Home / ফিচার / জীবনযাপন / ​কখন বুঝবেন আপনি ফেসবুকে ভয়াবহভাবে আসক্ত?
​কখন বুঝবেন আপনি ফেসবুকে ভয়াবহভাবে আসক্ত

​কখন বুঝবেন আপনি ফেসবুকে ভয়াবহভাবে আসক্ত?

নেশা—আমাদের সবারই খুব পরিচিত একটা শব্দ। আমরা হরহামেশাই শুনি, অমুক ভাইয়ের খেলা দেখার খুব নেশা। কিংবা তমুক আপুর হিন্দী সিরিয়াল দেখার নেশা। আবার অমুকের মদের নেশা আছে, তমুকের ড্রাগস এর নেশা, এসবও আমরা শুনি।

এই নেশার জগতে সর্বশেষ জনপ্রিয় এবং “ডিজিটাল” সংযোজন হলো “ফেসবুক” এর নেশা। যত দিন যাচ্ছে, এই নেশা ততই ব্যাপক আকারে দেখা দিচ্ছে। এমনকি চিকিৎসকেরাও একে “Facebook Addiction Disorder” নামে একটি রোগে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

এই নেশায় অথবা রোগে আপনি ভয়ংকরভাবে আসক্ত কিনা, কিভাবে বুঝবেন?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার সর্বপ্রথম কাজ হলো ফেসবুকে ঢুকে চেক করা। এমনকি খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়েও আগে ফেসবুকে ঢোকা। আবার ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও আপনার সর্বশেষ কাজ যদি হয় ফেসবুক চেক করা।

ফেসবুক ছাড়া আপনার কাছে বাকি সব অর্থহীন মনে হয়। আপনি কোন কিছুতে আনন্দ পান না, মজা পান না। দিনের অল্প কিছু সময়ও যদি আপনি ফেসবুকে না ঢুকতে পারেন, আপনার বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যেমনঃ ঘুম না আসা, অস্থির লাগা, ঘাম হওয়া, অল্পতেই রেগে যাওয়া ইত্যাদি।

ফেসবুকে সারাদিন আপনার বসে থাকতে ভালো লাগে। একারণে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে, অফিসের মিটিং এ আপনি অংশ নেন না, পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে আপনি যান না। অথচ এসবে আপনার কোন বিকার নেই। আপনি নির্বিকার।

কয়েকদিনের জন্য হলেও যদি আপনাকে ফেসবুক থেকে দূরে থাকার জন্য জোর করা হয়, হতে পারে আপনার পরিবার থেকে, কিংবা অফিসের পিসিতে ফেসবুক ব্যবহার করা না যায়, আপনার ভিতরে চরিত্রগত কিছু অস্বাভাবিকতা আসে। আপনি কোন কাজেই আগ্রহ পান না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এমনকি ফেসবুক ব্যবহার করার জন্য যদি আপনার নিজের পিসিও না পান, আপনি দরকার হলে আপনার বন্ধুর এমনকি অপরিচিত লোকেরও মোবাইল অথবা পিসিতে ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফেসবুকের আপডেট আপনার চাই ই চাই। চিকিৎসকেরা একে সনাক্ত করেছেন “Facebook Withdrawal Syndrome” নামে।
ফেসবুকে আপনার কোন নোটিফিকেশন নেই। ইনবক্সে কোন মেসেজ নেই। আপনি চ্যাটও করছেন না। তারপরও আপনি ঘন্টার পর ঘণ্টা ফেসবুকের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই থাকেন।

বাস্তব জীবনে আপনি মোটেও সুখী নন। কিন্তু ফেসবুকে আপনি সবাইকে দেখাতে চান, আপনি অনেক মজায় আছেন, আনন্দে আছেন। একটা ফ্যান্টাসির জগৎ সৃষ্টি করতে চান আপনি।

ফেসবুকে সারাদিন, সারারাত থাকার কারণে আপনার রাতে ঘুমও ঠিকমত হয় না। শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অথচ আপনি নির্বিকার।

ফেসবুকে ঢুকলেই আপনি নস্টালজিয়ায় ভোগেন অথবা ভুগতে চান। পুরোন প্রেমিক/প্রেমিকা কিংবা বন্ধুদের ছবি দেখতে চান, তাদের প্রোফাইলে ঢুঁ মারতে চান। আগে আপনার জীবন কেমন ছিল, এখন কেমন আছেন এসব ভেবে উদাস হয়ে যান। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই উদাস থাকতে বা নস্টালজিয়ায় ভুগতেই আপনার ভালো লাগে।

ফেসবুকে আপনার হাজার হাজার বন্ধু থাকার পরও যদি আপনি নিঃসঙ্গ বোধ করেন। আপনি ভাবেন, আমার কোন ভালো বন্ধু নেই।

About Parves Ahmed

Check Also

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেষজ চা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেষজ চা

সকালে উঠে এক কাপ গরম চা, বৃষ্টি ভেজা দিনে ধুমায়িত চায়ের চুমুক, এসব কি কারও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *