Home / কেরিয়ার / কেরিয়ার কাউন্সেলিং / মিডিয়ায় চাকরির সুযোগ | মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ( শেষ পর্ব )
মিডিয়ায় চাকরির সুযোগ মিডিয়ায় ক্যারিয়ার শেষ পর্ব

মিডিয়ায় চাকরির সুযোগ | মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ( শেষ পর্ব )

সাংবাদিকতা একটি প্রফেশনাল কোর্স। অর্থাৎ এই কোর্স করে খুব বেশি লোককে ঘরে বসে থাকতে হয় না। সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন রকমের খবরের কাগজ বা জনসংযোগ বিভাগে চাকরি পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। খবরের কাগজে ফ্রিল্যান্সাররা রেডিও – টিভিতে স্ট্রিঙ্গারের চাকরি পেতে পারেন। খবরের কাগজে নিউজ রিপোর্টার, সাব এডিটর, কমেন্টেটর, ক্রিটিক, লিডার – রাইটার, করেসপন্ডেন্ট, অ্যাসিট্যান্ট এডিটর, কার্টুনিস্ট, অার্টিস্ট, ফটোগ্রাফার, কম্পোজার, এনগ্রেভার, প্রুফরিডার – এর মতো নানাধরনের পদ থাকে।

কম্পিউটারের যুগে পাতা তৈরির কাজটাও হয় সফটওয়ারের দৌলতে। তাই কোয়ার্ক এক্সপ্রেস, অ্যাডব পেজমেকার, অ্যাডব ফটোশপ, কোরেল ড্রয়িং ডিটিপি জানা প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রোগ্রাম অ্যানাউন্সার, নিউজ রিডার, প্রোডিউসার, নিউজ রিপোর্টার, নিউজ এডিটর, টিভি ফটোগ্রাফার বা ক্যামেরাম্যানের মতো পদে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় সাধারণত জার্নালিজম পাশ করা প্রার্থীকেই সুযোগ দেওয়া হয়। খবর সংগ্রহ করা, সংক্ষেপে খবর জোগান থেকে এডিটিং হয়ে সংবাদ পরিবেশন করা পর্যন্ত প্রতিটি কাজে দখল থাকাকে একজন প্রার্থীর বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়। বিভিন্ন সংবাদসংস্থায়ও চাকরির সুযোগ আছে।

যে গুণগুলো লাগবে

• সফল সাংবাদিক হওয়ার অ-আ-ক-খ প্রিন্ট অথবা ইলেকট্রনিক মিডিয়া যাই হোক না কেন, সংবাদমাধ্যমে কাজ করার জন্য সবার আগে দরকার খবর সম্পর্কে বোধ ও গভীরতা। ইংরেজিতে একে বলে নিউজ সেন্স। পরিবেশন করা খবর পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছে কি না, তা একজন সাংবাদিকের যোগ্যতার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সময়ের সঙ্গে সমানতালে চলার মানসিকতা ও স্বচ্ছ, পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি ভালো সাংবাদিক হয়ে ওঠার চাবিকাঠি।

• সাংবাদিকতার কাজে দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে কোনো খবর সংগ্রহ করতে না পারলে অন্য সাংবাদিকদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু ইলেকট্রনিক অর্থাৎ টিভি জার্নালিজমে কোনো ছবি একবার ধরতে না পারলে আর সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই চব্বিশ ঘন্টা চোখ কান খোলা রাখতে হবে। একটানা অনেকক্ষণ কাজ করার মতো শারীরির ও মানসিক ক্ষমতাও থাকা চাই। পেশায় রাতেও ডিউটিও করতে হয়।

• এই পেশায় উচ্চশিক্ষাকে অনেক সময় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হলেও অন্তত স্নাতক হতেই হবে। ভাষায় দখল, সংক্ষেপে ও সহজে লেখার ক্ষমতা ও সুন্দর বাচনভঙ্গি থাকা দরকার। টিভি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ক্যামেরা পরিচালনা ক্ষমতা ও সেই সঙ্গে সাউন্ড ও এডিটিং সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষমতা থাকাও জরুরি। যে কোনো বিষয়ে আগ্রহ ও প্রাথমিক ধারণা সফল সাংবাদিক হয়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। নিজেকে সব সময় আপডেটেড রাখতে হবে। শখে পড়ে সাংবাদিকতা না করাই ভালো।

• জার্নালিজম বা মাস কমিউনিকেশন না পড়লেও সাংবাদিক হওয়ার যায় বা অন্য কোনো গণমাধ্যমে কাজ পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে স্নাতক হওয়া অবশ্যই জরুরি। তবে লেখার হাত ও কথা বলার গুণ থাকতে হবে। শিল্পের প্রতি আগ্রহ থাকলেও এই পেশায় জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। অনেক সংবাদপত্র বা টিভিতে পরীক্ষার মাধ্যমে সাংবাদিক নেওয়া হয়, জার্নালিজম না পড়লেও চলে। বেসরকারি সংস্থায় বিজ্ঞাপন দিয়ে লোক নেওয়া হয় বটে, কিন্তু বিজ্ঞাপন না বের হলেও আবেদনপত্র ও সিভি জমা দেওয়া যায়। এসব আবেদনপত্র যাচাই করে কর্মী নিয়োগ করা হয়।

• সংবাদসংস্থায় সাংবাদিক হিসেবে চাকরি করতে গেলে গ্র্যাজুয়েট হতেই হবে। ইংরেজি ভাষায় দখল থাকলে ভালো হয়। গ্র্যাজুয়েশনের পর জার্নালিজমে পোস্ট গ্র্রাজুয়েট ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। উপস্থিত বুদ্ধি, ছোট করে খবর লেখার কায়দা জানা, নির্ভুলভাবে খবর ডেসপ্যাচ করার ক্ষমতা আর শারীরিক দক্ষতা থাকলে সংবাদ সংস্থায় চাকরি পাওয়া কঠিন হবে না। বিজ্ঞাপন ছাড়াও মাঝে-মধ্যে নিউজ এজেন্সিতে লোক নেওয়া হয়। এজন্য দফতরে আবেদনপত্র জমা রেখে যেতে হবে।

অন্যান্য গণজ্ঞাপনে কাজের সুজোগঃ

সাংবাদিকতায় পড়াশোনা করে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশনে চাকরি করতে না চাইলেও বিজ্ঞাপন সেক্টরে চাকরির সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞাপন জগতে কজগুলো নিম্নরূপ-

ক্লায়েন্ট সার্ভিসিংঃ কোনো বিজ্ঞাপনদাতা বানিজ্যিক সংস্থা, পণ্য উৎপাদক সংস্থা বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার ব্যবসা বা সুনাম বাড়ানোর দায়িত্ব থাকে অ্যাড এজেন্সির উপর। ক্লায়েন্ট সার্ভিসিংয়ে যিনি ওই ক্লায়েন্টের অ্যাডভার্টাইজিং দেখাশোনা করেন, তার সঙ্গে প্রতিদিনের কাজের বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই যোগাযোগ বাড়ানো হয়।

মিডিয়া এক্সিকিউটিভঃ ধরুন কোনো ক্লায়েন্ট একটি নতুন পণ্য বাজারে আনতে চাইছেন। তার বিক্রি বা সার্ভিস বাড়ানোর জন্য কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা ঠিক হবে, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করেন মিডিয়া এক্সিকিউটিভ।

প্রোডাকশন ভিজ্যুয়ালাইজারঃ বিজ্ঞাপনের মূল বিষয়বস্তু ও চিত্রায়ণের পরিকল্পনা করে তার স্কেচ করে দেন প্রোডাকশন ভিজ্যুয়ালাইজার।

কপি রাইটারঃ আর্টিস্টের ছবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরিমিত স্থান ও লে আউট অনুযায়ী কী লিখতে হবে সে দায়িত্ব কপি রাইটারের।

প্রোডাকশন এক্সিকিউটিভঃ খবরের কাগজ, হোডিং বা অন্যান্য মিডিয়ার জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি করে তা পাঠানোর কাজ প্রোডাকশন এক্সিকিউটিভের। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা টিভি বা রেডিও স্পট নির্মাতাদের সাহায্যে বিজ্ঞাপন তৈরি করেন।

এছাড়া অ্যাকাউন্টস, করেসপন্ডেন্স, ডিটিপি অপারেশন, প্ল্যানিং ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদেও অভিজ্ঞ লোকের প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রেও সাংবাদিকতার ছাত্রছাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

ওয়েবেও রয়েছে ক্যারিয়ারের সুযোগ

ওয়েবেও রয়েছে ক্যারিয়ারের সুযোগ

বর্তমান বিশ্বে অনলাইন শপিং থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, গবেষণা, শেয়ার বাজার, বিমানের টিকিট, খবর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *