Home / পড়ার বিষয় / পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস
পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

পড়ুন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস

বিশ্ব অর্থনীতির অনেকটাই নির্ভর করে ব্যবসা-বানিজ্যের উপর। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস পড়ে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাবেন আপনি।

 

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সম্পর্কে বিস্তারিত

লিখেছেন- শাহিনুজ্জামান।

সভ্যতার আদি ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভব করেছিল বিনিময় প্রথার। আর তারই ধারাবাহিকতায় সভ্যতার বিবর্তন ও কালের পট পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বায়নের, তৈরি হয়েছে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক। মানুষের চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটেছে, উদ্ভব হয়েছে বিশ্ব বানিজ্যের। এই বানিজ্য প্রসারের জন্য পয়োজন হয়েছে পরিকল্পনামাফিক কিছু পদ্ধতির। এই পদ্ধাতগুলো জেনে আন্তর্জাতিক বানিজ্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়তে পারেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস।

 

কোথায় পড়বেন?

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীনে এই বিষয়ে শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে। সময়ের পথ পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে সময়োপযোগী এই বিষয়টি খোলা হয়। ২০০৭ সালে। এখানে চার বছর মেয়াদী বিবিএসএ এমবিএ এবং সান্ধ্যকালীন এমবিএ চালু রয়েছে। এছাড়া দেশের বাইরে অনেক দেশেই এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাডা,ভারত, অস্টোলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য।

 

ভর্তি যোগ্যতা ও পরীক্ষা পদ্ধতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়ে ভর্তি হতে হলে আপনাকে ‘গ’ ইউনিট ও বিভাগ পরিবর্তনকারী ‘ঘ’ ইউনিট এর মাধ্যমে ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিতে হবে। এজন্য বাংলাদেশের যে কোনো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড হতে ‘গ’ ইউনিটের জন্য বানিজ্য বিভাগ হতে কমপক্ষে জিপিএ ৫.০০ এর স্কেল ৩.০০পেতে হবে। ‘ঘ’ ইউনিটের জন্য একই শর্ত প্রয়োজ্য। তবে বাংলা ও ইংরেজিতে পৃথকভাবে ‘বি’ গ্রেড থাকতে হবে। ভর্তিচ্ছুক এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১২০ নম্বরের ভর্তি পরিক্ষা দিতে হবে।

 

এমবিএ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সকল ডিপার্টমেন্টে ৪ বছর মেয়াদী বিবিএ ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীর আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে এমবিএতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। ইভনিং এমবিএ সবার জন্য উম্মুক্ত। তবে এখানে ভর্তি হতে হলে আপনাকে অবশ্যেই ৮ বছর মেয়াদি সম্পন্ন ডিগ্রি থাকতে হবে এবং ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

 

যে বিষয়গুলো পড়ানো হয়

প্রিন্সিপল অব ম্যানেজমেন্ট, প্রিন্সিপল অব একাউন্টিং, বিজনেস ম্যাথমেটিক, কম্পিউটার অব অ্যাপলিকেশনস ইন বিজনেস, ফান্ডামেন্টাল অব ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, মাইক্রো ইকনমিক, প্রিন্সিপাল অব ফিন্যান্স প্রিন্সিপাল অব মার্কোটং, ইন্টান্যাশনাল ইন্টাপ্রেনারশিপ ডেভলপমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, গ্লোবালাইজেশন অ্যান্ড বিজনেস, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন গ্লোবাল বিজনেস, ই-বিজনেস, ইনস্টিটিউশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকিং করপোরেট গভর্নেন্স বাংলাদেশ আন আন্টারন্যাশনাল বিজনেস।
এমবিএ: নেগোসিয়েশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, রিজিওনাল ইকনমিক ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড ট্রেড ব্লকস, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অরগানাইজেশন অব গ্লোবাল ইকনমি, গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউট।

 

ক্যারিয়ার সম্ভাবনা

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য থাকে লেখাপড়া শেষে সেই বিষয় অনুযায়ী একটি ভালো চাকরি পাওয়া। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে বিষয়ভিত্তক চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও দেশে ও বিদেশে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। পত্রিকার পাতা খুললেই যে চাকরির বিজ্ঞাপনগুলো দেখা যায় সেগুলোতে চাকরি প্রার্থীর যে যোগ্যতা চাওয়া হয় বিষয়টি এ কথার সত্যতা প্রমান করে।

 

অভিমত

‘বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে হলে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস পড়তে হবে’
অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক-চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আমি যতদূর জানি বাংলাদেশের অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়টি চালু নেই। তবে UGC চিন্তা ভাবনা করছে আরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি পড়ানো যায় কিনা। বিশ্বায়নের এই যুগে এই বিষয়টির চাহিদা অন্যান্য দেশে ব্যপক। এছাড়া এই বিষয়টির ওপর উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড ও অস্টোলিয়াতে। এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে কম-বেশি পড়াশোনার সুযোগতো রয়েছেই। বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এর গুরুত্ব সর্বাধিক। উদাহারনস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প। এই শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদনি করতে হয় এবং উৎপাদিত পন্য চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস পড়তেই হবে। এই বিষয়ে পড়াশোনা শেষে একজন শিক্ষর্থীর বসে থাকার কোনো অবকাশ নেই। কারণ অর্থনীতির অনেকেই নির্ভর করে ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর। আর ব্যবসা বহুমুখীভাবে প্রসারিত হচ্ছে। সুতরাং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলেও বিষয়টি গুরুত্বপুর্ণ ।

About Muhammad Faisal

Muhammad Faisal
একরাশ স্বপ্ন মুঠোয় করে হাটছি অবিরাম..........

Check Also

ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং

ব্যাচেলর সায়েন্স ইন নার্সিং

একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি অপরিহার্য। আর কর্মক্ষম জনশক্তির জন্য সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *