Home / অন্যান্য / ভ্রমন / বান্দরবনে এক দিন
বান্দরবনে এক দিন

বান্দরবনে এক দিন

বান্দরবান। যেখানে পুণ্যাহ হয় রাজার আদেশে। বালাঘাটার স্বর্ণমন্দির, পাহাড়ের মাথায় টোপর পড়ে থাকা দেবতাপুকুর, নৃগোষ্ঠীর ভিন্ন ধাচের বৈচিত্র জীবন যেখানে বর্তমান, সেখান থেকে ঘুরে এসে নিজের অনুভুতি জানাচ্ছেন, বেলায়েত হোসাইন

এডভেঞ্জারের খোজেঃ

রুপ সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বান্দরবনের প্রসংশা অনেক শুনেছি। বাস্তবে এর রুপ, শিক্ষা সফরে গিয়ে অবলোকন করতে পারলাম। গত সপ্তাহে কয়েকজন বন্ধুর সাথে ঘুড়তে গিয়েছিলাম বান্দরবনে। ঢাকায় সন্ধ্যার গাড়িতে উঠেছিলাম আর ভোরে পৌছালাম বান্দরবনে। প্রথমেই এর আঁকা- বাঁকা উচু- নিচুঁ পথ শুধুমাত্র আমার মনকে আন্দলিতই করেনি বরং গর্বিতও করেছে নিজেকে। বাস থেকে নেমে সোজা হোটেলে। সকালের নাস্তা আর বিশ্রাম শেষে রওনা হলাম বান্দরবনের উচ্চতা মাপার জন্য। বাদুরঝোলা চান্দের গাড়িতে উঠতেই মনটা কেমন জানি এক এডভেঞ্চারের স্বাদ অনুভব করলো।

চাদের গাড়ি চলছে, শহর পেরিয়ে পার্বত্য চিম্বুক পাহাড়, এরপর – নীলগিরি। গাড়ি চলছে কিছু বিপদ জনক আঁকা বাকা, আর উচু নিচুকে পথের মিলনমেলার মাঝ দিয়ে। গাড়ি যখন কোন বিপদজনক বাঁক এবং উচু নিচুতে নামতে থাকে তখন কেন জানি হৃদয়টা দুইভাগ হয়ে যায়। একখন্ড হৃদয় ভয়ের অনুভূতিতে চুপসে যায়, অন্য খন্ড হৃদয়টা তখন এডভেঞ্জারের নেশায় ডুবে থাকে।

আকাশ ছোয়ার আশায়, চান্দের গাড়িতেঃ

সব মিলিয়ে এক দোমিশালি অনুভূতি সামলাতে হয়। সবাই গাড়িতে ছিটে বসে বাইরের দৃশ্য চোখভরে দেখছে। আমিও তাই করছি। কিন্ত মনে হলো বসে থাকা আমার কাজ নয়। তাই সময় নষ্ট না করে চান্দের গাড়ির ছাদে গেলাম। অনেক উচ্চতায় উঠে এলাম। এখান থেকে সাংগু নদীটাকে দেখতে পাচ্ছি। সাংগু এখান থেকে শহরের ড্রেনের মতো চিকন মনে হচ্ছে। নদীর আশে পাশে কিছু টিনের ঘড় দেখতে পেলাম। এটা উপজাতিদের গ্রাম।

সূর্যের আলো টিনের উপর প্রতিফলিত হয়ে এর উঞ্চতাও আমার চোখে এসে লাগছে। সামনে যত এগুচ্ছি আকা বাকা রাস্তা ততই বেশি দেখতে পাচ্ছি। রাস্তা এসময় এতই বেশি আঁকাবাকা মনে হলো যেন কোন বৃহৎ অজগরের উপর গিয়ে আমরা চলছি। নিচে তাকালে মনে হয় কোন মৃত্যু মুখি অজগর হা করে আছে। একটু এদিক সেদিক হলেই গাড়িটা সোজা স্বপ্নজান থেকে মৃত্যুযানে পরিনত হবে। গাড়ির কথা কি বলছি গাড়ির চেয়ে আমার নিচে পরে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি। চাদের গাড়ির ছাদে তো আর নিরাপত্ত বেষ্টনি থাকেনা!!

দৃষ্টিসীমার ওপারে

তবে গাড়ির ড্রাইভারের হাত পাকা বলে মনে হচ্ছে। কার রেসিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে এই ড্রাইভার ভালোই করবে মনে হয়। মাঝে মাঝে উপজাতিদের চোখে পরছে। তাদের ঝাঁপিতে মুরগি বহনের দৃশ্য মন্দ লাগছে না।

চিম্বুকের মায়াজগতেঃ

চলতে চলতে শহর থেকে ২২ কি.মি. পথ পারি দিয়ে পৌছালাম চিম্বুক পাহাড়। রাস্তা থেকে দেখে মনে হলো পাহাড়ের উচ্চতা যেন মেঘ ছুয়েছে। পাহাড়ে ওঠার ইচ্ছে বহুদিনের। স্বপ্ন পূরণের আনন্দে এখন ঘুড়ি উড়াতে ইচ্ছে করছে। ব্যাগটা কাধে নিয়ে তেনজিং নোরগের অনুকরণে উঠতে লাগলাম পাহাড়ে। দুপুরের খরা রোদকে উপেক্ষা করে পাহাড়ে উঠতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কিছুই করার নেই পাহাড়ের উচ্চতাকে যে আমায় হার মানাতেই হবে।

পাহাড়ের কোলে

পাহাড়ের শৃঙ্গে উঠে চারপাশে একবার চোখ বুলালাম। মনে হলো আমি এখন এক স্বপ্ন জগতের বাসিন্দা। চারিদিকে সবুজের এক সামুদ্রিক ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। আধা ঘন্টা সময় কাটিয়ে ফের চান্দের গাড়িতে উঠলাম নীলগিরির উদেশ্যে। নীলগিরির উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২০০ শত ফুট উপরে।

নীলগিরির ডাকঃ

চিম্বুক পাহাড় থেকে নীলগিরির দূরত্ব প্রায় ৩.২৮ কি.মি. হবে। অজগরের পিঠের উপর দিয়ে চাদের গাড়িটা শা শা করে ছুটে চললো। নীলগিরিতে তখন পৌছালাম তখন সময় দেড় টা। গাড়ি থেকে নেমে আবার সেই পাহাড়ে উঠার পালা। নীলগিরিতে উঠতে এবার প্রায় আধা লিটারের মত লবন জল খরচ করতে হলো।

যেথায় আকাশ মাটিতে কানাকানি

পাহাড়ের উপরে যখন উঠলাম তখন উপর থেকে নিচে তাকিয়ে দেখছি আর ভাবছি, যে সৃষ্টিকর্তা এত সুন্দর করে পৃথিবী সাজিয়েছে। না জানি সেই সৃষ্টিকর্তা কতটা সুন্দর!! টিভিতে দেখা আমাজন বনের সুন্দর দৃশ্যটা যেন এই নীলগিরিতে বাস্তবে আমি দেখছি। ঝটপট কয়েকটা সেলফি তুলে চাদের গাড়িতে গিয়ে বসলাম। বিদায় জানালাম বাংলাদেশের দার্জিলিং খ্যাত সুন্দর সত্যে আর সুস্পষ্ট এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে।

স্মৃতি নিয়ে ফেরাঃ

গাড়িতে চেপে বিদায় নিচ্ছি আর আমার হৃদয়ের ছোট একটা অংশকে সারাজীবনের জন্য এই বান্দরবনের অপরুপ, সবুজ সৌন্দর্যের কাছে বন্ধক রেখে যাচ্ছি। এমন সময় আমার চিৎকার করে বলছে ইচ্ছে করছে। আমি গর্বিত আমি বাঙ্গালী।

লেখক:
বেলায়েত হোসাইন
মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
সাংবাদিকতা বিভাগ

About Muhammad Razibullah

Muhammad Razibullah
লেখালেখি আমার রক্তে মিশেছে.....

2 comments

  1. Belayet Hossain

    ফিচারটা প্রকাশ করার জন্য রাজিব ভাইকে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *