Home / ফিচার / পরামর্শ / সহকর্মী যখন সমস্যার কারন
সহকর্মী যখন সমস্যার কারন

সহকর্মী যখন সমস্যার কারন

হাতের পাঁচ আঙ্গুলের মতো সবাই সমান নন। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর কোনো আচরণ কিংবা স্বভাব আপনার বিরক্তির মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সমস্যা এড়াতে কৌশলী হতে হবে আপনাকেই।

 

সহকর্মী কোন কোন সমস্যার কারন হতে পারে, আর তার সমাধানই বা কি

এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন
আহমেদ শরীফ

 

অফিসে ম্যানেজমেন্ট লেভেলে বিভিন্ন সমস্যার কারণে চরাই উৎরাই প্রায় সময়ই দেখা যায়। ঠিক ঐ রকম পরিস্থিতিতে অফিসের কিছু সহকর্মীর আচরণে আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ ও অফিসের কিছু সহকর্মীর আচরণে আপনার কাজের প্রতি আগ্রহ ও অফিসের পরিবেশ দুটোই নষ্ট হতে পারে। ‘নির্বোধ সহকর্মী’ কিংবা ‘অফিস ভাঁড়া’ যাই বলুন না কেন এদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আপনাকে কৌশলী হতে হবে। কেননা কোনো কারণ ছাড়াই মানসিকভাবে অনেকেই গায়ে পড়া স্বভাবের হতে পারেন। অনেকেই আছেন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। আবার অনেকেই আছেন অফিসে উচ্চস্বরে কথা বলেন। এমন লোকের প্রধান কাজই হলো সবার কছে নিজেকে প্রিয় করে তোলা। কর্মক্ষেত্রে বিষয়টি যদি ব্যাঘাত সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে নিচের সমাধানগুলো লক্ষ্য করুন।

 

সমস্যাঃ সহকর্মী যখন উচ্চ স্বরে ফোনে কথা বলে

সমাধানঃ লক্ষ্য করলে দেকবেন, অফিসে কেউ হয়তো আছেন অকারণে উচ্চ স্বরে কথা বলেন। হতে পারে তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এমনটি করেন। কিংবা এটি তার অজান্তে জন্ম নেওয়া অভ্যাস। বলতে শুরু করলে আর থামতেই চায় না। অনেক সময় তার ফোনালাপ ম্যারাথনের মতো চলতে থাকে। এত সহকর্মীদের সমস্যা হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে তার ভ্রূক্ষেপ নেই। এক্ষেত্রে ওই সহকর্মীকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আলাদা ডেকে বলুন যে, তার জন্য সবার সমস্যা হচ্ছে। অফিসের ফোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শোভনীয় নয় এটিও তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন। এতে কাজ না হলে কাগজে লিখে তাকে সংক্ষেপে কথা শেষ করার তাগিদ দিন। তাতেও কাজ না হলে তার পাশে দাঁড়িয়ে তারই মতো মোবাইলে কথা চালিয়ে যান। এতেই তিনি চুপসে যেতে পারেন। কেননা আকেলমানকে লিয়ে ইশারাই কাফি।

 

সমস্যাঃ সহকর্মী যখন আড্ডাবাজ

সমাধানঃ অফিসে কিছু উদ্দোগী আড্ডাবাজ থাকে। তারা গায়ে পড়ে আড্ডা দিতে পছন্দ করেন। অনেক সময় আপনি তাকে চেষ্টা করেও বুঝাতে ব্যর্থ হবেন। এক্ষেত্রে উপায় আছে। যখনই দেথবেন ওই ধরনের সহকর্মী আপনার কাছাকাছি আসছে, তখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ব্যস্ততার ভান করুন অথবা টয়লেটের দিকে চলে যেতে পারেন। অর্থাৎ তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। সুযোগ পেলেই সে আপনার কাজেরপ্রতি মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাবে। ভদ্রতার খাতিরে আপনি তাকে কিছু বলতেও পারবেন না। সুতরাং কৌশলী না হয়ে উপায় কী? আপনার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে ঐ সহকর্মী বুঝে নেবেন আপনি আড্ডা দিতে প্রস্তুত নন।

 

সমস্যা : আইডিয়া হাতিয়ে নেওয়া সহকর্মী

সমাধান: কর্মক্ষেত্রে এমন সহকর্মী দেখা যায় যার অন্যের আইডিয়া চুরি করে বসের কাছে কৃতিত্ব পেতে চায়। সুবিধাবাদী এসব সহকর্মীর কাছ থেকে পরিত্রাণ পেতে একটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন। আর তার সঙ্গে শেয়ার করুন। তাকে ওই আইডিয়ার বিশেষত্ব বুঝিয়ে বলুন। বিষয়টি যে গুরুত্বপুর্ণ যুক্তি দিয়ে তার সামনে তুলে ধরুন। এতে সে আইডিয়ার প্রতি আগ্রহী হলেই বিষয়টি তার জন্য হিতে বিপরীত হবে। তবে আপনার নৈতিকতা ও গ্রহণযোগ্যতার খাতিরে এ ধরনের চেষ্টা একাধিকবার চালাবেন না।

 

সমস্যা: মিটিংয়ে আধিপত্য বিস্তারকারী সহকর্মী

সমাধান: এক ধরনের সহকর্মী দেখা যায়, যারা অফিসের মিটিংয়ে সবসময় আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এরা অনেকটা উচ্চ স্বরে কথা বলা সহকর্মীর মতোই। এরা বক্তা, ভালো শ্রোতা নয়; হতেও চায় না। হতে পারে বিষয়টি সে কখনও ভেবে দেখারও প্রয়োজন বোধ করেনি। এক্ষেত্রে তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তারপর কথার রেশ ধরেই তার প্রস্তাবনার দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে তার কাছে জানতে চান। অর্থাৎ তাকেই কথা বলার সুযোগ দিন। এর বিপরীতে আপনার ব্যতিক্রম ও বুদ্বিদীপ্ত আইডিয়াগুলো মিটিংয়ে উপস্থাপন করুন। এতে অযাচিত কর্তৃত্ব সৃষ্টিকারী ঐ সহকর্মী হয়তো ভবিষ্যতে একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাবে না। ফলে আপনার মতো অন্যদেরও কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে।

 

সমস্যা: সেকশন বসের লাগাতার ঝারি

সমাধান: আপনি যে সেকশনে কাজ করছেন সেই সেকশনের বস যদি বদমেজাজী হন তাহলে টিকে থাকা কষ্টকর। এক্ষেত্রে অহেতুক ভয় পাবেন না। প্রথমে এমন আচরণের কারণগুলো খুঁজে বের করুন। সে কি সব সময় সঠিক? যদি না হয় তাহলে আপনি ব্যক্তিত্ব নিয়ে তার মুখোমুখি হন। বিনয়ের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনাও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন, বস কখন খোশমেজাজে থাকেন। তাকে অহেতুক আপনার উপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ দেবেন না। আপনি নিষ্ঠার সঙ্গে আপনার কাজ করুন। সময় বুঝে তাকে বলুন আপনার সঙ্গে বন্ধুত্বপূ্র্ণ আচরণ করার জন্য। এতে ব্যর্থ হলে উর্ধ্বতন বসের কাছে বিষয়টি জানান। কেননা একাধারে এমন হতে থাকলে আপনি সেখানে স্থির হয়ে কাজের সুযোগ পাবেন না। অফিসের সময়টুকুতে মানসিক শান্তিও নষ্ট হবে। সুতরাং সঠিক অবস্থানে থেকে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এবং এটা করতে হবে নিজেকেই।

 

সমস্যা: সহকর্মী যখন প্রতিদ্বন্দ্বী

সমাধান: সহকর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী হলে সমস্যার কিছু নেই। যদিও এক সময় বিষয়টি রেষারেষির পর্যায়েও চলে যেতে পারে। কিন্তু এমনটি হলে ক্ষতি আপনারই বেশি হবে। আপনি আপনার কাজ করুন, তাকে তার কাজ করতে দিন। সবসময় কাজের মধ্যে দিয়ে তার চেয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে ভালো হয় এক্ষেত্রে সহকর্মীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। সে আপনার দিকে তাকিয়ে হাসলে আপনিও সাড়া দিন। বুঝিয়ে দিন এটা কেবল ভদ্রতা। ভালো মনে না হলে ভুলগুলো নিয়ে উপদেশমূলক নয় পরামর্শমূলক আলোচনা করুন। এতে আপনার সম্পর্কে সে নতুন করে ভাবতে শুরু করবে। ভালো মনে হলে ধীরে ধীরে তার সঙ্গে আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

উপরে উল্লেখিত সহকর্মীদের যদি উপেক্ষা করতে পারেন, তবে সেটাই হবে ভালো সমাধান। কিন্তু তারা যদি তাদের বিরক্তিকর আচরণ অব্যাহত রাখে তবে আপনারও বিকল্প উপায় ভাবতে হবে। বেশির ভাগ মানুষ তাদের আচরন সম্পর্কে সচেতন নন। সেক্ষেত্রে সহকর্মীরাও ব্যতিক্রম নন। তাই প্রথমে তাদেরকে নিজেদের আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলুন। প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যানেজমেন্টের উপরে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেখানে প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ করে দিন। না পারলে উপরের পন্থাগুলো অবলম্বন করুন। বিষয়টি আপনার আয়ত্তের বাইরে চলে গেলে ঊর্ধ্বতন কাউকে জানান।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ – ১২ ঘন্টা পড়তে হবে

বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া যতটা সহজ, এইচএসসিতে ততটা সহজ নয়। তাই …

3 comments

  1. 🙂 🙂 🙂

  2. Nice, onek valo lagche posti

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *