Home / অন্যান্য / সফলদের গল্প / সাফল্যের কোনো সহজ সিঁড়ি নেই
সাফল্যের কোনো সহজ সিঁড়ি নেই রামেন্দু মজুমদার

সাফল্যের কোনো সহজ সিঁড়ি নেই

ছেলেবেলা কেটেছে লক্ষ্মীপুরে। বাবা-মা,ভাই-বোন, এদের সাথেই কেটেছে আমার শৈশব। স্কুল জীবনটাও সেখানেই। শৈশবের কত যে স্মৃতি জাড়িয়ে আছে সেখানে বলে শেষ করা যাবে না।

রামেন্দু মজুমদার এর সফলতার গল্প

 

নাটকে আমার আসাটা পরিবার থেকেই। পরিবারের অনেকেই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের হাত ধরে চলে আসা। স্কুল জীবন থেকেই অভিনয় করছি। আমাদের সে সময়ে স্কুলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা খুব কমই হতো। তবে বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। সেখানে অভিনয় করতাম। আমার প্রথম অভিনয় ছিল ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে। সেখানে আমি সেনাপতির চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। মজার ব্যাপার হলো ওই নাটকে আমার দুই বাক্যের ডায়লগ ছিল। প্রথম মঞ্চে অভিনয়ের শিহরণ আজও ভুলবার নয়। তারপর সময় পেরিয়ে গেছে তার আপন গতিতে। ১৯৫৮ সাল থেকে মঞ্চাভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক হিসেবে কাজ করছি। এরপর ১৯৬৩ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অনার্সে ভর্তি হলাম, তখন ‘ঢাকা ছাত্র শিক্ষক নাট্য সমিতি’ এর সঙ্গে জড়িত হলাম। এবং ১৯৬৫ সালে প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করলাম মনির চৌধুরির ‘ একতারা দোতারা’ নাটকে। এটি ছিল ঢাকা টিভির প্রথম প্রচারিত নাটক। তবে বাংলাদেশ বেতারে নাট্যশিল্পী হিসেবে ১৯৬১ সাল থেকে কাজ করছি। এরপর যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় সে সময় আমর ইচ্ছে ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করার। যদিও সে সুযোগ হয়ে ওঠে নি। তবে ১৯৭০ সালে নির্বাচনের সময় আমি পত্রিকায় বক্তৃতা সংকলন করতাম। সেটা দিল্লী থেকে প্রকাশিত হতো।

 

১৯৭০ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নাট্যশিল্পীর পাশাপাশি আমি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করেছি। এ সময়ের মাছে নাট্যশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন নম্মাননা পেয়েছি। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল পদক, নাট্যসভা পদক, অচিন্ত্য স্মারক সম্মান (কলকাতা) ও ঢাকা অ্যান্ড ক্লাব প্রদত্ত ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। আরও বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছি। এছাড়া অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন সাংগঠিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি। এর মধ্যে সাবেক সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট; নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী; প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি (আইটিআই), বাংলাদেশ কেন্দ্র এবং বর্তমানে সভাপতি, আইটিআই নির্বাহী কাউন্সিল (বিশ্বব্যাপী)।

 

এই পর্যায় পর্যন্ত এসে সফলতার কথা বলতে গেলে আমি বলব, সাফল্যের কোনো সহজ সিঁড়ি নেই। সাফল্য বলতে আমি তিনটি স্থানের সফলতা বুঝি। প্রথমত, পরিবারে সফলতা; দ্বিতীয়ত, কর্মক্ষেত্রে সফলতা এবং তৃতীয় কর্মক্ষেত্রে আরও কিছু করতে পারতাম বলে মনে হয় এবং তৃতীয়টার আরও কিছু করতে চান।

 

আইটিআই-এর নির্বাহী কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আমার একটি বড় পাওয়া এবং সাফল্য। এই সম্মান নাট্যচর্চার প্রতি স্বীকৃত সম্মান। এই সম্মান সকল নাট্যগোষ্ঠীর প্রচেষ্টার সম্মান।

 

ছোটবেলায় কখন স্বপ্ন দেখি নি অভিনেতা হব। বরং স্বপ্ন দেখেছিলাম বাবার মতো আইনজীবী হব। কিন্তু তারপরেও অধ্যাপনার সঙ্গে জড়িত হয়ে গেলাম। নোয়াখালি চৌমুহনী কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে ৩ বছর শিক্ষাকতা করেছি। তারপরে নাটকের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছি। এখন স্বপ্ন দেখি সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলার। দুর্নীতির মহাসাগরে দেশ আজ ডুবতে বসেছে। লালনের ভাস্কর্য র্ধ্বংস হচ্ছে। তাই নতুন, সফল দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

 

বর্তমান প্রজন্মের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, কেউ সাংবাদিক হতে চায়, কেউ যদি অভিনেতা হিসেবে সফল হতে চায় তাহলে সেই বিষয়টিকেই গভীরভাবে ভালবাসতে হবে। অর্থাৎ যে যাই হতে চাক না কেন তাকে সেই বিষয়ের প্রতি অবশ্যই আগ্রহ, ভালবাসা থাকতে হবে। তবেই সাফল্যের সিঁড়ি পাওয়া যাবে।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *