Home / হাতে কলমে / আদবকেতা / চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা
চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা

চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার আদবকেতা

কর্মক্ষেত্রে কাজে যোগ দেয়ার সময় যেমন মানতে হয় কিছু নিয়ম তেমনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ারও কিছু নিয়ম রয়েছে। কীভাবে ইস্তফা দেবেন, তখন আপনার করনীয়ই বা কী হবে – এটা জানাও কিন্তু ভীষণ জরুরি।

রোকসানা জাহান

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই একটা বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি হয়ে যায় সোহেলের। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে দুই বৎসর চাকরি করার পর আরেকটি বড় কম্পানি থেকে চাকরির অফার পায় সে। বড় কম্পানিতে বেশি বেতন, সম্মানজনক পদবীর আশায় পুরনো চাকরিতে ইস্তফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সোহেল। সহকর্মীদের খুশিমনে সে জানিয়েও দেয় সে কথা। কিন্তু গোলমাল বাধে বসের কাছে ইস্তফা পত্র দেয়ার সময়। বস সোহেলকে শুনিয়ে দেয় কিছু কড়া কথা – তুমি ইস্তফা দেবে ভালো কথা। কিন্তু সেটার কিছু নিয়ম রয়েছে। তুমি এভাবে কম্পানির নিয়ম ভাঙতে পারো না।

 

চাকরি যখন ছাড়তেই হবে তখন আর সৌজন্য দেখিয়ে লাভ কি? সোহেলও পাল্টা জবাব দেয় বসের কথার। তারপর গট্ গট্ করে বসের রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা বাসায় চলে যায় সে। এবার আপনিই বলুন, সোহেল কি কাজটা ঠিক করেছে? এখানে তার কি করা উচিৎ ছিল? হ্যাঁ সে কথা বলার জন্যই এই লেখা। পাঠক চলুন এবার সেগুলো জেনে নেয়া যাক।

 

প্রথমে বসকে বলুন

চাকরি ছেড়ে দেবেন কিন্তু তার আগে আপনার ভবিষ্যৎ আপনাকেই ভেবে দেখতে হবে। এবং বিষয়টি সহকর্মীদের নয়, সবার আগে আপনার বসকে জানাতে হবে। ভেবে দেখুন, সহকর্মীরা বিষয়টি কোন না কোন ভাবে বসের কানে কথাটা পৌছুবেই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে বসকেই বিষয়টি আগে জানান। সোহেল কিন্তু প্রথমেই এ ভুলটি করেছিল। যার কারনে বসের রুমে তাকে কিছু কথা শুনতে হয়েছে। আসলে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মচারি স্বেচ্ছায় চলে গেলে সেটা ঐ প্রতিষ্ঠানের জন্য সুখকর নয়। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিষয়টি আপনার মাথায় রাখতে হবে।

এবার বসকে বিষয়টি কিভাবে জানাবেন সেটাই হলো আসল কথা। ভুলেও অন্য কাউকে দিয়ে তাকে কথাটা জানাবেন না। এমনকি নেট, টেলিফোনেও তাকে জানাবেন না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক উপায় হলো নিজে গিয়ে সরাসরি বসের সাথে কথা বলা। আর একটা ব্যাপার, তখন কিন্তু পদত্যাগ পত্রটি সঙ্গে নিয়ে যেতে ভুলবেন না।

 

রেজিগনেশন লেটার

রেজিগনেশন লেটার লেখার নিয়মটা কিন্তু অনেক চাকরিজীবীরও অজানা। আর দশটা চিঠির মতো এটি শুধুমাত্র একটি চিঠি নয়। তাই বিশেষ যত্ন নিয়েই রেজিগনেশন লেটার লেখা উচিৎ। আপনার হাতের লেখা ভালো হলে সেটা হাতেই লিখতে পারেন, না হলে কম্পিউটারে কম্পোজ করে নেয়াই ভালো। আপনি চাকরিটি ছাড়তে চাচ্ছেন লেটারের শুরুতেই সেটা জানিয়ে দিন। কি কারনে চাকরি ছাড়ছেন সেটাও সেখানে স্পস্ট ভাষায় উল্লেখ করতে হবে। তবে কখনও সমালোচনা করবেন না। আপনি পরবর্তীতে কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিতে যাচ্ছেন সেটা জানানোর দরকার নেই। কিন্তু কত তারিখ থেকে আপনি আর এই এই অফিসে চাকরি করবেন না সেটা অবশ্যই স্পস্টভাবে উল্লেখ করবেন। চিঠির শেষে সংক্ষেপে বস এবং কলিগদের শুভকামনা জানিয়ে ধন্যবাদ দিন। রেজিগনেশন লেটার জমা দেয়ার আগে উত্তেজনা এড়িয়ে সেটা আরেকবার চেক করে নিন। এই চিঠিতে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি না থাকাই বাঞ্ছনীয়।

 

অর্পিত দায়িত্ব শেষ করুন

ইস্তফা পত্র তো দিয়ে দিলেন, এখন আপনাকে যা করতে হবে তা হলো – আপনি যে ক’দিন পুরোনো অফিসে আছেন সে ক’দিন কাজে অবশ্যই ফাঁকি দেবেন না। নিয়ম করে সময়মত অফিসে আসবেন। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন। এসময় কখনও কোন অবস্থাতেই অফিস কামাই করবেন না। অর্থাৎ কম্পানি যেন বুঝতে না পারে আপনি চলে যাবেন আর এজন্যই কাজে অমনোযোগী হচ্ছেন। এটা আপনার কেরিয়ারে বাজে প্রভাব ফেলবে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানে রেজিগনেশন লেটার জমা দেয়ার পরও সেখানে নির্দিষ্ট কিছু দিন কাজ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে অফিসের এইচআরডি ডিপার্টমেন্টে সরাসরি কথা বলে নিন। প্রয়োজনে শুক্রবারে কাজ করে আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব শেষ করুন। আপনার কারনে প্রতিষ্ঠান যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় বিশেষভাবে এদিকটা লক্ষ রাখবেন। কারন এর প্রভাব আপনার নতুন চাকরিতেও পড়তে পারে।

 

সিদ্ধান্তে অটল থাকুন

অনেক কম্পানি রেজিগনেশন লেটার দেয়ার পর পুনরায় ডেকে পাঠায়। এক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসে জানতে চান- কি কারনে আপনি চাকরি ছাড়ছেন। এতোদিন কাজ করেছেন, কম্পানি সম্পর্কে আপনার এখন ধারণাটাই বা কি? এমনকি তারা এসময় আপনাকে কম্পানিতে থেকে যাওয়ার অনুরোধও করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিনয় সহকারে তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করুন। আপনি যে সত্যিই চাকরিটা ছেড়ে দিচ্ছেন এটা তাদের জানিয়ে দিন। এ সময় ভুলেও কম্পানি সম্পর্কে আপনার মনের মধ্যে পুষে রাখা কোন ক্ষোভ প্রকাশ করতে যাবেন না। কারন ভেবে দেখুন চলেই যখন যাবেন তখন শেষ সময়ে এসে নতুন করে মনোমালিন্যের দরকার কি? মনে রাখবেন, এ সময় আপনার চাকরি ছেড়ে দেয়া নিয়ে আপনার সহকর্মীরা নানা রকম কথা বলতে পারে। অফিসে নানামুখী গুজবও রটতে পারে। এক্ষেত্রে মুখে কুলুপ এটে স্বাভাবিক থাকাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শেষের দিন হাসিমুখে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে আসুন। চলুন নতুন গন্তব্যে।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

ইন্টারনেটে চ্যাটিং কি করবেন কি করবেন না

ইন্টারনেটে চ্যাটিং কি করবেন কি করবেন না

বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছে। মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *