Home / পড়ার বিষয় / থিওরি এবং অঙ্ক উভয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে
থিওরি এবং অঙ্ক উভয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে
থিওরি এবং অঙ্ক উভয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে

থিওরি এবং অঙ্ক উভয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে

নাসিমা আজিজ

হিসাববিজ্ঞান

হিসাববিজ্ঞানে ভাল নাম্বারের জন্য প্রথমত সময়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। থিওরির জন্য ৩০ মিনিট রেখে বাকি সময়ের মধ্যে অঙ্ক শেষ করার প্রস্ত্ততি নিতে হবে। থিওরি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতিটি অঙ্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের খসড়া নোট ও টীকা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের নাম, তারিখ, ডেবিট ক্রেডিট ঠিকমত লেখা হয়েছে কি না লক্ষ্য রাখতে হবে। রুটিন করে প্রতিদিন অঙ্ক করতে হবে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অঙ্ক শেষ করা যায়। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্ক হচ্ছে জাবেদা, নগদান বই, একতরফাম চূড়ান্ত হিসাব, বেতন ও মজুরি, অনুপাত বিশ্লেষণ, অংশীদারী কারবার-এই অধ্যায়গুলোর প্রতি বেশি জোর দিতে হবে। হিসাববিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্র প্রথম পত্রের চেয়ে জটিল। তাই দুর্বল শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই সিলেবাস শেষ করতে পারে না। তাদের উচিত হবে প্রথমে সহজ এবং বাধ্যতামূলক অঙ্কগলো আগে করা। যেমন: বেতন ও মজুরি অধ্যায়ের ৭/৮টি অঙ্ক করলেই কমন পাওয়া যায়। অনুপাত বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ১০-১২টি সূত্র সমাধান করলে কমন পাওয়া যায়। চূড়ান্ত হিসাব, অংশীদারী কারবার, শেয়ার ইস্যু, বিনিময় বিল এই অধ্যায়গুলোর ক্ষেত্রে বিগত বছরের সব বোর্ডের প্রশ্নগুলো থেকে ৬/৭টি অঙ্ক বেছে নিতে হবে এবং বারবার অনুশীলন করতে হবে। জিপিএ-৫ পেতে হলে থিওরি এবং অঙ্ক উভয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। থিওরির জন্য ভাল নোট তৈরি করতে হবে। অংকের ভিতরে কাটাকাটি করা যাবে না। জাবেদা, বিনিময় বিল, শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে লেনদেনের ব্যাখ্যা সুন্দরভাবে ‍উপস্থাপন করতে হবে। বাড়িতে বসে প্রতিটি অঙ্কের জন্য সময় নির্ধারণ করে অনুশীলন করতে হবে।

তিনঘরা নগদান বইয়ের ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীরা কারবারী বাট্টা ও নগদ বাট্টার পার্থক্য বোঝে না। ফলে কারবারী বাট্টাকে নগদ বাট্টার ঘরে বসায়। মনে রাখবে, পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের সময় যে বাট্টা দেওয়া থাকে তা কারবারী বাট্টা। কারবারী বাট্টা বাদ দিয়ে লেনদেন হিসাবভুক্ত করতে হবে।

কোনো ব্যাক্তির কাছ থেকে চেক পাওয়া গেলে নগদান হিসাব ডেবিট এবং ঐ ব্যক্তি ক্রেডিট হবে। পরে কোনো তারিখে এ চেক জমা দিলে কন্ট্রা এন্ট্রি হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করে। একতরফা দাখিলা পদ্ধিতির ক্ষেত্রে প্রশ্নে অনেক সময় প্রারম্ভিক স্থায়ী সম্পত্তি দেওয়া থাকে কিন্তু সমাপনীর ঘরে কোনো টাকা দেওয়া থাকে না। এক্ষেত্রে অনেকেই মূলধন নির্ণয়ের সময় সম্পত্তির সমাপনী ঘরটি ফাঁকা রাখে। মনে রাখবে, স্থায়ী সম্পত্তি বছরের শুরুতে থাকলে শেষেও থাকবে। উত্তোলনের সুদের ক্ষেত্রে তারিখ বা অন্য কোনো কিছু বলা না থাকলে ৬ মাসের সুদ ধরতে হয়। চূড়ান্ত হিসাবের ক্ষেত্রে মেশিন সংস্থাপন ব্যয়ের তারিখ (যেমন: ১-৭-০৭) দেওয়া থাকলে কলকব্জার সাথে সংস্থাপন ব্যয় যোগ করে মোট টাকার উপর ঐ তারিখ অনুযায়ী (৬ মাস) অবচয় ধরতে হবে। মনে রাখবে, শুধু সংস্থাপন ব্যয়ের উপর আলাদা অবচয় হয় না।

এক তরফা দাখিলা পদ্ধতিতে মূলত প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূলধনের পার্থক্যের মাধ্যমে নিট লাভ বা নিট ক্ষতি নির্ণয় করা হয়ে থাকে। তাই সম্পত্তি বিক্রয়জনিত লাভ বা ক্ষতি লাভ-লোকসান বিবরণীতে দেখানোর প্রয়োজন নেই। প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূলধন নির্ণয়ের সময় এই লাভ বা ক্ষতি সমন্বয় হয়ে যায়। প্রারম্ভিক ও সমাপনী মূলধন নির্ণয়সহ এখানে নোট ও টীকা থাকা দরকার। হিসাববিজ্ঞানে উত্তরদানের ক্ষেত্রে থিওরির উত্তর আগে দেওয়া উত্তম। পার্থক্যের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলে নাম্বার ভাল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় পত্রের ক্ষেত্রে যে অঙ্ক করতে কম সময় লাগে এবং সহজ সেগুলো আগে করবে। যেমন: অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিময় বিল এই দুটি অঙ্কের ক্ষেত্রে বিনিময় বিলের উত্তর দেওয়া উচিত।

লক্ষ্য করো

  • উত্তরপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় খালি অংশে যেখানে ’এ স্থান হতে উত্তর লেখা আরম্ভ করতে হবে’ লেখা আছে তার নিচ থেকে অবশ্যই প্রশ্নের উত্তর লেখা আরম্ভ করতে হবে।
  • পরীক্ষার উত্তরপত্রের প্রতি পৃষ্ঠা নম্বর বসাতে হবে।
  • উত্তরপত্রের ভেতরে বা বাইরে কোনো পরীক্ষার্থী কোনোভাবেই তার নিজের নাম বা যে কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে সে কলেজের নাম লিখতে পারবে না।
  • পরীক্ষার হলে উত্তরপত্রের নিচে লেখার সহায়ক হিসেবে হার্ডবোর্ড বা অনুরূপ কোনো কিছুই আনা যাবে না।
  • রাফ বা খসড়ার জন্য কোনো আলাদা কাগজ দেওয়া হবে না এবং এজন্য বাইরে থেকেও কোনো প্রকার আলাদা কাগজ আনা যাবে না। উত্তর লেখার জন্য দেওয়া উত্তরপত্রেই খসড়ার কাজ করতে হবে এবং উত্তরপত্রের কোনো পাতা কেউ ‍ছিড়তে পারবে না।
  • খসড়া বা অপ্রয়োজনীয় যে কোনো লেখা পরীক্ষার্থীকে নিজ হাতে কেটে দিতে হবে।
  • পরীক্ষা কক্ষে কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে পরীক্ষার্থী কেবল দাঁড়িয়ে কর্তব্যরত কক্ষ পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং তার কাছে বক্তব্য পেশ করবে।
  • প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া প্রশ্নপত্রে, টেবিলে বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না।
  • প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় থেকে এক ঘন্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না।
  • প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় থেকে দু’ঘন্টা অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শেষ করে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করতে পারবে না।
  • পরীক্ষা সমাপ্তির পর প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে কর্তব্যরত কক্ষ পরিদর্শকের কাছে তার উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করতে হবে।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

বিশ্ব অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবসা-বানিজ্যের উপর। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস পড়ে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *