Home / ফিচার / পরামর্শ / পেতে হলে স্বপ্নের চাকরি
পেতে হলে স্বপ্নের চাকরি

পেতে হলে স্বপ্নের চাকরি

ছাত্রজীবনে প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে পেশা জীবন গড়ার। কিন্ত পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতি না থাকার কারণে অনেকরই সে স্বপ্ন পূরণ হয় না।

স্বপ্নের চাকরি পেতে করণীয় সম্পর্কে জানাচ্ছেন- আহমেদ শরীফ

একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করে প্র্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে ক্যারিয়ারে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করার; লক্ষ্য থাকে সম্মানজনক সম্মানীতে একটি ভালো চাকরির। কিন্তু চাইলেই তো আর কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেবে না। বরং ভেবেচিন্তে পরিকল্পনা করে এগোলেই হয়তো স্বপ্নের চাকরির দেখা মিলবে। তাছাড়া শুধু স্বপ্ন দেখে গেলে চলবে না, সে অনুযায়ী নিজেকেও তৈরি করতে হবে। স্বপ্নের চাকরি খুঁজে পাওয়া এবং সেজন্য পথ তৈরি করা দুটোই সমান চ্যালেঞ্জিং। স্বপ্নের চাকরির খোঁজে হাপিত্যেশ না করে এখনই প্রস্ততি নিতে শুরু করুন। আপনার জন্য রইল সাতটি পরামর্শ। পরামর্শগুলো মেনে চললে স্বপ্ন পুরোপুরি সফল না হলেও গন্তব্যের অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছুবেন এটা নিশ্চিত।

১. নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নির্ধারণ করুন

কোন ধরনের কাজের প্রতি আপনার আগ্রহ ও গভীর অনুরাগ রয়েছে? কোন কাজ করে আপনি সবচেয়ে বেশী আনন্দ পান? আপনি যে চাকরিটির কথা ভাবছেন, তাতে কি মনে-প্রাণে একাত্ন হতে পারবেন? এই প্রশ্নের উত্তরগুলো প্রথমেই জেনে নিন। কাজ শেষে বাড়ী ফিরে যদি আপনার মনে হয়, এ জীবন আর চাই না! বা এত কষ্ট জীবন নষ্ট! তাহলে বুঝতে হবে, যে চাকরি করছেন তা আপনার মনের মতো নয়। অবশ্য বেশীরভাগ চাকরিজীবীই কর্মক্ষেত্র নিয়ে অসন্তোষে ভোগেন। আর এ কারণে প্রথমেই আপনাকে আপনার আগ্রহের বিষয়টি নির্ধারণ করে নিতে হবে।

২. ভীতি কাটিয়ে উঠুন

অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পারিবারিক সমস্যা, পরিচিতির অভাব ইত্যাদি সমস্যা মাথায় নিয়েই হয়তো আপনি কাঙ্গিত একটি চাকরির সন্ধান করছেন। সেক্ষেত্রে আপনার সব কিছু শেষ হয়ে গেছে বলে হতাশায় না ভুগে বরং ভীতিগুলোকে যুক্তির মাধ্যমে যাচাই করুন। মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকাভীতিকর বিষয়গুলো নিয়ে ভাবুন, সেগুলো নিয়ে পরিচিতজনের সঙ্গে কথা বলুন। এর ফলে কাঙ্খিত চাকরি পাবার আকাঙ্ক্ষা বাড়বে।

৩. নিজেকে নিয়ে গবেষণা করুন

মন ও আচরণগত উভয় দিক থেকেই নিজেকে নিয়ে গবেষণা করুন। সংবাদপত্র ও ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া বিজ্ঞাপন অনুযায়ী আপানার স্বপ্নের চাকরিটি আদৌ সেরকম হবে কি না জানতে সেই পেশা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার মনের সঙ্গে এ চাকরিটি সত্যিকার অর্থে খাপ খায় কি না যাচাই করুন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়। লেখক সত্ত্বা নিয়ে আপনি যদি পোশাক শিল্পে কাজ করেন, তাহলে হোঁচট খাওয়ায় সম্ভাবনাই বেশি।

৪. বিজ্ঞ পরামর্শদাতা খুঁজুন

অনুপ্রেরণা, অভিজ্ঞতা, বাস্তব জ্ঞান, আশাবাদ এসব কিছু পেতে হলে একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতার শরণাপন্ন হতে হবে আপনাকে। আপনার জন্য কোনটি ‘স্বপ্নের চাকরি’ বুঝতে হলে একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও তার বাস্তব জ্ঞানকে প্রধান্য দিন। আপনার বয়স ২০, ৩০ এমনকি ৬০ বছর হলেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয়তা কখনই অগ্রাহ্য করবেন না। এক্ষেত্রে সব সময় অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিন।

৫. কর্মপন্থা তৈরি করুন

কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে হলে কয়েকটি ধাপে এগুতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গন্তব্যে পৌছুতে ঐসব পদক্ষেপ যেন নির্ভুল হয়। এজন্য একটি কর্মপন্থা অর্থাৎ কাজের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। হঠাৎ একটি ফোন কল বা চিঠির মাধ্যমে স্বপ্নের চাকরিটির জন্য আপনাকে ডাকা হবে-এ ধরনের ভাবনা বোকারাই ভাবে। সুতরাং শুরু থেকেই আপনাকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হতে পারে এ ব্যাপারে মানসিক প্রস্ততি নিয়ে রাখুন এবং প্রস্ততির শুরুতেই নতুন যা কিছু অর্জন করতে চান তার একটি তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী নিজেকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যান। একটি জ্ঞানগর্ভ কর্মপন্থা অর্থাৎ কাজের পরিকল্পনার মাধ্যমে আপনি কাঙ্ক্ষিত চাকরির লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারেন।

৬. সীমা নির্ধারণ করুন

যে বিশেষ কারণে স্বপ্নের চাকরির মোহ আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে তা হলো জীবনে সন্তষ্টির পথ প্রশস্ত করা। আর সন্তুষ্টি পাওয়ার আগে প্রচুর ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করতে হয়। তাই আপনি মানসিকভাবে সীমা নির্ধারণ করুন কতটুকু ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে পারবেন? কারণ চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি অতিক্রম করেই স্বপ্নের চাকরিটি পেতে পারেন আপনি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে, রঙিন জীবনের হাতছানিতে স্বপ্নের নাগাল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বাস্তবতা বুঝতে হবে আপনাকে এবং সে অনুযায়ী চাকরির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তত হোন।

৭. চিন্তার পরিসর বিস্তৃত করুন

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেই স্বপ্নের চাকরি পেয়ে যাবেন এমন আশা করা ঠিক নয়। গোড়া থেকেই শুরু করতে হবে আপনাকে। আর সে কারণেই নয়টা-পাঁচটার কোনো সাধারণ চাকরি পেয়ে থাকলে লেগে থাকুন এবং ধাপে ধাপে পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হোন। হুট করে চাকরি ছেড়ে দেবেন না। কারণ স্বপ্নের চাকরির জন্য সপ্তাহ বা মাস নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে এক সময় স্বপ্নের চাকরির নাগাল ঠিকই পেয়ে যাবেন।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ – ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া যতটা সহজ, এইচএসসিতে ততটা সহজ নয়। তাই …

2 comments

  1. সুণ্দর পোষ্ট! এই ধরনের পোষ্ট আরো দিলে ভালো হবে, ধন্যবাদ!!

  2. পরামর্শটা সুন্দর! কাজে লাগবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *