Home / হাতে কলমে / কিভাবে হবেন / ফরেস্ট অফিসার হতে চাইলে
ফরেস্ট অফিসার হতে চাইলে

ফরেস্ট অফিসার হতে চাইলে

দেশের বনজ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণই হলো একজন ফরেস্ট অফিসারের প্রথম কাজ। কাজটি দায়িত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। সেইসঙ্গে রয়েছে দেশাত্ববোধ। দেশপ্রেম এবং প্রকৃতিকে ভালবেসে আপনিও হতে পারেন ফরেস্ট অফিসার। লিখেছেন – আব্দুর রাজ্জাক।

প্রকৃতিকে কে না ভালবাসে। সুজলা, সফলা, আমাদের এই বাংলাদেশে রয়েছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ খ্যাত ‍সুন্দরবন, মধুপুর, ভাওয়ালের গড়, চট্টগ্রামে পাহাড়ী পার্বত্য বনভুমি। কিন্তু আপনি জানেন কি, যে কোনো দেশের আয়তনের তুলনায় ২৫% বনভুমি থাকা প্রয়োজন? অথচ আমাদের দেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ১৭.৫০%। বনভূমির পরিমান বৃদ্ধি ও রক্ষার জন্য দক্ষ জনবলের যেমন প্রয়োজন তেমনি এ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তির প্রয়োজন হবে। কাজটা কঠিন নয়। কেননা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে অনার্স, মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। বনজ সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। তাই এই বিষয়ে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা।

অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায়ও বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সরকার বিসিএস – এর মাধ্যমে ফরেস্ট অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে। অর্থাৎ দেশে সেবা এবং কেরিয়ার গড়ার জন্য আপনিও হতে পারেন ফরেস্ট অফিসার বা বন সংরক্ষক।

পড়াশুনা

এইচএসসি পাশ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অথবা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরেস্ট্রি বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক সমাপ্ত করে সফলভাবে বিসিএস দিয়ে আপনি এ পেশায় কেরিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন। এখন জেনে নিন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরেস্ট্রি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতাগুলো –

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ঃ বাংলাদেশের যে কোনো শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় এবং বিজ্ঞান/কৃষিবিজ্ঞান শাখায় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গনিত ও জীববিদ্যা বিষয়সহ এইচএসসি বা সমমানের উভয় পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয় বাদে ন্যূনতম মোট জিপিএ ৬ পেলে আপনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে ‘চ’ ইউনিট থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

ফোনঃ ০৩১-৭২৬৬১১১৪

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ যে সকল ছাত্র – ছাত্রী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা ‘গ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে পারেন। ভর্তির জন্য উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ সহ মোট জিপিএ ৫.৭৫ থাকতে হবে। জিসিই ‘ও’ লেভেলে কমপক্ষে তিনটি বিষয়ে ‘সি’ গ্রেডসহ পাঁচটি বিষয়ে পাস এবং জিসিএ ‘এ’ লেভেলে দুইটি বিষয়ে কমপক্ষে ‘সি’ গ্রেড থাকতে হবে। উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাশ নাম্বার ৪৮।

ফোনঃ ০৮২১-৭১৩৪৯১, ৭১৭৮৫০

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ঃ উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় গড় জিপিএ ৩.৫০ অথবা সমতুল্য গ্রেড ছাত্র – ছাত্রীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের যে কোনো শিক্ষা বোর্ড থেকে গণিত, পদার্থ, রসায়নে প্রেত্যেকটি বিষয়ে আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ ৩ পেতে হবে।

ফোনঃ ০৪১-৭২০১৭১৩

একজন ফরেস্ট অফিসারের বেশ কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছেঃ

ফরেস্ট অফিসার হতে চাইলে প্রথমেই তাকে এই বিষয়ের উপর অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। তারপর বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। বর্তমানে ফরেস্ট অফিসারদের দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেননা সরকার এই বিভাগের উপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে দেশের আপামর জনসাধারণের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখলে এই বিষয়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। তাছাড়া গ্রীন হাউজ ইফেক্ট থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো বনায়ন কর্মসূচি বৃদ্ধি করা। সবদিকে বিবেচনা করলে বর্তমানে এর চাহিদা অপরিসীম।

একজন ফরেস্ট অফিসারের বেশ কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের বনজ সম্পদগুলোকে কীভাবে যথার্থভাবে ব্যবহার করা যায় সেই চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। বনজ সম্পদের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। সর্বোপরি দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ সাহসিকতার সাথে নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাকে বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখতে হবে।

গাছপালা লাগানো ও কাটা বিভন্ন বিষয়ের ছাড়পত্র দেওয়া, বন উন্নয়নের কাজ, বনজ সম্পদ লুটপাটের সুযোগ রয়েছে। তাই দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগত হীন স্বার্থ পরিত্যাগ করতে হবে। অনেক সময় কাজ করতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দৃঢ় মনোবল নিয়ে এ সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশের সম্পদ রক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করাই একজন ফরেস্ট অফিসারের কাজ। সুতরাং এ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার মধ্যেই রয়েছে তার সফলতা এবং সম্ভাবনাময় কেরিয়ার।

কেরিয়ার সম্ভাবনা

অপার সম্ভাবনার এই দেশে ফরেস্ট অফিসারের কেরিয়ার খুবই উজ্জ্বল। কেননা ১৯৯০ এবং ২০০২ সালে ’বন আইন’ বাস্তবায়ন করে এই বিভাগের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের চকোরিয়া – কক্সবাজার, বাঁশখালী, নোয়াখালীতে কৃত্রিমভাবে ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৮টি জেলাতে কোনো রাষ্ট্রীয় বনভূমি না থাকলেও প্রতিটি জেলায় সড়ক ও জনপদের অধীনে কৃত্রিমভাবে বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বন ও পরিবেশ বিভাগ। তাছাড়া বন এবং বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি প্রাণীজগতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বনভূমির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রামে বন গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এছাড়াও পর্যটন শিল্পের জন্য বনভুমির গুরুত্ব অপরিসীম। এই বিষয়ে দেশি – বিদেশি এনজিওতেও চাকরির সুযোগ রয়েছে। ফরেস্ট অফিসার সরকারিভাবে বাংলাদেশের ২৯ টি ক্যাডারভুক্ত একটি ক্যাডার এবং এটি ১ম শ্রেণীর চাকরি। ফলে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার সমপরিমাণ সম্মাণীসহ অন্যান্য সুযোগ – সুবিধা পাবেন। সঙ্গে বন কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত বাড়তি সম্মান তো রয়েছেই। আরো রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন বনাঞ্চলে পরিবারসহ ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *