার কলেবর বাড়াতে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্যের সমাবেশ ঘটাবেন না। আপনার যা নেই তা নিয়ে গর্ব করে লাভ কি? মনে রাখবেন, চাকরির জন্য চারিত্রিক দৃঢ়তা একটি বড় বিষয়। তাছাড়া একেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একেকরকম সিভি তৈরি করলেও সিভি’র ফটোকপি অবশ্যই রেখে দেবেন। ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে সেটা আরেকবার দেখে নিতে ভুলবেন না।

চাকরি পাওয়ার আগে প্রস্তুতির প্রক্রিয়া

  • আত্মসচেতনতার উন্নয়ন
  • চাকরির তথ্য সংগ্রহ
  • সিভি তৈরি
  • পছন্দের পেশা সম্পর্কিত ধারণা
  • নেটওয়ার্ক তৈরি
  • পরীক্ষার প্রস্তুতি
  • ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়া
  • একাধিক চাকরির ক্ষেত্রে আপোষ রক্ষা

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

আইকিউ বাড়াতে হলে

আইকিউ বাড়াতে হলে

বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ ঐশ্বরিক দান হলেও সচেতনতা, অভিজ্ঞতা, সাবধানতা, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান ও চর্চার মাধম্যে এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *