Home / কেরিয়ার / জব ট্রেন্ড / প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট
প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট

প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট

১৯৮০ এর দশকে এদেশে প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু। বর্তমানে এই শিল্পে সহযোগী প্রায় ৩০০০ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষ প্লাস্টিক টেকনোলজিস্টদের। লিখেছেন-শারমীন জাহান পায়েল

সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানবজীবনকে সহজ আর স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে নিত্যনতুন ব্যবহার্য জিনিসপত্রের। একটা সময় ছিল যখন কাচ, পিতল ও তামার তৈরি জিনিসপত্রের প্রচুর চাহিদা ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা বাড়ছে। যোগানদাতা হিসেবে গড়ে উঠছে অসংখ্য প্লাস্টিক পণ্য তৈরির শিল্প কারখানা। ১৯৮০ সালের দিকে এদেশে প্লাস্টিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এর সংখ্যা প্রায় ৩০০০-এ উন্নীত হয়েছে। আর এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যিনি কাজ করছেন তিনিই হচ্ছেন প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট।

কোথায় পড়বেন

বর্তমানে বাংলাদেশে একমাত্র শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার সুযোগ রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৪ সালে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স নামে এই বিভাগটির যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স সেন্টার (BITAC) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্লাস্টিক টেকনোলজির বিভিন্ন কোর্সে স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। মেশিন মেইনটেন্যান্স টেকনিশিয়ান এবং মোল্ড ডিজাইন টেকনিশিয়ান হতে চাইলে প্রার্থীকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর ডিপ্লোমা-ইন-মেকানিক্যাল/টুল/প্লাস্টিক টেকনোলজি থেকে পাস করতে হবে এবং ১-৩ বছর মেয়াদী একটি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।

বিষয়সমূহ

প্লাসিক ম্যানুফ্যাকচারিং, সফটওয়্যার টুলস ফর টেকনোলজি, প্লাস্টিক প্রোসেসিং, প্রোপাইটিস অব পলিমার, স্ট্যাটিক্যাল প্রোসেস/কোয়ালিটি কন্ট্রোল, প্রান্ট লে-আউট অ্যান্ড কস্ট অ্যানালাইসিস, অ্যাডভান্সড প্রোসেস, প্লাস্টিক পার্ট অ্যান্ড মোল্ড ডিজাইন, পার্ট অ্যান্ড মার্কেটিং অ্যান্ড ফোমস, সুপারভিশন অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফিটি ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল  অ্যান্ড টেকনোলজি  ইত্যাদি  বিষয়ে  পড়ানো হয়।

কাজেরর ধরণ

একজন  প্রাস্টিক  টেকনোলজিস্ট কীভাবে নাইলন থেকে  ফাইবার তৈরি  করা  যায় বা কোন  ধরনের ফাইবার ব্যবহার করলে উৎপাদন  সামগ্রীগুলো  দীর্ঘস্থায়ী বা টেকসই  হবে ইত্যাদি বিভিন্ন  ধরনের গবেষণামূলক কাজ করে থাকেন। উৎপাদনের তদারকি, গুণগদত মান, নতুন  প্রোডাকশনের ডিজাইন,  মার্কেটিং, মোল্ডিং এবং প্ল্যানিং প্লাস্টিক  টেকনোলজিস্টদের কাজের আওতাভুক্ত।

কর্মক্ষেত্র

আমাদের দেশে ছোট, মাঝারি এবং বৃহৎ আকারের প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি জনগোষ্ঠী নিয়োজিত রয়েছে। ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, মেশিন রিপেয়ার, মেশিন সেট-আপ, ব্যবস্থাপনা, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, টেস্টিং, টুল, ইঞ্জিনিয়ার টুল রুম ইত্যাদি ক্ষেত্রে একজন প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট এর চাহিদা ব্যাপক। এছাড়া বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার পদেও প্লাস্টিক টেকনোলজিস্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

আয়-রোজগার

প্লাস্টিকের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সাংসারিক বিভিন্ন জিনিসের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলো একদিন যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি সহজলভ্য ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই প্লাস্টিক সামগ্রী কিনছেন। ফলে দেশে প্রচুর প্লাস্টিক শিল্প সহযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ফলে এই পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের কর্মক্ষেত্র দিন দিন বিস্তৃত হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। একজন প্লাস্টিক টেকনোলজিস্ট শুরুতেই ৮০০০ টাকা সম্মানীতে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে বাড়বে আয়ের অংকও।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে টেলিকমে ক্যারিয়ার শেষ পর্ব

টেলি কোম্পানি করতে চাইলে | টেলিকমে ক্যারিয়ার (শেষ পর্ব)

নিজেরও হতে পারে টেলি কম্পানি দেশে প্রতিনিয়তই গড়ে উঠছে বিভিন্ন টেলি কম্পানি। এই সেক্টর সম্পর্কে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *