Home / কেরিয়ার / জব ট্রেন্ড / মেধাবীদের পেশা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি
মেধাবীদের পেশা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি

মেধাবীদের পেশা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি

চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্সি বা সিএ মূলত একটি  প্রফেশনাল কোর্স। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে পেশা হিসেবে একে উপরের দিকেই রাখা হয়। যে কোনো শিক্ষার্থী বিশেষ করে বাণিজ্য নিয়ে যারা পড়াশোনার করছেন  তাদের জন্য একটি আরাধ্য বিষয়। কারণ, সম্মান এবং সম্মানী দু’টোই অন্য যে কোনো পেশার তুলনার এ পেশায় অনেক  বেশি। লিখেছেন- আরিফুল  ইসলাম।

ব্যবসা-বানিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই গুরুত্বপুর্ণ পেশা। এই পেশাজীবীরা পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে অ্যাকাউনটিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অঙ্গীকারাবদ্ব। প্রতিষ্ঠানে  অর্থনৈতিক যে কোনো  কঠিন  পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত নিতেও এই পেশাজীবীরা অপরিহার্য। পেশাগত মর্যাদার কথা চিন্তা করলেও চর্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি একটি উচ্চ মর্যাদার পেশা।

সিএ কী

প্রথমেই একটি বিষয় পরিস্কার করে নেয়া যাক। সিএ এবং সিএমএ-কে অনেকেই এক করে ফেলেন। কিন্তু এ দুটো কোর্স সম্পূর্ণ আলাদা। সিএ হলো চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি; এই বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্স অব বাংলাদেশ বা ICAB-তে। অন্যদিকে সিএমএ হলো কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনেন্সি যা ইনস্টিটিউট অব কস্ট এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনটেন্সি বা ICMAB থেকে করা যায়।

ধাপে ধাপে সিএ পড়া

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনরটেন্টস অব বাংলাদেশ  (ICAB) অ্যাকাউনটিং পেশায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক এবং নিয়ন্ত্রণকারী একটি  প্রতিষ্ঠান। একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটিই দেশে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টের শিক্ষার্থী নির্বাচন, পাঠদান এবং নিয়ন্ত্রণ করে।  এখান থেকেই চার্টার্ড  অ্যাকাউনটেন্টের সনদ দেওয়া হয় এবং পেশাগত দক্ষতার বিচারে শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সিএ ফার্মে কাজ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পুঁথিগত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার  জন্য এ পেশার উপযোগী হয়ে গড়ে উঠতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

আইসিএবি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য  সম্প্রতি নতুন নীতিমালা  চালু করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বেশ  কিছু ক্ষেত্রে ভর্তির যোগ্যদা  শিথিল করা হয়েছে।  যেমন সিএ পড়ার  আগে এখন থেকে আর ছয় মাসের ফাউন্ডেশন কোর্স করতে হবে না। সিএ পড়ার প্রাথমিক যোগ্যতা থাকলে এখন যে কেউ যে কোনো সিএ ফার্মে গিয়ে সিএ পড়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

আইসিএবি-তে নাম নিবন্ধনের পর শিক্ষার্থীদের কোনো স্বীকৃত সিএ ফার্মের একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনন্টের অধীনে কাজ করতে  হবে। এ সময়  আইসিএবি-তে তত্ত্বীয় বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

নতুন  ভর্তি যোগ্যতা অনুযায়ী বেশ কিছু ধাপে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সিএ পড়ার জন্য আইসিএবি-তে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক দুটি পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ থাকলে এখন সরাসরি সিএ পড়া যাবে। এক্ষেত্রে সিএ কোর্সের  মেয়াদ হবে চার বছর।

যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরদের সিএ পড়তে হলে কমপক্ষে ৭ পয়েন্ট লাগবে। পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরদের কোর্সের মেয়াদ তিন বছর। এছাড়া এসিএমএ/এফসিএমএ এবং এসিসিএ/এফসিসিএ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এখন সরাসরি সিএ পড়তে পারবে। সেই সঙ্গে এরা প্রফেশনাল এক্সাম-১ (পি-১) পরীক্ষা থেকেও অব্যাহতি পাবে। এক্ষেত্রে সিএ কোর্সটি হবে দুই বছরের।

কেরিয়ার সম্ভাবনা

চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টরা বিভিন্ন পেশা, যেমন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), চিফ অডিটর, চিফ অ্যাকাউনটেন্ট, ম্যানেজমেন্ট, কনসালটেন্সির ক্ষেত্রে যেমন ম্যানেজমেন্ট, অ্যাকাউনটিং, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, তথ্য প্রযুক্তি এবং আর্থিক সেবাসমূহসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাদের পদচারণা রয়েছে। চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টরা এখন সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনার অংশ এবং কর্পোরেট খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অর্থনীতির যুগপৎ পরিবর্তন ভবিষ্যতে চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টদের কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তাছাড়া এটি একটি স্বাধীন পেশা। একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট নিজস্ব ফার্ম খুলেও কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। এই পেশাজীবীরা বিশেষত আইনানুগ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজের জন্য বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ব। এসব কাজের  মধ্যে আছে সব ধরনের রেজিস্টার্ড কম্পানি, ব্যাংক, বীমা, সমবায় প্রতিষ্ঠান, শেয়ার ব্রোকার, আয়কর নিরীক্ষা, ব্যাংক ঋণসহ সব ধরনের অ্যাকাউন্ট অডিট করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত হিসাব সঠিকভাবে এবং অল্প সময়ে পাওয়ার জন্য অনেক সময় চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টদের দ্বারস্থ হতে হয়। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি, ঋণ গ্রহণে সহায়তা, ঋণ পরিশোধের উপায়  উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক আলোকপাত এবং দিক নির্দেশনা, ব্যবসায়ে স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট স্বাধীনভাবে কাজের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করতে পারেন। ফেলে সারা পৃথিবীতেই চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টরা তাদের পেশাগত কাজের জন্য চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছেন।

লক্ষ্য করুন

  • চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি এমন একটি পেশা যেখানে সিদ্বান্তহীনতার কোনো সুযোগ নেই। সমস্যার মূল চিহ্নিত করে দ্রুত আপনাকে সিদ্বান্তে পৌছুতে হবে।
  • সময়ের পরিবর্তন, বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে অবশ্যই ভালো ধারণা থাকতে হবে।
  • নতুনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
  • বিভিন্ন রকমের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যেহেতু আপনার সম্পর্ক গড়ে উঠবে সুতরাং সততা ও বিশ্বস্ততা বজায় রাখাই হবে এ পেশার মূল চ্যালেঞ্জ।
  • কর্মক্ষেত্রে অধিকতর দক্ষ ব্যক্তির কর্ম-পদ্বতি লক্ষ্য করুন। ধৈর্যহারা না হয়ে মনোযোগী হোন।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে টেলিকমে ক্যারিয়ার শেষ পর্ব

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে | টেলিকমে ক্যারিয়ার (শেষ পর্ব)

নিজেরও হতে পারে টেলি কম্পানি দেশে প্রতিনিয়তই গড়ে উঠছে বিভিন্ন টেলি কম্পানি। এই সেক্টর সম্পর্কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *