Home / ফিচার / পরামর্শ / একটি বড় সৃজনশীল প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে
একটি বড় প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে

একটি বড় সৃজনশীল প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে

বাংলা ১ম ও ২য় পত্র

শামীম সিদ্দিকী

বাংলা বর্ণামূলক উত্তরে ৮০% নাম্বার পাওয়ার প্রথম পূর্বশর্ত, আমি মনে করি, পাঠ্য বিষয় বা নির্ধারিত রচনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীর উপলব্ধির গভীরতা। উত্তরের সামগ্রিকতা নাম্বার পাওয়ার দ্বিতীয় পূর্বশর্ত। একটি উত্তর লেখার যে সীমিত সময়, তার মধ্যে সম্পূর্ণতা বা সামগ্রিকতা বিষয়টি আসলে একটু জটিল। এর মানে হলো, উত্তরটি পড়ে কেউ যেন বলতে না পারে যে রচনার ‘অমুক’ দিকটি তো এ উত্তরে লেখা হয়নি, সেটা আসা উচিৎ ছিল ইত্যাদি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে গেলে একই সাথে দুটি বিষয় জরুরি। একটি হলো সম্যক উপলব্ধি, আরেকটি হলো বর্ণনার উপযুক্ত ভাষাকৌশল। কেননা, একটি বড় প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১৮ মিনিট সময় নেয়া যেতে পারে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য সকল দিক নিয়ে আলোচনা- কাজটি সহজ নয়। গভীর মনোযোগ ও নিয়মিত চেষ্টার মাধ্যমেই কেবল তা আয়ত্ব করা সম্ভব।

প্রচলিত ‘ভাল’ উত্তরগুলোর যে সব ত্রুটি চোখে পড়ে এর মধ্যে লেখক বা কবি সম্পর্কে লাগামহীন বিশ্লেষণ প্রয়োগ প্রধান। বুঝে-শুনে না লেখার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুণবাচক এ শব্দগুলোর ভুল বা অপপ্রয়োগ প্রদত্ত উত্তরকে ভারাক্রান্ত করে।

দ্বিতীয় সীমাবদ্বতা হিসেবে চোখে পড়ে ধারণার অস্পষ্টতা। ভাষা চিন্তার বাহন। একটি রচনা সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট কিনা ভেবে দেখা জরুরী। প্রচলিত প্রচুর উত্তরপত্রে অহেতুক রহস্য বা ইন্দ্রজাল সৃষ্টিকারী কিছু ভারী ভারী শব্দের প্রয়োগ চোখে পড়ে। রচনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকয় বিষয়টি আড়াল করার কৌশল হিসেবেই সম্ভবত ব্যাপারটি ঘটে। এ ধরনের চালাকি প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এরকমও দেখা যায় যে, প্রথম প্যারায় যে বিষয়টি বলা হলো, চতুর্থ প্যারায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষায় মূলত একই বক্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এ সমস্ত বিষয়ে সচেতন থাকা A+ প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য একান্ত অপরিহার্য।

যে কোনো বড় প্রশ্নের মূল উত্তরে মোটামুটি ৮টি ‘প্যারা’ থাকতে পারে। তার সাথে উপযুক্ত মানের একটি ভূমিকা এবং উপসংহার। সতর্কতার বিষয় হলো ১৮ মিনিট সময়ে নির্ভুলভাবে এ রকম ৮+২=১০টি প্যারা বা পয়েন্ট লিখতে পারা খুবই চ্যালেঞ্জিং। নিয়মিত লেখার চর্চা করেই কেবল অনুরূপ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

’প্যারা’ বা ‘পয়েন্ট’ আসলে কী? রচনা সম্পর্কে এক একটি স্পষ্ট ধারণা, বক্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গীর উপস্থাপন। যা বলা হবে, পরিস্কার বোঝা যাবে। পরের অন্য কোনো প্যারার সাথে এর একটি সমন্বয় থাকতে পারে, কিন্তু একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

বাংলায় রচনামূলক উত্তরের ক্ষেত্রেও গাণিতিক বিষয়ের মতই নাম্বার পাওয়া সম্ভব, আমাদের অসম মেধাবী তরুণ প্রজন্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এই মর্মে সাহসী, আত্মপ্রত্যয়ী, দক্ষ আর পারঙ্গম হয়ে উঠতে পালেই বর্তমান বিশ্লেষণের প্রচেষ্ঠা সার্থক হবে বলে মনে করি। বাংলা দ্বিতীয় পত্র অর্থাৎ ব্যাকরণ অংশের উত্তর সতর্কতার সাথে দিতে হবে। একই সঙ্গে চিঠিপত্র, পতিবেদন/ভাষণ, ভাব-সম্প্রসারণ, প্রবন্ধ রচনা এসব বিষয়ে কাঠামোগত শদ্ধতার পাশাপাশি চিন্তাশীল বক্তব্য প্রকাশের প্রতি মনোযোগ দেয়া জরুরি। যারা ব্যাকরণে দুর্বল তাদের মূলত বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলোর আলোকে প্রস্ততি নেয়াই এ মূহুর্তে কর্তব্য।

উত্তরপত্রে কী করবে, কী করবে না

উত্তর লেখার সময় কখনোই অসমাপ্ত উপসংহার লিথবে না। এতে করে পরীক্ষক বিরক্ত বোধ করেন। অনেক শিক্ষার্থী ‘পরিশেষে বলা যায়’ বা ’সবশেষে’ বা ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে’ ইত্যাদি ধরনের শব্দ ব্যবহার করে। এ ধরনের কিছু না লেখাই ভাল।

উত্তরপত্রে মার্জিন : পরীক্ষার্থীরা অনেক সময় উত্তরপত্রে মার্জিন রাখার ক্ষেত্রে সঠিক নিয়মকানুন মেনে চলে না। অতিরিক্ত মার্জিনের ক্ষেত্রে উত্তর লেখার জন্য পৃষ্ঠার খালি জায়গা কমে যায়। আবার মার্জিনে জায়গা কম হলে পরীক্ষকের উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং নাম্বার প্রদান করতে সমস্যা হয়। তাই উত্তরপত্রের উপরের দিকে দেড় ইঞ্চি, বামদিকে এক ইঞ্চি এবং ডানদিকে আধা ইঞ্চি মার্জিন রাখা উচিত। আবার কেউ কেউ মার্জিন দেওয়ার জন্য পেন্সিল বা সাইন পেন ব্যবহার করে, যা মোটেও উচিত নয়। উত্তরপত্রটি ভাঁজ করে মার্জিন চিহ্নিত করাই উত্তম।

রঙ্গিন কালির ব্যবহার : শিক্ষাবোর্ড শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র লেখার জন্য শুধু কালো এবং নীল কালি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। তাই কালো ও নীল কালি ছাড়া অন্য কোনো রঙ্গের কালি ব্যবহার করা পরীক্ষার্থীদের উচিত নয়।

প্রশ্নের নাম্বার লেখা :  অনেক পরীক্ষার্থীই উত্তর লিখতে গিয়ে প্রশ্নের নাম্বার ভালভাবে লেখে না। আবার কেউ কেউ বাম পাশে বা খুব ছোট করে নাম্বারটি লিখে, যা মোটেও ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নের নাম্বারটি স্পষ্টভাবে খাতার মাঝখোনে লিখে নিচে দাগ দিয়ে দিবে।

পৃষ্টা অপচয় : উত্তর পত্রের পৃষ্টা অপচয় করা, জায়গা খালি রাখা, লেখার সময় দুই লাইনের মধ্যে বেশি দূরত্ব রাখা- পরীক্ষার্থীর অসৎ উদ্দেশ্যের পরিচয় বহন করে। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

দরকারি তথ্য : পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রের নিচের দিকে মাঝে বা ডান কোনায় ‘অঃপৃঃদ্রঃ’ চলমান পাতা’, PTO’ ‘পরবর্তী পৃষ্ঠায় দেখুন-লেখা থাকে। এগুলো ঠিক নয়। একজন পরীক্ষকের মূল দায়িত্ব হলো একটি উত্তরপত্রের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা করে তা যথাযথভবে মূল্যায়ন এবং নাম্বার প্রদান করা। তাই পরীক্ষককে উত্তরপত্রের পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখার অনুরোধ করে লেখা ঠিক নয়।

About Parves Ahmed

Parves Ahmed
অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজে চলেছি, নিজেকে জানার চেষ্টা করছি, নিজের পথে হেটে চলছি॥

Check Also

পরীক্ষায় ভালো করার উপায়

পরীক্ষায় ভালো করার সহজ উপায়

পরীক্ষা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ বা চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। এই চিন্তা বা উদ্বেগই পরীক্ষায় ভালো করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *