Home / ফিচার / পরামর্শ / বিপদে স্থির থাকবেন যেভাবে
বিপদে স্থির থাকবেন যেভাবে

বিপদে স্থির থাকবেন যেভাবে

বিপদে বিচলিত হন না এমন লোক খুব কমই দেখা যায়। অনেকে বিপদ এড়িয়েও যেতে চান। অথচ এ সময় স্থির থেকে বিপদের মুখোমুখি দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

লিখেছেন-শাহরিয়ার মাহমুদ মজুমদার

 

শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ে। দ্বিতীয় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষার ফর্ম ফিলআপ করার সময় সে স্বাক্ষর দিতে ভুলে যায়। পরীক্ষার দুদিন আগে খোঁজ নিয়ে সে জানতে পারে হলে প্রবেশ পত্র আসেনি। এ ঘটনায় তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সামান্য ভুলের জন্য একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে? অনেক চিন্তা-ভাবনা করে সে স্যারের কাছে ফোন করল। স্যারের পরামর্শে প্রথম দিন শ্যামীম প্রবেশ পত্র ছাড়াই পরীক্ষা দিল। তারপর পুনরায় আবেদন করে প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করার পর শামীম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। শামীমের মতো আমরাও প্রতিনিয়ত এমন অসংখ্য ছোট বড় বিপদের সম্মুখীন হই। বিপদেকে আমরা এড়িয়ে যেতে চাইলেও পারি না; বরং চারদিক থেকে বিপদ অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরে। এজন্য এড়িয়ে না গিয়ে বিপদের মুখোমুখি হয়ে সমাধানের চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

সবার আগে সতর্কতা

আরব বিশ্বে একটি খুব প্রচলিত, সাবধানতা চিকিৎসা থেকে উত্তম। পরিপাটি এবং সুনিয়ন্ত্রিত জীবন রোগ থেকে আমাদের মুক্ত রাখে, বিপদগুলোও এমন। আমরা লক্ষ্য করলেই দেখব আমাদের বিপদগুলো বেশিরভাগ সময় অবহেলার কারণে হয়ে থাকে। তাৎক্ষণিক কিংবা অতীতের কোনো ভুলের কারণেও বিপদ ঘটতে পারে। এজন্য আপনাকে প্রথমেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। এটাই সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায়। যে জিনিসগুলো আপনার জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো আপনাকে সযত্নে এড়িয়ে চলতে হবে।

 

ভাবুন বিপদটা কত বড়

আপনি হয়তো সমস্যায় পড়ে অস্থির ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, অযাচিতভাবে সমস্যাটিকে জটিল করে তুলছেন। একটু ভাবলেই দেখবেন বিপদটি হয়তো গুরুত্ব পাওয়ার মতো নয়। সহজেই হয়তো এর সমাধান করা যায়। আপনার অস্থিরতাই সেটিকে ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে বড় করে তুলেছে। এজন্য ডেন কার্নেগী তার বিখ্যাত ‘দুশ্চিন্তাহীন এজন্য ডেল কার্নেগী তার বিখ্যাত ‘দিশ্চিন্তাহীন নতুন জীবন’ বইয়ের শুরুতেই বলেছেন, ‘আপনি যখন সমস্যার সম্মুখীন হবেন তখন প্রথম কাজ সেটাকে পরিমাপ করে নেওয়া।’

 

স্থির মস্তিষ্কে চিন্তা করুন

আপনি বিপদটিকে যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পারলেই অর্ধেক কাজ শেষ। ধরে নিন, বিপদ মোকাবেলায় আপনি অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। পরিমাপ করে এবার আপনি সেটাকে দুই ভাগে ভাগ করতে পারেন- বিপদ ছোট না বড়? এজন্য কী আপনি নিজেই যথেষ্ট, না কি অন্যের সাহায্য নিতে হবে? এখন আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিপদ মোকাবেলায় আপনি কী করবেন? কার সাহায্য নিবেন? তবে সিদ্ধান্তটি হতে হবে ভাবালুতমুক্ত এবং কার্যকরী।

 

সিদ্ধান্ত অনুসারে এগিয়ে যান

আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি নিশ্চয়ই কার্যকরী এবং উপযুক্ত। এখন সেটি নাস্তবায়ন করুন। অনেক সময় আমরা কঠিন বিপদেও সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমাধানে গড়িমসি করি, যা আত্মবিধ্বংসি। এমন হতে পারে, কোনো ব্যক্তির সাহায্য লাগবে কিন্তু আপনার কাছে তা অমর্যাদাকর মনে হচ্ছে। এতে সমস্যা আরো দীর্ঘায়িত হয়। এসব ক্ষেত্রে অতীতের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়াই ভালো এবং কারো সাহায্য নিলে যদি বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় তাহলে দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে সাহায্য নিন।

 

পরামর্শ নিন

মনোবিজ্ঞানীরা সব সময় বলেন, রাগ, ক্ষোভ, জমানো দুঃখ-কষ্টগুলো শেয়ার করতে। এতে মন অনেক হাল্কা হয়ে যায়। এ কারণে বিপদে পড়লে নির্ভরযোগ্য কারো কাছে পরামর্শ চেয়ে শেয়ার করুন। আপনি বিপদগ্রস্ত হলে আপনার বিবেচনা শক্তি লোপ পেতে পারে। কিন্তু যার কাছে আপনি বলবেন, তিনি বাইরে থেকে দেখে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে দিতে পারবেন। এজন্য আপনি পরামর্শ চাইবেন তার কাছে, যিনি আপনার বিপদে খুশি কিংবা সুযোগ সন্ধানী না হয়ে বরং মহমর্মী হবেন এবং আপনার মতোই বিপদটা অনুভব করবেন।

 

বিপদ যখন পারিবারিক

আমরা অনেক সময় পারিবারিক বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ি। এগুলো বেশ ভোগায়। আপনি যদি পরিবারের কর্তা হন তাহলে তো আপনাকে সব সমস্যাই স্পর্শ করবে ফলে আপনি প্রায়ই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকবেন। আপনার পরিবারে নিশ্চয়েই এমন সদস্য আছে যাদের কাছ থেকে আপনি কখনো পরামর্শ নেননি। পারিবারিক সমস্যার ব্যাপারে অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বেশিরভাগ সময় এতে অভাবনীয় ফল পাবেন। আপনার পারিবারিক বন্ধন এমন যে, সবাই আপনার সহমর্মী হবে এবং সবাই মিলে বিপদের মোকাবেলা করলে মানসিক শক্তি পাবেন। শুধু তাই নয়, অনেক সহজে বিষয়টি সমাধানও হয়ে যাবে।

 

বিস্তৃত করুন বন্ধুত্বের বলয়

প্রতিটি মানুষ বন্ধু নির্বাচন করে চরিত্রের সঙ্গে মিল রেখে। আপনিও আপনার মানসিকতার সাথে মিল রেখে এমন বন্ধু তৈরি করুন, যারা সুযোগ সন্ধানী হবে না। আপনার নিশ্চয়ই সেই গল্পটি মনে আছে যেখানে দুই বন্ধু ভালুকের সামনে পড়েছিল। তখন সবল বন্ধুটি রোগা বন্ধুটি রোগা বন্ধুটিকে রেখে পালিয়েছিল। কিন্তু আপনাকে এমন বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনার সহযোগী হবে। সেই সাথে আপনাকেও হতে হবে বন্ধুদের দুঃখ সমান অনুরাগী যেমনটি আপনি তাদের কাছে আশা করেন।

 

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী তৈরি করুন

জাপানে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে- ‘Fall Saven time, Stand up eight.’ অর্থাৎ সাত বার তুমি বিপর্যস্ত হলেও অষ্টমবারে শক্ত হয়ে দাঁড়াও। জীবনে চলার পথে বিপর্যয় আসবেই, সব সময় হয়তো আমরা তার মোকাবেলা করতে পারি না, কিন্তু বিপদের মুখোমুখি হওয়ার মতো শক্তি যখন সঞ্চিত আছে তখন কিছু হটা চলবে না বরং নতুন করে চেষ্ট করতে হবে।
সম্রাট বাবর রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে ভারত আক্রমণ করেছিলেন এবং বেশ কয়েকবার ব্যর্থতার পরেও জয়ী হয়েছিলেন; প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিখ্যাত মোঘল সাম্রাজ্য, যা ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত টিকেছিল। এমন মানসিক কল থাকলেন কেবল আমরা বিপদগুলো মোকাবেলা করতে পারব।

 

যখন কিছুই করার নেই

কখনো কখনো আমাদের মাঝে নেমে আসে অস্বাভাবিক বিপর্যয়। যেগুলোর মোকাবেলা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে। যেমন ছোটবেলায় বাবার মৃত্য। এমন আরো অনেক বিপদ আসে যখন আমাদের কিছুই করার থাকে না। এসব ক্ষেত্রে সব কিছু মেনে নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। অতীতের হতাশা নয় বরং আগামীর স্বপ্নই আমাদের সজীব ও প্রাণবস্ত রাখবে। এক্ষেত্রে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উক্তিটি মনে রাখা দরকার। তিনি বলেছিলেন, ৩টি জিনিস তোমার মাঝে বৃত্তের মতো ঘুরে ঘুরে এলে তুমি সাফল্য পাবেই। এগুলো হলো-দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, এই প্রতিজ্ঞা অনুসারে তোমাকে সুচারুরূপে কাজটি সমাধা করতে হবে। আর তুমি যদি ব্যর্থ হও তাহলে আবার তোমাকে নতুন করে প্রাণ শক্তি অর্জন করে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা হতে হবে।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

একটি বড় প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে

একটি বড় সৃজনশীল প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে

বাংলা ১ম ও ২য় পত্র শামীম সিদ্দিকী বাংলা বর্ণামূলক উত্তরে ৮০% নাম্বার পাওয়ার প্রথম পূর্বশর্ত, …

2 comments

  1. https://www.viagrapascherfr.com/viagra-feminin-achat-urgent/

    This is my first time pay a visit at here and i am actually pleassant to read all
    at one place.

  2. https://www.viagrapascherfr.com/commander-du-viagra-sans-ordonnance/

    I blog often and I genuinely thank you for your information. The article has really
    peaked my interest. I am going to bookmark your website and keep checking
    for new information about once a week. I opted in for
    your Feed too.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *