Home / হাতে কলমে / কিভাবে করবেন / হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করার পদ্ধতি
হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করার পদ্ধতি

হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করার পদ্ধতি

​কলম ,কালি,মন লিখে কিন্ত ৩টা

কলম,কালি ও গভীর মনোযোগ এক সাথে হলেই কিন্ত হাতের লেখা সুন্দর হতে বাধ্য
হাতের লেখা সুন্দর হওয়াটা খুবই জরুরী

আধুনিক যুগে লেখালেখি অনেক অফিসেই হয়না। সবাই কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্যাদি আদান প্রদান করেন। কিন্তু অল্প করে হলেও সবাইকেই লিখতে হয়। এই যেমন সিগনেচার করার সময় কিছু কমেন্ট, কিংবা পরীক্ষার সময় অথবা অটোগ্রাফ দেয়ার সময়। তাছাড়াও অনেক কাজে লেখার দরকার হয়। এটা সার্বজনীন পদ্ধতি যা থেকে রেহাই নেই। তাই হাতের লেখা সুন্দর করাটা প্রয়োজনীয়। তবে খারাপ হাতের লেখা নিয়ে যারা ইতিমধ্যেই নাজেহাল অবস্থায় আছেন তাদের জন্য আমার এই লেখাটি কিছুটা হলেও কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। এবার আসি কাজের কথায়।
কিভাবে হাতের লেখা সুন্দর করা যায়?

হাতের লেখা সুন্দর করা মোটেও কঠিন নয়। কয়েকটা ধাপে কিছু সময় অনুশীলন করলেই এর অনেক ভাল ফল পাওয়া যাবে। নিশ্চিত। ধাপসমুহ আমি নিচে বিস্তারিত বর্ননা করছি…
বর্নমালা অনুশীলন

আপনি প্রতিটি বর্ন কিভাবে লিখবেন তা আপনাকে প্রথমেই সিলেক্ট করে নিতে হবে। আপনারা হয়ত দেখেছেন কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডট পদ্ধতি কিংবা বর্ন দেখে তার পাশে বর্ন লেখা পদ্ধতিতে হাতের লেখা অনুশীলন করানো হয়। এই পদ্ধতিটি অনেক কার্যকরি। আপনি যদি একটি বর্ন সুন্দর করে দ্রুত লিখতে পারেন তবেই আপনি সুন্দর লেখা লিখতে পারবেন। যদি বর্ন দেখে বর্ন লেখার ক্ষেত্রে অক্ষরগুলো আঁকাবাকা কিংবা খুব বেশি হেলে দুলে যায় তবে ডট পদ্ধতি আবশ্যক। হাতের লেখা সুন্দর করা নিয়মের একটা রুপ মাত্র।
সোজা করে লেখা অনুশীলন

লেখা যদি সোজা না হয় তবে অনেক সমস্যা। একটি লেখা দেখতে সুন্দর দেখায় তখনি যখন সব লেখাগুলো সোজা সাজানো থাকে। বর্ন সোজা করার জন্য নিয়মিত ডট পদ্ধতি অনুশীলন করতে হবে। আর লাইন সোজা করার জন্য রুলার কিংবা রুল পেপারে লিখতে হবে। ইংরেজি লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই রুল পেপারে লিখে অনুশীলন করতে হবে।
স্পষ্ট অক্ষরে লেখা

বর্নমালা অনুশীলনের উদ্দ্যেশ্যই ছিল স্পষ্ট লেখা। যদিও অনেকেই দ্রুত লিখতে গিয়ে বর্নকে বিকৃত রুপে উপস্থাপন করেন। তাই যদি কোন বর্ন কেউ না বুঝতে পারে তবে তার প্রতি জোর দিন। যার লেখা যত দ্রুত পড়া যায় (লেখক ব্যতিত অন্য কেউ পড়তে হবে) তার লেখার মুল্য তত বেশি। তাই লেখার মুল উদ্দ্যশ্য যখন অন্যকে দিয়ে পড়ানো তখন পাঠকের কথাই মাথায় রাখবেন। স্পষ্ট করে লিখবেন।
সময় ব্যয় এবং টাইম ফ্রেম নির্ধারন

আপনি একদিনে হাতের লেখা পাল্টাবেন? পারবেন না। এটা এতটাই সহজ কিছু নয়। এর জন্য আপনাকে একটি টাইম ফ্রেম বেঁধে দিতে হবে। আমি সবসময় নতুনদেরকে একমাস সময় নিতে বলি। এবং প্রতিদিন একঘন্টা। যদি কেউ এর কম সময় দেন এবং পিছিয়ে আসেন তবে তিনি সত্যিই চেষ্টা করেন নি। অনেকের ক্ষেত্রে আর আগেই হয়, কন্তু বেশিরভাগ মানুষ এর চেয়ে বেশি সময় নিয়েছেন।
বেশি করে পড়ুন এবং দ্রুত পড়ুন

আপনি যখন লিখবেন তখন পড়াটাও জরুরী। তবে নিজের লেখাটাই পড়ুন একটু বেশি। দ্রুত পড়ুন। অন্যকে দিয়েও পড়ান। যদি বেশি করে পড়েন তবে নিজের কোথায় ভুল হচ্ছে তা বুঝতে পারবেন। দ্রুত পড়তে গেলে বুঝতে পারবেন আপনি কোথায় অস্পষ্ট করে লিখেছেন। সহকর্মী কিংবা
বন্ধকে দিয়ে পড়ান দেখুন তারা দ্রুত পড়তে পারে কি না। যদি পারে তবেই বুঝবেন উন্নতি হচ্ছে।
কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলুনঃ

লেখায় ভুল হয়, এই ভুলের মাত্রা কমানোর চেষ্টা করুন। কাটাকাটি করা মানুষের অনেক পুরনো অভ্যাস। তাই একটানে কেটে আবার লিখুন। কাগজের একপাশে খালি জায়গা রেখে লেখা শুরু করুন। এই খালি যায়গা হচ্ছে মার্জিন। বাম ডান এবং উপর নিচে যথেষ্ট জায়গা রাখুন। অভার রাইটিং কখনোই করবেন না। এটা বিরক্তিকর। ভাল কলমে লিখুন। খারাপ কলমে দ্রুত লেখা যায় না।
আরো অনেক বিষয় আছে যা লিখতে গেলে আপনার নিজে থেকে চলে আসবে। একসময় আপনাকে সুন্দর এবং দ্রুত লেখা দিয়ে কেউ পিছে টানতে পারবে না।
আলাদা আলাদা কলম ব্যবহার করুন

হাতের লেখা সুন্দর করতে বা আপনি যে খাতাটায় লিখছেন সেখানে আপনার লেখা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে আলাদা আলাদা কলম ব্যবহার করুন। যেমন লেখায় পয়েন্ট করতে জেল পেন, পয়েন্টিং ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে মার্কার পেন এবং স্বাভাবিক লেখার জন্য বলপেন ব্যবহার করুন। বলপেন আপনার লেখা দ্রুত লিখতে সাহায্য করবে আর জেল ও মার্কার পেন আপনার লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।
লেখার সময় কলম খুব জোরে চেপে ধরবেন না

লিখতে গিয়ে কখনই কলম খুব বেশী চেপে ধরবেন না। চেপে ধরলে আপনার লেখার গতি কমে যাওয়ার সাথে সাথে লেখার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই আজ থেকেই লেখার সময় কলম সামান্য আলগা করে ধরার অভ্যাস করুন লেখার ধরণ সুন্দর হওয়ার সাথে লেখাও দ্রুত হবে।
লেখার সময় খেয়াল রাখুন লেখা যেন জড়িয়ে না যায়

আমরা অনেক সময় দ্রুত লিখতে গিয়ে একটার সাথে আরেকটা অক্ষর এমনভাবে জড়িয়ে লিখি যে কোনটা কি আলাদা করে বোঝার উপায় থাকেনা। এতে লেখা দ্রুত না হয়ে বরং কাটাকাটি করতে গিয়ে সময় ক্ষেপণ বেশী হয়। তাই লিখতে গিয়ে লেখা যাতে জড়িয়ে না যায় সেদিকে নজর রাখুন, দেখবেন লেখা নিজে থেকেই সুন্দর হয়ে যাচ্ছে।
লেখা খুব বেশী বড় বড় করে লিখবেন না

লেখার সৌন্দর্য বজায় রাখতে যতোটা পারেন ছোট অক্ষরে লিখতে চেষ্টা করুন। ছোট বলতে মোটামুটি মাঝারি আকার। বড় বড় লেখা আপনার লেখার সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুত লেখার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
হাতের পাশাপাশি বাহুকে লেখাতে সংযুক্ত করুন

এটা ঠিক লেখার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশী হাতের প্রয়োজন পরে। কিন্তু দ্রুত লিখতে গেলে আপনাকে হাতের পাশাপাশি বাহুকেও ব্যবহার করতে হবে। আপনি যদি শুধুমাত্র হাত শক্ত করে লিখে যান লেখা খারাপ হবে ও সময় বেশী লাগবে। তাই লেখার সময় হাত শক্ত না রেখে শিথিল করে লিখুন ও হাতের বাহুর ব্যবহার ঘটান, এতে লেখা দ্রুত ও সুন্দর হবে।
লিখা সুন্দর করার জন্য ফলপশু পদ্ধতি

• লেখার স্টাইল বা ধরণ (যেমন, সোজা/খাড়া বা বাঁকা/কাত) যে রকমই হোক না কেন, অক্ষরগুলোর আকার ও আকৃতি একই রকম হতে হবে। অক্ষর ছোট-বড় বা মোটা-চিকন করা যাবে না।
• এমন কিছু অক্ষর আছে যেগুলো সঠিকভাবে লিখতে পারলে অন্য অনেক অক্ষরও ভালো ভাবে লেখা যায়। যেমন, ‘ব’ সুন্দর করে লিখতে পারলে আরো লেখা যায় ‘ক’ ‘র’ ‘ধ’ ‘ঝ’ বা ‘ঋ’। আবার কিছু অক্ষর-এর অংশ বিশেষ ব্যবহার করা যায় অন্য অক্ষর-এর মধ্যে।
• শব্দ লেখার ক্ষত্রে, অক্ষরগুলোর মধ্যে কম কিন্তু সমান দূরত্ব রাখতে হবে। প্রতিটি শব্দের মধ্যে কমপক্ষে একটি অক্ষরের পরিমাণ দূরত্ব থাকতে হবে।
• অবশ্যই লাইন সোজা হতে হবে। লাইন সোজা করতে শুরুতে দাগ টানা খাতায় লেখা চর্চা করা যেতে পারে।
• লেখার কগজের বামে, ডানে, উপরে ও নীচে সঠিক মার্জিন রাখতে হবে। প্রয়োজনে, ভাঁজ করা অথবা দাগ টেনে নেওয়া যেতে পারে।
কোনো শব্দ বা লাইন ভুল হলে তা এক দাগে কেটে দিতে হবে। বেশী কাটাকাটি করা যাবে না।
• দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, ‘আ’কার-‘ই’কার ইত্যাদি ছোট ছোট অংশের প্রতি নজর দিতে হবে। বিন্দু বা গোল চিহ্ন-গুলো সঠিকভাবে গোল করতে হবে।
খেলাধুলা বা পড়ালেখার মত, হাতের লেখা ভালো করার ক্ষেত্রে নিয়মিত চর্চার বিকল্প নেই। প্রথমে আস্তে আস্তে ভালো করে লিখতে হবে। পরবর্তীতে দ্রুত লিখলেও লেখা ভালো হবে।

About Parves Ahmed

Check Also

আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করার পদ্ধতি

আকর্ষণীয় সিভি তৈরি করার পদ্ধতি

একটি সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত হল চাকুরিদাতার কাছে আপনাকে সঠিক ভাবে উপস্থাপন করার একটি মাধ্যম। একটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *