Home / পড়ালেখা / বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষা
বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষা

বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষা

অগ্রসরমান বিশ্বে সনাতনী সাধারণ বিষয়গুলোর তুলনায় কারিগরি কর্মমুখী শিক্ষার অবস্থান বরাবরই শীর্ষে। এ মাধ্যমে পড়াশোনা করে শুধু দেশেই নয় বিদেশেও রয়েছে সম্মানজনক ক্যারিয়ারের হাতছানি।

লিখেছেন – ইভান জামান ও দীপন দেবনাথ

সাধারণভাবে কারিগরি শিক্ষা বলতে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণকে বুঝায়। সাধারণ শিক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের যে বিষয়গুলো শেখানো হয় তার যান্ত্রিক ও বাস্তব প্রয়োগই হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা। পুঁথিগত বিদ্যা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা আর মেধার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীকে উৎপাদনমুখী কার্যক্রমের উপযোগী করে গড়ে তোলাই হলো কারিগরি শিক্ষার মূল লক্ষ্য। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীকে এই বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। বর্তমানে এই বোর্ডের অধীনে ৪৭টি সরকারি পলিটেকনিক, ১৫৬৬ টি বেসরকারি ভকেশনাল স্কুল, ৬৪ টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে। এছাড়া ১৩২৭ টি কলেজ এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) এবং ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ারের অধীনে ৩৫টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হতে এসএসসি ও এইচএসসি ভকেশনাল কোর্সসহ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জনেরও সুযোগ রয়েছে।

উল্লেগযোগ্য কোর্সসমূহ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারি, বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। কারিগরি শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য কোর্সসমূহ হলো-

এসএসসি ভকেশনাল

বিষয়সমূহঃ এগ্রো বেজড ফুড, অডিও ভিডিও সিস্টেম, অটোমোটিভ, বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স, উড ওয়ার্কিং, সিরামিক, সিভিল কনস্ট্রাকশন, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড অপারেশন, ড্রাফটিং (সিভিল), ড্রাফটিং (মেকানিক্যাল), ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং, গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারিং, ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং, ইলেকট্রিক্যাল, মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কস, ফার্ম মেশিনারি, ফিস কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং, ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন, জেনারেল মেকানিজম, লাইভস্টক, রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং মেশিন টুলস, অপারেশন, পোলট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, ফ্রুড অ্যান্ড ভেজিটেবল কালটিভেশন, উইভিং, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন, আর্কিটেকচারাল ড্রাফটিং উইথ অটোক্যাড, হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং, ইলেকট্রিক্যাল মেশিন মেইনটেন্যান্স, ফাউন্ড্রি ওয়ার্কস, জেনারেল ইলেকট্রিকাল ওয়ার্কস, গ্লাস ইন্ডাসট্রিয়াল ইলেকট্রনিকস, নিটিং, মিডওয়াইফিং অ্যান্ড নার্সিং, শ্রায়াম্প কালচার অ্যান্ড ব্রিডিং, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কস, উড ওয়ার্কিং কার্পেন্ট্রি, রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন, স্পিনিং।

ভর্তি যোগ্যতাঃ ২ বছর মেয়াদি এসএসসি ভকেশনাল প্রোগ্রামের আওতায় যেসব কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় সেগুলো মূলত টেকনিক্যাল কোর্স। ভর্তিচ্ছুদের স্কুল, মাদ্রাসা হতে অষ্টম শ্রেণী বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এইচএসসি ভকেশনাল

বিষয়সমূহঃ এগ্রো, মেশিনারি, অটোমোবাইল, বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, ক্লোথিং অ্যান্ড গার্মেন্টস ফিনিশিং, কম্পিউটার অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, ড্রাফটিং অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, ওয়েল্ডিং অ্যান্ড ফেব্রিকেশন ইন্ডাসট্রিয়াল উ্ড ওয়ার্কিং, ওয়েট প্রসিসিং, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক ম্যানুফেকচারিং।

ভর্তি যোগ্যতাঃ ২ বছর মেয়াদি কোর্সটিতে ভর্তিচ্ছুদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে নির্ধারিত ট্রেডে এসএসসি ভকেশনাল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স

দেশ – বিদেশে ক্রমবর্ধমান জনশক্তির চাহিদার প্রেক্ষিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৬৮ সাল থেকে ডিপ্লোমা ইন কমার্স, ১৯৯৫ – ৯৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) শিক্ষাক্রম চালু হয়। উভয় শিক্ষাক্রমের কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি কোর্স স্ট্রাকচার প্রবিধান ও সিলেবাস পরিমার্জন করা হয়েছে।

বিষয়সমূহঃ বাংলা, ইংরেজি, কম্পিউটার, অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ব্যবসায় গনিত ও পরিসংখ্যান, হিসাব বিজ্ঞান, অর্থনীতি, ব্যবসায় সংগঠন, বিজনেস ইংলিশ অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ব্যবস্থাপনা নীতি ও পদ্ধতি, অফিস ম্যানেজমেন্ট, বাণিজ্যিক ভূগোল, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও কনসেপ্ট, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, সেক্রেটারিয়েল প্রাকটিসেস, লাইফ স্কিল ডেভলপমেন্ট, প্রডাকশন প্ল্যানিং কন্ট্রোল অ্যান্ড কস্টিং, ব্যাংকিং ও বীমা, ব্যবসায় উদ্যোগ, উচ্চতর হিসাব বিজ্ঞান, ক্ষুদ্র ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং হিসাব রক্ষণ, শিল্প কারখানায় বাস্তব প্রশিক্ষণ।

ভর্তি যোগ্যতাঃ ২ বছর মেয়াদি এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স কোর্স দুটিতে ভর্তিচ্ছুদের অনুমোদিত স্কুল, বোর্ড কিংবা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসমূহ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত দেশের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের ৪টি শাখায় ভর্তি নেওয়া হয়। এগুলো হলো-

ডিপ্লোম ইন ইনঞ্জিনিয়ারিং

বিষয়সমূহঃ আর্কিটেকচার, অটোমোবাইল, কেমিক্যাল, সিভিল (উড), কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফুড, পাওয়ার মেকানিক্যাল, প্রিন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, গ্লাস, সিরামিক, এ্যারোস্পেস (এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং), মেরিন, শিপ বিল্ডিং, সার্ভেয়িং, মেকাট্রনিক্স, কনস্ট্রাকশন, টেলিকমিউনিকেশন, এনভায়রনমেন্টাল, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইলেকট্রো মেডিকেল, আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ডিজাইন, মাইনিং অ্যান্ড মাইন সার্ভে, গার্মেন্টস ডিজাইন অ্যান্ড প্যাটার্ন মেকিং, ইন্সট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল, ডাটা টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং।

ভর্তি যোগ্যতাঃ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ দুটি শিফটে ভর্তি নেওয়া হয়। ১ম শিফটে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সাধারণ গণিতে জিপিএ – ৩ সহ ন্যূনতম জিপিএ – ৩ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। ২য় শিফটে ভর্তিচ্ছুদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় সধারণ গণিত বা উচ্চতর গণিতে জিপিএ – ৩ বা ৫০% নাম্বারসহ নূন্যতম জিপিএ – ৩ বা ৫০% নাম্বারসহ ২য় বিভাগ থাকতে হবে। বেসরকারি ইনস্টিটিউটসমূহে ভর্তিচ্ছুদের সাধারণ গণিত বা উচ্চতর গণিতে জিপিএ – ২ বা ৪০% নাম্বারসহ নূন্যতম জিপিএ – ২.৫০ থাকতে হবে।

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং

বিষয়সমূহঃ ইয়ার্ন ম্যানুফেকচারিং, ফেব্রিক্স ম্যানুফেকচারিং টেকনোলজি, ওয়েট প্রসেসিং টেকনোলজি, গার্মেন্টস অ্যান্ড ক্লথিং টেকনোলজি।

ভর্তি যোগ্যতাঃ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং – এর অনুরূপ।

ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার

ভর্তি যোগ্যতাঃ ৪ বছর মেয়াদি কোর্সটিতে ভর্তিচ্ছুদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় নূন্যতম জিপিএ – ৩ থাকতে হবে। অথবা অন্যান্য বিভাগ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের সাধারণ গণিত বা সাধারণ বিজ্ঞানে জিপিএ – ২ সহ নূন্যতম জিপিএ – ৩ থাকতে হবে। তবে বেসরকারি ইনস্টিটিউটসমূহে ভর্তিচ্ছুদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞানে নূন্যতম জিপিএ – ২.৫ বা ২য় বিভাগ থাকতে হবে। অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত বা সাধারণ বিজ্ঞানে জিপিএ ২.৫০ প্রাপ্তরাই আবেদন যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

ডিপ্লোমা ইন হেলথ টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস

বিষয়সমূহঃ ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপি, ফার্মা, ল্যাবরেটরি রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং ইন্টিগ্রেটেড মেডিকেল ও পেশেন্ট কেয়ার।
ভর্তি যোগ্যতাঃ ৩ বছর মেয়াদি কোর্সটিতে ভর্তিচ্ছুদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে নূন্যতম ২.৫০ বা ২য় বিভাগ থাকতে হবে। অন্যান্য বিভাগ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণ গণিত বা সাধারণ বিজ্ঞানে জিপিএ – ২ বা ৪০% নাম্বারসহ ন্যুনতম জিপিএ ২.৫ বা ২য় বিভাগ প্রাপ্তরা আবেদন করতে পারবে।

ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি

ভর্তি যোগ্যতাঃ ৩ বছর মেয়াদি এই কোর্সটিতে ভর্তিচ্ছুদের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে নূনতম জিপিএ -৩ থাকতে হবে।

পড়ার জায়গা

এসএসসি ও এইচএসসি (ভোকেশনাল)
বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলা শহরেই টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ রয়েছে। পাবনা, রংপুর এবং সিলেট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আসন সংখ্যা ৩০০। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আসন সংখ্যা ১২০।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

জ্যামিতি ও গাণিতিক সমস্যাগুলি ঠিকভাবে লিখলে পূর্ণ নাম্বার পাওয়া সম্ভব

জ্যামিতি ও গাণিতিক সমস্যাগুলি ঠিকভাবে লিখলে পূর্ণ নাম্বার পাওয়া সম্ভব

অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অর্থনীতি একটু কঠিন বলে মনে হয়। কিন্তু সঠিকভাবে ও নিয়মিত পড়ালেখা করলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *