Home / কেরিয়ার / জব ট্রেন্ড / টেলিকমিউনিকেশনের বর্তমান প্রেক্ষাপট | টেলিকমে ক্যারিয়ার (২য় পর্ব)
টেলিকমিউনিকেশনের বর্তমান প্রেক্ষাপট টেলিকমে ক্যারিয়ার ২য় পর্ব

টেলিকমিউনিকেশনের বর্তমান প্রেক্ষাপট | টেলিকমে ক্যারিয়ার (২য় পর্ব)

বর্তমান প্রেক্ষাপট

দেশে যত ব্যাপকহারে মোবাইল ফোনের বিস্তার ঘটেছে তত দ্রুত আর কোনো প্রযুক্তি বিস্তৃত হয়নি। প্রতিযোগিতার বাজারে এখন দেড় হাজার টাকার কমেও সেটসহ মোবাইল ফোনের সংযোগ পাওয়া সম্ভব। ফলে মোবাইল ফোন আজ পৌঁছে গেছে গ্রাম থেকে গ্রামে এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারেও।

জাপান – সুইডেনভিত্তিক বিশ্বখ্যাত হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি এরিকসন বহু আগে তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, “অদূর ভবিষ্যতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সমৃদ্ধ মোবাইল ফোন সেটের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। মোবাইল ফোন সেটের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২.২ বিলিয়ন মানুষ মোবাইল ফোনে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। যা টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরের জন্য নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।” এর সত্যতা আমরা এখন নিজেরাই দেখতে পাচ্ছি।

একসময় রিকশা আরোহীর হাতে মোবাইল – গ্রামীণফোনের এমন একটি বিজ্ঞাপনকে অনেকেই অবাস্তব বলেছিলেন। কেননা, যিনি নিজের গাড়ি নেই বলে রিকশায় চলেন, তিনি কিছুতেই মোবাইল ফোন কেনার ক্ষমতা রাখেন না। অথচ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে কেবল রিকশাচালকই নন, নিন্ম আয়ের যত পেশার লোকজন আছেন, তাদের একটা বড় অংশ ইতোমধ্যেই মোবাইল ফোনের মালিক রয়েছেন অথবা স্বপ্ন দেখছেন। নিজস্ব মোবাইল ফোন এখন আর উচ্চবিত্ত থেকে নিন্মবিত্ত কারও নাগালের বাইরের কিছু নয়। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে ৬ টি মোবাইল ফোন এবং ১৯টি বেসরকারি ল্যান্ডফোন কম্পানি বর্তমানে টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরে ব্যবসা করছে।

বাংলাদেশে টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) এর সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশ মোট মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২৫ লক্ষ। যার মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ২ কোটি, বাংলালিংকের ৯০ লক্ষ, একটেলের ৭৭ লক্ষ্য, ওয়ারিদের ৩২ লক্ষ, সিটিসেলের সাড়ে ১৬ লক্ষ এবং টেলিটকের গ্রাহক স্যখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। আমাদের দেশে বর্তমানে আড়াই লক্ষ লোক টেলিকমিউনিকেশন নির্ভর কম্পানিগুলোতে যুক্ত রয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে শুধুমাত্র টেলিকমিউনিকেশন সেক্টর থেকে বিটিআরসির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১,৬৪৫ কোটি টাকা। যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। সম্প্রতি সকল টেলি কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর আবেদন করা হলো বিটিআরসি-এর পক্ষ থেকে গ্রামীণফোনকে ৭ দশমিক ৬, বাংলালিংককে ৫ মেগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ফ্রিকোয়েন্সি আগামী ১৮ বছরের জন্য প্রদান করা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে এই সেক্টরে ৩৬ লক্ষ নতুন কর্মীর প্রয়োজন হবে। ফলে ব্যবসা করার প্রয়োজনেই প্রায় নিয়মিতই প্রত্যেকটি টেলি কম্পানিকে প্রচুর জনশক্তি নিয়োগ করতে হচ্ছে। কখনও শধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রজেক্ট অনুযায়ীও কম্পানিগুলো লোক নিয়োগ করে থাকে। ফলে বর্তমানে এই সেক্টরে চাকরি করার মাধ্যমে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ যেমন তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে নিজস্ব টেলি কম্পানি অথবা টেলি কম্পানির তৈরিকৃত বিভিন্ন পন্য সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমেও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে টেলিকমে ক্যারিয়ার শেষ পর্ব

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে | টেলিকমে ক্যারিয়ার (শেষ পর্ব)

নিজেরও হতে পারে টেলি কম্পানি দেশে প্রতিনিয়তই গড়ে উঠছে বিভিন্ন টেলি কম্পানি। এই সেক্টর সম্পর্কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *