Home / পড়ার বিষয় / ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং
ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং

ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং

একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি অপরিহার্য। আর কর্মক্ষম জনশক্তির জন্য সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখানেই একজন চিকিৎসাকের পাশাপাশি রয়েছে নার্সের ভূমিকা। নার্সি বিষয়ে পড়াশোনা করে দেশে-বিদেশে সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন আপনি।

লিখেছেন-মোঃ মহিউদ্দিন

 

প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন নতুন রোগের সংক্রমণ, মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিধ রোগ। রোগমুক্তির জন্য মানুষকে ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালে। মূলত হাসপাতালেই মানুষ পরিচিত হচ্ছে নার্স বা সেবিকাদের সঙ্গে। রোগীর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ এবং নার্সের সেবা একে অপরের পরিপূরক। কেননা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো; রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মূল দায়িত্ব একজন নার্সকেই পালন করতে হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নামেমাত্র কিছু প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা এবং প্রাইমারি কোর্স চালু থাকলেও এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য কিছুদিন আগেও দেশে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিটি) এবং স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং বিভাগটি খোলা হয়েছে।

 

যে বিষয়গুলো পড়ানো হয়

মূলত বিদেশের ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং কোর্সের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই বাংলাদেশে এই বিষয়ের কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে এই বিষয়টি স্কুল হেলথ সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত। ৪ বছর মেয়াদি এই কোর্স ১২ টি সেমিস্টার মোট ১৫০ ক্রেডিটে পাঠদান করা হয়।

 

আইইউবিটতে এই বিষয়টি ৪ বছর মেয়াদি হলেও ১১টি সেমিস্টার মোট ১৪৩ ক্রেডিটে পাঠদান সমাপ্ত হয়। এখানে মেজর সাবজেক্ট হিসেবে পড়ানো হয় হিউম্যান এনাটমি, হিউম্যান ফিজিওলজি, ইনট্রোডাক্টরি নার্সিং, কনসেপ্ট অব ফার্মাকোলজি, ইনট্রোডাক্টরি নার্সিং, কনসেপ্ট অব হেলথ অ্যান্ড ইলনেস, ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড নার্সিং, মেন্টাল হেলথ নার্সিং,কম্যুনিটি নার্সিং, নার্সিং অ্যাডমিনস্ট্রেশন, পপুলেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং, সেমিনার অ্যান্ড রিসার্চ ইন নার্সিং। নন মেজর সাবজেক্ট হিসেবে পড়ানো হয় বেসিক ইংলিশ, ফিজিওলজি, ম্যাথমেটিকস জেনারেল কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, মাইক্রোবায়োলজি, পরিসংখ্যান, অ্যাপ্লায়েড ক্যালকুলাস, ইকনেনামিক্স।

 

ভর্তি যোগ্যতা

ভর্তিচ্ছু প্রার্থীকে মাধ্যমিক বা সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষার প্রত্যেকটিতে নূন্যতম জিপিএ -২.৫ পেতে হবে। বিজ্ঞান, মানবিক এবং বাণিজ্য যে কোনো শাখার ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম জিপিএ-২ থাকতে হবে। এছাড়া যেসব ছাত্রছাত্রী নার্সিং সায়েন্সে ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন তারাও আবেদন করতে পারবেন।

 

পরীক্ষা পদ্ধতি এবং কোর্স ফি

আইইউবিটিট এবং স্টেট ইউনিভার্সিটিতে জিপিএ’র ভিত্তিতে মেধা তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তবে, মেধা তালিকায় জিপিএ সমান হলে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়।

 

আইইউবিটিতে ভর্তির জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লাগে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক এবং এর সমমান পরিক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কোর্স ফি মওকুফের ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রায় তিন লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। এখানেও মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষর্থীদের জন্য বিভিন্ন ছাড় রয়েছে।

 

ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

এ বিষয়ে পড়াশোনা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং যে কোনো সমাজ সেবামূলক এনজিওতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া পর্যটন কর্পোরেশন, হোটেল মোটেল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাপর কাজ এবং বিদেশেও কেরিয়ার গড়া যাবে। বিএসসি ইন নার্সিং পাশ করে CGFNS (Commission on Graduates of foreign Nursing Schools) এর পরীক্ষায় পাশ করে কানাডা সরকারের অধীনেও কাজ পেতে পারেন আপনি। এছাড়াও সফলভাবে বিসিএস দিয়ে প্রজাতন্ত্রের ক্যাডার হয়ে সম্মানজনক পেশাজীবন গড়ার সুযোগ তো রয়েছেই।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

বিশ্ব অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবসা-বানিজ্যের উপর। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস পড়ে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *